আপডেট : ২৩ মার্চ, ২০১৬ ০৮:৫৮

সন্দেহভাজনদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

বিডিটাইমস ডেস্ক
সন্দেহভাজনদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ কোটি ডলার চুরি ঘটনায় ব্যাংকটির সন্দেহভাজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দেশত্যাগের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দেশের সব কটি বিমানবন্দর, সমুদ্র ও স্থলবন্দরে এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা পাঠিয়েছে চাঞ্চল্যকর এ মামলা তদন্তে থাকা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গভর্নর থেকে শুরু করে সব থেকে নিচু স্তরের কর্মচারী পর্যন্ত প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত প্রায় আট হাজার স্টাফ এর আওতায় রয়েছেন। সিআইডির সবুজ সংকেত ছাড়া কেউ দেশের বাইরে যেতে পারবেন না বলে নিশ্চিত করেছেন একাধিক সূত্র। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় সাড়ে চার হাজার কম্পিউটারের মধ্যে ৫০টি কম্পিউটার টার্গেট করে এগোচ্ছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। সমন্বয় রাখা হচ্ছে এফবিআই, সুইফ্ট, ফায়ার আই, ইনফরমেটিক্সসহ প্রতিটি তদন্ত টিমের সঙ্গে। এর বাইরে গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে গতকাল কথা বলেছেন সিআইডির কর্মকর্তারা। গতকাল বিকাল ৪টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তারা তার দফতরে কথা বলেন।

সূত্রমতে, ইতিমধ্যে অ্যাকাউন্টস, বাজেট, ফরেন এক্সচেঞ্জ এবং ব্যাক অফিস অব ডিলিং রুমের (সুইফ্্ট রুম) ২৫টি কম্পিউটারের ডিজিটাল ইমেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। বাকিগুলোর ইমেজ সংগ্রহের পর শুরু হবে ফরেনসিক বিশ্লেষণ। এর বাইরে তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলছেন তারা। এর মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তবে এ পর্যন্ত তাদের সবাই তদন্তসংশ্লিষ্টদের সহায়তা করছেন বলেই নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, কারও কথা সন্দেহজনক মনে হলেই তাকে তত্ক্ষণাৎ আটক করা হবে। আবার ৫০টি সন্দেহজনক কম্পিউটারে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য না পাওয়া গেলে পরে আরও কম্পিউটারের ইমেজ নেওয়া হবে। সূত্র আরও জানান, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ফিলিপাইনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এর বাইরে ফিলিপাইনে এ ঘটনায় তদন্তসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। ফিলিপাইন থেকেই হয়তো তারা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাবেন যা তদন্তে অনেক সহায়তা করবে। আদালতের অনুমতির পরই তারা ফিলিপাইনে যাবেন। ওই টিমে তদন্তসংশ্লিষ্টদের বাইরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা থাকবেন বলে জানা গেছে। সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক শাহ্্ আলম বলেন, ‘ডিআইজি সাইফুল ইসলাম স্যারের নেতৃত্বে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দেখা করেছি। কোন কোন ক্ষেত্রে আমাদের সহায়তা লাগবে আমরা তাকে জানিয়েছি। একই সঙ্গে এ পর্যন্ত আমরা কী কী করেছি তাকে অবহিত করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মন্তব্য করার মতো কোনো অবস্থানে নেই। তবে এতদিন আমরা তথ্য সংগ্রহ করলেও সোমবার থেকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। এ ছাড়া এ ঘটনায় দেশি ও বিদেশি সংস্থার সদস্যরা যারা কাজ করছেন তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে।’ তদন্ত সূত্রমতে, দীর্ঘদিন ধরেই অরক্ষিত ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিসংবেদনশীল ‘ব্যাক অফিস অব ডিলিং রুম’ (সুইফ্ট সার্ভার কক্ষ)। নড়বড়ে ছিল অতিগুরুত্বপূর্ণ ওই কক্ষের নিরাপত্তাব্যবস্থা। দেশের অন্যান্য বেসরকারি ব্যাংকে নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থে ব্যাক অফিসের সার্ভারকে ব্যাংকের মূল লেন থেকে আলাদা রাখা হলেও ব্যতিক্রম ছিল খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অতিগুরুত্বপূর্ণ এ ইউনিটে কর্মকর্তাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞানের পরিধি নিয়েও বিস্মিত তদন্তসংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র দাবি করছে, হ্যাকারদের আক্রমণে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুরো সার্ভারব্যবস্থা তছনছ হয়ে গেছে। ফলে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা কম্পিউটারের হার্ডডিস্কেরও অপূরণীয় ক্ষতি করেছে, যা একেবারে বদলে ফেলতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তথ্যের জোগান পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাকআপ সার্ভারেও তারা প্রবেশ করেছিল। সেখানেও ক্ষতিকর ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছে। রিজার্ভ চুরির জন্য সার্ভার হ্যাক করতে তারা যে ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা ভাইরাস (ম্যালওয়্যার) ছড়িয়ে দিয়েছে তাকে পুরোপুরি ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করতে আরও সময়ের প্রয়োজন। পুরো সার্ভারব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হলে অ্যান্টি-ভাইরাস জাতীয় শক্তিশালী নতুন সফটওয়্যারের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

সূত্র-বাংলাদেশ প্রতিদিন

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে