আপডেট : ১৯ মার্চ, ২০১৬ ১২:৪৬

গ্যাসলাইনে ত্রুটি :বড় ঝুঁকিতে রাজধানীবাসী

দুর্ঘটনায় আট মাসে নিহত ৩১
বিডিটাইমস ডেস্ক
গ্যাসলাইনে ত্রুটি :বড় ঝুঁকিতে রাজধানীবাসী

বড় ধরনের ঝুঁঁকিতে রয়েছে রাজধানীবাসী। গ্যাসলাইন ত্রুটির কারণে গত আট মাসে নিহত হয়েছে ৩১ জন। এ দায় গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাসের যেমন আছে, সেই সঙ্গে রয়েছে গ্রাহকদেরও। সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস লাইন কেন্দ্রিক যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে সেসব বিশ্লেষণ করে এমন ধারণাই পাওয়া গেছে। গ্রাহকদের অসতর্কতার কারণে যেমন প্রতিনিয়িত দুর্ঘটনা ঘটছে, আবার দায়িত্বপ্রাপ্ত তিতাস কর্মকর্তাদের তদারকিতেও রয়েছে গাফিলতি। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, গ্যাস লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে তিতাসের হটলাইনে ফোন করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় না। গত শুক্রবার বনানীতে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটিও তিতাস কর্মকর্তাদের গাফিলতির ফল। ওই ভবন মালিক অভিযোগ করে বলেন, লাইন থেকে গ্যাস নির্গত হবার বিষয়টি তিনি বৃহস্পতিবার তিনবার ফোন করে তিতাস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু জনবল স্বল্পতার কথা বলে তারা সেই ডাকে সাড়া দেয়নি। যে কারণে এতবড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়নি।

এদিকে, তিতাসের পক্ষ থেকেও গ্রাহকদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ করতে শোনা যায়। তাদের মতে, রাজধানীতে যারা গ্যাসের চুলা ব্যবহার করেন তাদের অধিকাংশই নিরাপত্তা সতর্কতা মানেন না। অনেকে সামান্য একটি ম্যাচের কাঠি বাঁচানোর জন্য সারারাত চুলা জ্বালিয়ে রাখেন। এছাড়া অপেশাদার মিস্ত্রি দিয়ে গ্যাস লাইন মেরামত করেন। গ্যাস লাইনের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন সময়ে প্রচারণা চালানো হয়। কিন্তু অনেক গ্রাহক সেগুলো মানতে চান না। এ কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রসঙ্গত রাজধানীতে তিতাস গ্যাসের মোট গ্রাহক সংখ্যা ১৫ লাখ। বর্তমানে বাসাবাড়িতে নতুন সংযোগ দেয়া বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তিতাসের লাইন পেতেও গ্রাহকদের বেগ পেতে হয়। সঠিকভাবে আবেদন করলেও গ্যাস সংযোগ মেলে না। যে কারণে গ্রাহকরা ভিন্ন পথে লাইন পেতে চেষ্টা করেন। একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইত্তেফাককে বলেন, ধানমন্ডিতে একটি আবাসিক ভবন নির্মাণের পর তিনি গ্যাস সংযোগ পেতে তিতাসের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু নানান অজুহাতে তার আবেদনটি আটকে রাখে তিতাস কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ওই বাড়িতে আগে একটি গ্যাস লাইন অনুমোদিত থাকায় সেখান থেকে তিনি ২৪টি ফ্লাটে গ্যাস সংযোগ নিয়েছেন। এজন্য তিতাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে উেকাচ দিতে হয়েছে। ওই কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের গ্যাস সংযোগের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

তবে তিতাসের পরিচালক (অপারেশন) এইচ এম আলী আশরাফ বলেন, আমাদের দেশেই পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। পৃথিবীর অন্য কোন দেশে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয় না। তিনি বলেন, রাজধানীতে বতর্মানে  তিতাস গ্যাসের গ্রাহক সংখ্যা ১৫ লাখ। তবে নতুন করে সংযোগ দেয়া বন্ধ রয়েছে। গ্যাস লাইনের তদারকি পদ্ধতি কী— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদারক করা হয়। তবে সব গ্রাহকের লাইন তদারক করার সুযোগ নেই। এ জন্য গ্রাহকেরও দায়িত্ব রয়েছে।

তিতাসের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, নগরীর অনেক ভবনের (এক তলা থাকা অবস্থায়) একটি সংযোগ নেয়া ছিল। কিন্তু ভবনের তলা বেড়েছে। ভবন মালিক ওই লাইন থেকে সংযোগ বাড়িয়েছেন। এতে ঝুঁকিও বেড়েছে।

এসব দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, গ্যাস লাইনে অগ্নিসংযোগ ঘটলে করণীয় নিয়ে  নিয়মিত সতর্কতা জারি করছে তিতাস। গণ বিজ্ঞপ্তি জারি করে এ সতর্কতা দেয়া হয়। এগুলো অনুসরণ করলে দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

তিতাসের ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যেসব সতর্কতা জারি করা হয়েছে সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ১. রান্না শেষে গ্যাসের চুলা বন্ধ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা । ২. চুলার নব এবং পিতলের চাবিতে কোন লিকেজ আছে কিনা তা নিশ্চিত করা ৩. চুলা জ্বালানোর কমপক্ষে ১৫/২০ মিনিট পূর্বে রান্না ঘরের জানালা দরজা খুলে দেয়া ৪. বাসা বাড়িতে গ্যাস লাইনে লিকেজ পরিলক্ষিত হলে রাইজারের চাবি বন্ধ করে দেয়া এবং আগুন জ্বালানো থেকে বিরত থাকা ৫. গ্যাসের চুলা/ গ্যাস পাইপলাইনের সন্নিকটে কোন দাহ্য পদার্থ বা বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন না করা ৬. অকারণে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে না রাখা।

গত আট মাসে রাজধানীতে গ্যাসের লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জনসহ ৩১ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় বনানীর ২৩ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনজন অগ্নিদগ্ধ ও  ২০ জন আহত হয়েছেন।

অপর একটি সূত্র জানায়, রাজধানীতে অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ কম। এ কারণে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধির জন্য বাসাবাড়িতে লাগানো হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বাণিজ্যিক রেগুলেটর। চলমান গ্যাস সঙ্কট থেকে মুক্তি পেতে গ্রাহকরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই শক্তিশালী রেগুলেটর লাগাচ্ছেন বাসাবাড়িতে। তিতাস গ্যাস কোম্পানির স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ধরনের অবৈধ ও অনৈতিক কাজে সরাসরি সম্পৃক্তই শুধু নন, আবাসিক গ্রাহকদেরও তারা এই রেগুলেটর লাগাতে প্ররোচিত করছেন। বিনিময়ে পকেট ভারী হচ্ছে তাদের।

সূত্র- ইত্তেফাক

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে