আপডেট : ২০ মার্চ, ২০১৬ ০৯:১৮

বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাজ করেছেন তানভীর

বিডিটাইমস ডেস্ক
বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাজ করেছেন তানভীর

নিখোঁজ তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নানাভাবে কাজ করেছেন। একাধিক নথিতে এর প্রমাণ মেলে।

তানভীর নিখোঁজ হওয়ার পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করতে পারেননি। থানাও সাধারণ ডায়েরি নেয়নি।

গতকাল শনিবার রাজধানীর লেক সার্কাসের বাসায় তানভীরের চিকিৎসক স্ত্রী কামরুন্নাহার প্রথম আলোকে বলেন, যাঁদের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে তিনি কাজ করেছেন তাঁরাই এখন অসহযোগিতা করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরি তদন্তে সরকারি কোনো সংস্থা তানভীর জোহাকে অনুরোধ জানিয়েছিল কি না এ সম্পর্কে তাঁর কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকছেন এমন টিভি ফুটেজ তিনি দেখেছেন। ওই ফুটেজ থেকে নেওয়া একটি স্থির ছবিও আছে।

কামরুন্নাহার বলেন, ‘তানভীর হাসান জোহা এভাবে নিখোঁজ হয়ে যেতে পারেন না। আমি সরকারকে অনুরোধ করব, তাঁকে খুঁজে বের করুন। আমি আমার স্বামীর প্রাণ ভিক্ষা চাই।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরির পর তানভীর নিজেকে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন মতামত দেন। পরে আইসিটি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তানভীরের সঙ্গে আইসিটি বিভাগের কোনো সম্পর্ক নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ ছিল। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে ছাড়া এক চিঠিতে তাঁকে ১৬ মার্চের এক সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ওই সভার বিষয় ছিল বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের অগ্রগতি পর্যালোচনা। ওই দিন সকাল ১০টায় বিভাগের সভাকক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা চিঠিতে বলা হয়েছে। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান, টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের মহাপরিচালক ও টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোর সিইওসহ ১৫ জনকে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এর আগে তানভীর হাসান জোহা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাইবার নিরাপত্তা প্রকল্পের ডিরেক্টর অপারেশনস হিসেবে কাজ করেন। গত বছর ওই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

যোগাযোগ করা হলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন ১৬ মার্চ নির্ধারিত এ বৈঠকটি হয়েছে বলে জানালেও, ওই বৈঠকে তানভীর উপস্থিত ছিলেন কি না নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, ওই বৈঠকে তাঁকে দাওয়াত দেওয়া হলেও পরে নাম বাদ দেওয়া হয়। ১৬ মার্চ রাতেই নিখোঁজ হন তানভীর।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় তানভীর সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তদন্তে সহায়তা দিয়েছেন। গত বছরের আগস্ট মাসে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বরাবর একটি চিঠি দেন। চিঠিতে বন্দর থানার একটি মামলা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তানভীর হাসান জোহার চট্টগ্রামে আসা অত্যন্ত জরুরি বলে বলা হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে ওই চিঠিটির কথা তিনি মনে করতে পারছেন না। তবে তানভীর হাসান জোহা বিভিন্ন সময় সিআইডি ও পুলিশ স্টাফ কলেজে ক্লাস নিয়েছেন। বিভিন্ন মামলার তদন্তেও তিনি সহযোগিতা করেছেন।

তানভীরের ফেসবুকের পাতায় কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে তিনি প্রেজেন্টেশন দিচ্ছেন এমন ছবি, পুলিশ ও ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা ও বিসিএস একাডেমির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবি আছে।

সূত্র-প্রথম আলো

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে