আপডেট : ২০ মার্চ, ২০১৬ ০৯:২৫

শাহজালালে নিরাপত্তা প্রহরায় থাকবে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ‘রেডলাইন’

বিডিটাইমস ডেস্ক
শাহজালালে নিরাপত্তা প্রহরায় থাকবে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ‘রেডলাইন’

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় একটি ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন করার পর খুব শিগগির ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চুক্তি হবে। বেবিচক সূত্র জানায়, দুই বছরের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের পেছনে ব্যয় হবে ৭৮ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন গতকাল শনিবার বিকেলে বলেন, ‘আগামীকাল (রোববার) ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, স্ক্যানিং ও প্রশিক্ষণের জন্য ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত করা হচ্ছে। কমিটির বৈঠকে প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিধি, আর্থিক বিষয় ও সময়ের বিষয়গুলো ঠিক করা হবে। আশা করি, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান আগামী সপ্তাহেই কাজ বুঝে নেবে।’
তবে যুক্তরাজ্যের দেওয়া চারটি প্রতিষ্ঠানের কোনটিকে বেছে নেওয়া হবে, সেটি রাশেদ খান মেনন জানাননি।
বিমান পরিবহনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গতকাল সকালে বেবিচক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেডলাইনকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকের একটি সূত্র এই প্রতিবেদককে জানান, রেডলাইনকে দুই বছরের জন্য এ কাজে ৭৮ কোটি টাকা দেওয়া হবে। তবে চুক্তিতে ছয় মাস পর প্রতিষ্ঠানটির কাজের মূল্যায়নের বিধান থাকছে। সরকার যদি প্রতিষ্ঠানটির কাজে সন্তুষ্ট না হয়, তবে চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে।
ওই বৈঠকের পর রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের বলেন, ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২১ মার্চের মধ্যে চুক্তি সই করা হচ্ছে।
এদিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন জাকির হাসান আজ রোববার লন্ডনে যাচ্ছেন। তিনি আজ সোমবার লন্ডনের হিথরো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন, যার মধ্য দিয়ে শাহজালালের নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি সম্পর্কে ধারণা মিলবে। পরের দুই দিন তিনি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় অংশ নেবেন।
নিরাপত্তার ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে’ ঘাটতি থাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহনে যুক্তরাজ্য ৮ মার্চ থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ৩১ মার্চ দুই দেশের সম্মত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী নিরাপত্তা জোরদারের কাজ শুরু না হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের যুক্তরাজ্যগামী সরাসরি ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা চিঠিতে এ কথা জানান।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ, ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও অঙ্গীকার তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ মার্চ ডেভিড ক্যামেরনকে চিঠির জবাব পাঠান। ওই চিঠিতে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে বিবেচনায় নিয়ে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে