আপডেট : ২৭ মার্চ, ২০১৬ ১০:৫৪

ঘুষ নেওয়ার দায়ে দুই এসআই সাময়িক বরখাস্ত

অনলাইন ডেস্ক
ঘুষ নেওয়ার দায়ে দুই এসআই সাময়িক বরখাস্ত

ঘুষ নেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও এক সহকারী উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এরা হলেন, এসআই দেবাশীষ ও এএসআই শফিয়ার।

শনিবার (২৬মার্চ) দিবাগত রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কর্তৃপক্ষ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, শুক্রবার (২৫মার্চ) রাতে রাজধানীর একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে অভিযান চালিয়ে এস আই দেবাশীষ তিনজনকে আটক করেন। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪৫টি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। পরে তাদেরকে থানায় আনা হয়। ওই তিনজনের বাড়ি কুড়িগ্রামে।

বিষয়টি এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে জানান। এসময় তিনি শেরেবাংলা থানার ওসিকে জানান, পাসপোর্টগুলো যদি বৈধ হয়ে থাকে তবে আটকৃতদের যেন ছেড়ে দেয়া হয়। ওসি থানার বাইরে থাকায় বিষয়টি ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদকে জানান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

কিন্তু পরে জানা যায়, এসআই দেবাশীষ তাদেরকে না ছেড়ে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে আটকদের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দেবাশিষ বরখাস্তকৃত এএসআই শফিয়ারের (ছুটি নিয়ে কুড়িগ্রামে ছিলেন) কাছে এ টাকা দিতে বলেন। ওই রাতেই আটকৃতদের স্বজনরা ৭০ হাজার টাকা শফিয়ারকে প্রদান করলে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু পাসপোর্টগুলো ফেরত দেয়া হয়নি।

শর্ত ছিল বাকি ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা প্রদানের পরই পাসপোর্টগুলো ফেরত দেয়া হবে।

ডিসি আরো বলেন, আমি ধরে নিয়েছিলাম আটকৃতদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু একই ভাবে টেলিফোনে জানতে পারি, ঘুষ নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এসআই দেবাশীষ ও এএসআই শফিয়ারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ঘুষ নেয়া টাকা ফেরত ও শফিয়ারকে আজ থানায় যোগদান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।

ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানার ওসির কোন অবহেলা রয়েছে কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি বিপ্লব বলেন, ঘটনার সময় স্বাধীনতা দিবসের ডিউটিতে তিনি থানার বাইরে ছিলেন। তিনি থানার ওসি তদন্তকে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে