আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০১৭ ২২:০৯

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া চিকিৎসক ও নার্সরা হজে যেতে পারবেন না

অনলাইন ডেস্ক
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া চিকিৎসক ও নার্সরা হজে যেতে পারবেন না

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে যারা চিকিৎসক ও নার্সরা কর্মরত আছেন তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কেউ হজে যেতে পারবেন না। তিনি আরো বলেন, অনুমতি ছাড়া যদি কেউ হজে যান তবে কারো চাকরি থাকবে না।

স্বাস্থমন্ত্রী নাসিম আজ (১৭ আগস্ট) বৃহস্পতিবার বিকালে একথা জানিয়েছেন বলে জানান, নার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামাল হোসেন পাটওয়ারী। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজমুন নাহার হাজিদের সেবায় সৌদি আরবে যেতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন (জিও) পেয়েছেন। ভিসাও হয়ে গেছে। কিন্তু তাঁর সৌদি গমনে বাদ সেধেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফয়সাল হোসেনও একই কারণে সৌদি যেতে পারছেন না।

ডা. ফয়সাল ও নাজমুন নাহারের মতোই অভিন্ন কারণে এবার হাজিদের মেডিক্যাল ও সহায়ক টিমে শামিল হয়েও সৌদি আরবে যেতে পারছেন না শতাধিক চিকিৎসক ও নার্স। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্র, সৌদি আরবের ভিসা, বিমানের টিকিট সবই তাঁদের হাতে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব দিলসাদ বেগম স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে তাঁদের সবার সৌদি যাওয়ার ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এ অবস্থায় ওই সব চিকিৎসক ও নার্স বুধবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ে হাজির হয়ে বিষয়টি ধমমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন।

সৌদি আরবের ভিসা হয়েছে এমন একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘পবিত্র হজব্রত পালনে বাংলাদেশিদের সেবা করার জন্য মনোনীত হয়ে আমরা সৌদি আরবের ভিসাও পেয়েছি। কিন্তু আমাদেরকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন, পুলিশসহ বিভিন্ন স্থানে পত্র দিয়ে আমাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই অবস্থানকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে অভিযোগ করেছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও। ’

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানান, তাঁরা সবাই সরকারি হাসপাতালে কর্মরত। তাঁরা নিজেরাও ভালোভাবেই জানেন যে কিভাবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া লাগে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাঁদের সৌদি আরবে যাওয়ার পথ বন্ধ করে রেখেছে।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (সেবা ও সুরক্ষা বিভাগ) সিরাজুল হক খান বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছেন। তাই মন্ত্রণালয়ের পক্ষে আটকে পড়াদের জন্য কিছুই করার নেই। তিনি এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে মন্ত্রীর মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাঁর একান্ত সহকারী সচিব মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মন্ত্রী এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কোনো কথা বলবেন না। ’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সৌদি আরবে যেতে যাঁদের বাধা দিচ্ছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক ১১ জন, নার্স ৩৩ জন, ফার্মাসিস্ট, প্যারামেডিক, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক ১৬ জন এবং বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্মকর্তা ১৮ জন।

উপরে