আপডেট : ১৯ মার্চ, ২০১৬ ১৭:২৮

দরকার নেই তবুও কুইক রেন্টালের মেয়াদ বাড়ানোর তোড়জোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
দরকার নেই তবুও কুইক রেন্টালের মেয়াদ বাড়ানোর তোড়জোড়

বিদ্যুতের বিপর্যয় রোধে রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র  চালু করা হলেও বর্তমানে সে বিপর্যয় নেই। তাই রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রয়োজনও নেই। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ এর মেয়াদ এক দফা বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, সরকার নীতিগতভাবে রাজি না থাকার পরও গত বছর রেন্টালের মেয়াদ এক দফায় বাড়িয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ওই বিভাগের এক কর্মকর্তার অতি উৎসাহে এটা করা হয়েছে।

সম্প্রতি তাঁকে অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগে রেন্টাল কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে কর্মকর্তার অভাব নেই। আছে বলেই ভোলার ভেঞ্চার এনার্জি রিসোর্স লিমিটেডের ৩৩ মেগাওয়াটের কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ্রটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১১ জুলাই।

ভেঞ্চারের এই কেন্দ্র ২০০৮ সালে তিন বছর মেয়াদে সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। প্রথম মেয়াদ শেষের পর আরো পাঁচ বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ানো হয়। এখন আবার পাঁচ বছর বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে।

জানা গেছে, ভেঞ্চার এনার্জি রিসোর্স লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মামুন হায়দার গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সচিবের কাছে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন। তাঁদের কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা ৩৩ মেগাওয়াট হলেও আবেদনপত্রে ৫৫ মেগাওয়াট দেখানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘রেন্টাল কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে দেখানোতে অনেক লাভ আছে। উৎপাদন ক্ষমতা অনুযায়ী কেন্দ্রের ভাড়া দেওয়া হয়। বেশি উৎপাদন ক্ষমতা দেখানো হলে কেন্দ্রের ভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জও বেশি দেওয়া হবে। কোনো মাসে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা না হলেও ওই হারেই ভাড়া দেওয়া হবে। ফলে কেন্দ্র মালিকরা ক্যাপাসিটি বেশি দেখাতে চাইবেন।’

বিদ্যুৎ বিপর্যয়কে দ্রুত সামাল দিতে রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট বা ভাড়ায় বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এরপর ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগও রেন্টাল বিদ্যুকেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দেয়। বিতর্ক ওঠায় সরকার বলেছিল, বড় বিদ্যুকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে এলে এ ব্যবস্থা থেকে সরে যাবে তারা।

বর্তমানে বিদ্যুতের স্থাপনাক্ষমতা ১২ হাজার ৭১ মেগাওয়াট। ২০১৮ সালের মধ্যে কয়েকটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুকেন্দ্র উৎপাদনে আসবে। তখন লোডশেডিংও বলতে গেলে হবে না। এ বাস্তবতায় রেন্টাল বিদ্যুকেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা আর থাকার কথা নয়। এর পরও এগুলোর মেয়াদ বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে