আপডেট : ১৮ মে, ২০১৬ ১৭:২০

জুলাই থেকে বন্ধ হয়ে যেতে পারে লক্ষাধিক সরকারি চাকরিজীবীর বেতন!

অনলাইন ডেস্ক
জুলাই থেকে বন্ধ হয়ে যেতে পারে লক্ষাধিক সরকারি চাকরিজীবীর বেতন!

জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর গেজেট প্রকাশের পর সব সরকারি চাকরিজীবীর জন্য বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে বেতন নির্ধারণের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। গত বছর ১৫ ডিসেম্বর থেকে এই বেতন নির্ধারণ চালু করেছে সরকার।

তবে এখনো লক্ষাধিক সরকারি চাকরিজীবী অনলাইনে নিজের বেতন নির্ধারণের কাজটি শেষ করতে পারেননি বা করেননি।যে কারণে আগামী জুলাই থেকে এসব সরকারি কর্মীর বেতন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ১০ লাখ ২৬ হাজার কর্মচারী অনলাইনে বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ করেছেন। এর মধ্যে ৯ লাখ ৪৮ হাজার চাকরিজীবীর বেতন নির্ধারণের তথ্য যাচাই হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারের রাজস্ব খাত থেকে বেতন ভোগ করেন এমন চাকরিজীবীর প্রকৃত সংখ্যা কত তা সরকারের কাছে নেই। যে কারণে স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না এখনও কতজন কর্মীর অনলাইনে বেতন নির্ধারণ বাকি রয়েছে। তবে ধারণা করা যায়, ৫ থেকে ১০ শতাংশ বা এক লাখের বেশি চাকরিজীবী এখনও বাকি রয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রধানত যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই এবং যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র আছে, কিন্তু পরিচয়পত্রের তথ্য ও চাকরির নথিপত্রে দেওয়া তথ্যের মধ্যে মিল নেই, তারা অনলাইনে বেতন নির্ধারণ করতে পারেননি। কিছু কর্মী আছেন যারা সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও আলসেমি করেই এখনও করেননি। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে বা জাতীয় পরিচয়পত্রের সংশোধনীতে সহায়তা করতে নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ অনুরোধ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সরকারি চাকরিজীবীদের নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার ও আধুনিক পে রোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরির জন্য সরকার অনলাইনে বেতন নির্ধারণের এই উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি ব্যয়ের নির্ভুল হিসাব হবে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ বেতনের প্রত্যয়নপত্র তৈরি হবে এবং অবসরে যাওয়া কর্মীদের পেনশন প্রস্তাব দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। সকল সরকারি চাকরিজীবী অনলাইনে বেতন নির্ধারণ না করায় এই তথ্যভাণ্ডারটি সম্পূর্ণ হচ্ছে না। যে কারণে সরকারের কিছু সংস্কার কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অনলাইনে বেতন নির্ধারণের জন্য একজন চাকরিজীবীকে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে লগ ইন করতে হয়। এরপর একটি নতুন পেজ আসে, যেখানে নির্ধারিত ছকে তার চাকরিতে যোগদানের সময় দেওয়া তথ্য ও কিছু হালনাগাদ তথ্য যেমন যোগদানের তারিখ ও পদ, বর্তমান পদ বা গ্রেড, বেতন, জন্মতারিখ, স্থায়ী ঠিকানা ইত্যাদি তথ্য দিয়ে সাবমিট করতে হয়। এ সাবমিশনের পরে তথ্য অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টস অফিসে চলে যায়। অ্যাকাউন্টস অফিস তার তথ্য যাচাই করে সবকিছু ঠিক থাকলে অনলাইনে বেতন নির্ধারণ শেষ হয়েছে তাকে মোবাইলে এসএমএস করে জানিয়ে দেয়া হয়।

আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে যেসব কর্মী অনলাইনে বেতন নির্ধারণ প্রক্রিয়া শেষ করতে পারবেন না, তাদের জুলাই থেকে বেতন পরিশোধ বন্ধ থাকবে। যখন অনলাইনে বেতন নির্ধারণ করবেন, তখন সব বকেয়া বেতন একসঙ্গে পাবেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে