আপডেট : ৫ জুলাই, ২০১৬ ১১:০৫

আহত দুজনকে ঘিরে রহস্য, নানা প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক
আহত দুজনকে ঘিরে রহস্য, নানা প্রশ্ন

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনায় আহত অবস্থায় পুলিশের হাতে ‘আটক’ দুই ব্যক্তিকে নিয়ে ব্যাপক রহস্য ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ১৯-২০ বছরের এক তরুণকে গত শনিবার সকালে ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ নামের অভিযান চালানোর আগ মুহূর্তে রেস্তোরাঁটির এক পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আর অভিযান শেষে সেদিন দুপুরের দিকে পাশের নতুনবাজারের চেকপোস্ট থেকে ৪০-৪৫ বছরের এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় আটক করে পুলিশ। গুরুতর আহত ওই ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। হাসপাতালে এ দুজনেরই চিকিৎসা চলছে পুলিশ পাহারায়।

গতকাল সোমবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক এ ঘটনায় দুজনকে আটকের কথা জানিয়েছেন। তবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি। রাজারবাগ পুলিশ লাইন মিলনায়তনে এক শোকসভা শেষে আইজিপি সাংবাদিকদের বলেন, ‘গুলশানের ঘটনায় সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।’ 

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াও বলেন, ‘গুলশান হামলায় দুজন সন্দেহভাজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।’

এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ‘আটক’ দুজনের মধ্যে কম বয়সী তরুণের নাম জাকির হোসেন শাওন। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার নয়াপাড়ায়। তার মা-বাবা দুই দিন ধরে ছেলের খোঁজে গুলশানে ঘুরে ফিরছেন। তাঁরা বলছেন, শাওন ওই রেস্তোরাঁয় বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করত। শাওন কোথায় আছে স্বজনরা জানে না।

তবে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক দিন শাওনকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর গতকাল বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শাওন হামলাকারী দলের সদস্য। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে সে পালানোর চেষ্টা করেছিল। আরেক সন্দেহভাজন ব্যক্তি ইউনাইটেড হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন। তাঁকে আটকের সময় তিনি আহত হওয়ার ব্যাপারে সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। তাঁর শরীরে স্প্লিন্টার ও ছোড়া গুলির জখম রয়েছে।

অভিযানের সময়ের প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, আটকের সময় শাওন খালি গায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল। এ সময় তার ব্যাপারে কোনো তথ্যই জানা যায়নি। অভিযানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তখন বলেন, ‘হামলাকারীদের একজন জীবিত ধরা পড়েছে।’

এদিকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক সূত্র জানায়, জিম্মি অবস্থা থেকে উদ্ধার হওয়া ১৩ জনসহ অন্তত ২৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ডিবি। অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হলেও অন্তত দুজন এখনো পুলিশ হেফাজতে আছেন। তাঁরা হলেন তাহমিদ হাসিব খান ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজা করিম।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে কোন দুজনকে আটক করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে। পুলিশের হেফাজতে যে দুজন আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে তারা আটক, নাকি জিম্মিদশা থেকে মুক্ত যে দুজন ডিবি হেফাজতে, তারা আটক?

শাওনের মা-বাবার কান্না : গত রবিবার বিকেলেই শাওনের মা মাহমুদা বেগম গুলশানের ঘটনাস্থলের কাছে এসে সন্তানের খোঁজে বিলাপ শুরু করেন। গতকাল সকালেও স্বামী আবদুস সাত্তারকে নিয়ে সেখানে হাজির হন তিনি। তাঁরা শাওনের ছবি দেখিয়ে তার খোঁজ করেন। এ সময় এক সাংবাদিক মোবাইল ফোনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক তরুণের ছবি দেখালে তাঁরা শনাক্ত করেন। ছেলের ছবি দেখে মাহমুদা ও সাত্তার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা বলেন, তাঁদের ছেলে হলি আর্টিজান বেকারি ও ওকিচেন রেস্টুরেন্টের সেপের (বাবুর্চি) সহকারী হিসেবে কাজ করত। গত শুক্রবার সেখানে জঙ্গি হামলার পর থেকে শাওনের কোনো খোঁজ পাননি তাঁরা। মা-বাবার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জেই থাকত শাওন। তিন ভাইয়ের মধ্যে শাওন বড়। অন্য দুজন হলো আবদুল্লাহ ও আরাফাত।

মাহমুদা বেগম কেঁদে বলেন, শুক্রবার রাতে মোবাইল ফোনে শাওনের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছে। তখন ছেলে জানিয়েছিল বোনাস হয়েছে, বেতন পাবে রবিবার। তারপর বাসায় আসবে। পরে টেলিভিশন দেখে মা মাহমুদা জানতে পারেন রেস্তোরাঁয় গণ্ডগোল হয়েছে। এর পর থেকে শাওনের মোবাইল ফোন বন্ধ পান তিনি। টিভিতে এ ঘটনা দেখে শুক্রবার রাতেই মাহমুদা গুলশান চলে আসেন। তবে কোথাও শাওনের খোঁজ পাননি। বাবা সাত্তার জানান, এক বছর আগে শাওন ওই রেস্তোরাঁয় কাজ নেয়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/বুলা

 

উপরে