আপডেট : ২০ মার্চ, ২০১৬ ১৪:৪০

রাস্তা দখল করে ২০০ দোকান

বিডিটাইমস ডেস্ক
রাস্তা দখল করে ২০০ দোকান

সড়ক দখল করে গড়ে তোলা মতিঝিল এজিবি কলোনির কাঁচাবাজারটিকে ‘অবৈধ’ বলে ১৪ মার্চ উচ্ছেদ করেছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। কিন্তু উচ্ছেদের দুই দিনের মাথায় একই স্থানে আবার শুরু হয়েছে দোকানঘর নির্মাণকাজ। এবার রীতিমতো ইটের দেয়াল তুলে পাকা দোকান করা হচ্ছে।

কলোনির কয়েকজন বাসিন্দা ও দোকানি জানিয়েছেন, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের নামে বরাদ্দ নেওয়ার কথা বলা হলেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বেছে বেছে দোকান বরাদ্দ দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের একাধিক স্থানীয় নেতা। তবে তাঁরা ওই নেতার নাম বলতে রাজি হননি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) রাজস্ব ও সম্পত্তি বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, এজিবি কলোনি কাঁচাবাজারে দোকান করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্র নামের একটি সংগঠনকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ এজিবি কলোনিবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সাল থেকে সব সরকারের আমলেই দফায় দফায় উচ্ছেদ করা হয়েছে অবৈধ এই কাঁচাবাজার।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন দেশের বাইরে থাকায় গতকাল তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল গত সন্ধ্যায় বলেন, তিনি যোগদান করার পর (গত সেপ্টেম্বর থেকে) এজিবি কলোনিতে কাঁচাবাজার নির্মাণের জন্য কোনো সংগঠনকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আগে দেওয়া হতে পারে। মেয়র দেশে ফেরার পর তিনি তাঁর সঙ্গে আলোচনা করবেন।

গতকাল শনিবার দুপুরে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কলোনির রাস্তার দুই পাশে যেসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল, সেগুলোর মেঝেতেই ইটের গাঁথুনি দিয়ে ঘরগুলো তোলা হচ্ছে। স্থানীয় দোকানিরা জানান, ১৪ মার্চ উচ্ছেদের পর ১৬ মার্চ আবার নির্মাণকাজ শুরু হয়। মাত্র দুই দিনে ৭০টির মতো দোকানের দেয়াল তোলার কাজ শেষ হয়েছে। দেখা যায়, নির্মাণাধীন দোকানগুলোর পাশে খালি জায়গায় চেয়ার পেতে আড্ডা দিচ্ছে কিছু লোক।

উচ্ছেদ হওয়া একটি মনিহারি দোকানের মালিকসহ তিনজন দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি সামনে এনে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলা হলেও আসলে দেওয়া হচ্ছে অন্য লোকদের। তাঁদের কাছ থেকে ছয় থেকে আট লাখ টাকা নেওয়ার প্রস্তাবও এসেছে বলে ওই দোকানিরা শুনেছেন। তাঁরা বলেন, উচ্ছেদের পর তাঁদের কাছেও দোকান নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু এত টাকা দেওয়া তাঁদের পক্ষে এখন আর সম্ভব নয়। এর আগে বিএনপির আমলে একজন মন্ত্রীর ভাইকে টাকা দিয়ে দোকান নিয়েছিলেন। তার সঙ্গে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরও ছিলেন। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেই সব দোকান ভেঙে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আবার দোকান বরাদ্দ নেন স্থানীয় একজন নেতাকে টাকা দিয়ে। আবারও ভাঙা পড়ে। ওই দোকানিরা থানা আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতার নাম করে বলেন, টাকা নেওয়ার ক্ষেত্রে এবার ওই নেতাই বড় ভূমিকা পালন করছেন।

এজিবি কলোনির কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কলোনির মধ্যে কাঁচাবাজার হতে পারে না। এ বাজারের কারণে কমলাপুর স্টেশনে

যাওয়ার রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেছে। বাজার নির্মাণের ব্যাপারে বারবার কলোনিবাসী এর বিরোধিতা করেছে। কিন্তু যে দলই ক্ষমতায় আসে, সে দলের ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা স্থানীয় নেতারা কলোনিবাসীর আবেদন অবজ্ঞা করে নিজেদের স্বার্থে এখানে বাজার বসাচ্ছেন। যে বাজার এলাকায় যানজট সৃষ্টির জন্যও অনেকটা দায়ী।

সূত্র-প্রথম আলো

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে