আপডেট : ১৯ মার্চ, ২০১৬ ১৩:৪০
বাংলাদেশের রিজার্ভের অর্থ চুরি

ফিলিপাইনে ৪৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ

বিডিটাইমস ডেস্ক
ফিলিপাইনে ৪৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনে ৪৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। তবে ব্যাংকিং ইতিহাসের অন্যতম এই বিপর্যয়ের ঘটনায় অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কারও জড়িত থাকার সন্দেহ উড়িয়ে দিচ্ছে।

সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টার ব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন (সুইফট) বলছে, তারা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে কাজ করছে। তবে তাদের ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক এখানে জড়িত থাকতে পারে—এমন সন্দেহ উড়িয়ে দিচ্ছে সংস্থাটি।

ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক বলছে, রিজার্ভ থেকে টাকা পাঠানোর জন্য তাদের সিস্টেমে কেউ প্রবেশের চেষ্টা করছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট সংকেত বা বার্তা পাওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই টাকা পাঠানো হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে টাকা স্থানান্তরের জন্য পাঠানো ৩০ থেকে ৩৫টি প্রস্তাব তাঁরা আটকে দিয়েছিলেন। বিষয়টি এখন ‘তদন্তাধীন’। তবে কী কারণে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে তাঁদের সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিল, তা জানাতে চায়নি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের সিটি ব্যাংক, ব্যাংক অব নিউইয়র্ক মেলন ও ব্যাংক অব ওয়েলস ফারগো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ব্যাংকিং ইতিহাসে অন্যতম এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত বাংলাদেশেই বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সাইবার অপরাধীরা বাংলাদেশের কম্পিউটার সিস্টেমে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করিয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, ম্যালওয়্যার অর্থ স্থানান্তরের আদেশ ক্লোন করে ৩৫টি লেনদেন আদেশ তৈরি করে এবং সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে পাঠানো হয়।

৩৫টি ভুয়া পরিশোধ নির্দেশের মাধ্যমে ৯৫ কোটি ১০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৭ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা স্থানান্তরের প্রস্তাব পাঠানো হয়। তার মধ্যে ৩০টি নির্দেশ আটকানো সম্ভব হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এক বছর আগে রিজার্ভ থেকে টাকা চুরির কাজ শুরু করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে ম্যানিলার যে চারটি অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে, সেগুলো খোলা হয়েছিল ২০১৫ সালের মে মাসে। গত মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা যাওয়ার আগে সেগুলোতে লেনদেন হয়নি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই চারটি অ্যাকাউন্ট খুলতে ব্যবহার করা ড্রাইভিং লাইসেন্সগুলো ভুয়া।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর রাজি হাসান বলেন, তাঁদের বিশেষজ্ঞরা এবং ফরেনসিক প্রতিষ্ঠান ঘটনার তদন্ত করছে। চুরির সঙ্গে ভেতরের কেউ জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ভেতরের কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সূত্র-প্রথম আলো

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে