আপডেট : ১৭ মার্চ, ২০১৬ ১৭:৩৪

ক্যাসিনোর অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা!

বিডিটাইমস ডেস্ক
ক্যাসিনোর অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা!

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হ্যাকিংয়ের ঘটনায়  বৃহস্পতিবার দুপুরে ফিলিপাইনের সিনেট কমিটিতে দ্বিতীয় দিনের মত শুনানি হবে। বৃহস্পতিবার শুনানিতে ফিলিপাইনের রিজাল কর্মাসিয়াল ব্যাংকের শাখা ম্যানেজার মায়া সান্তোস-দেগুইতো, যিনি এ অর্থপাচারের ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন, তার জানা সব তথ্য প্রকাশ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ফিলিপাইন স্টার এ খবর দিয়েছে।

ফিডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ বাংকের ১০ কোটি ডলার বা প্রায় ৮০০ কোটি টাকা লোপাট হলেও এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার (৬৩৫ কোটি টাকা) গিয়েছে ফিলিপাইনে।

এদিকে এর আগে ফিলিপাইনের সিনেটে শুনানিতে দেশটির কয়েকজন সিনেটর বলেছেন, বাংলাদেশের এই টাকা এরই মধ্যে ‘কৃষ্ণ গহ্বরে’ পতিত হয়েছে। কালো পথে চলে গেছে বিভিন্ন ক্যাসিনোতে। সেখান থেকে এ টাকা তুলে আনার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। শুনানিতে অংশ নেন সিনেটর সার্জিও ওসমেনা তৃতীয়, সিনেট ব্লু রিবন কমিটির চেয়ার সিনেটর তিওফিস্তো গুইঙ্গোনা তৃতীয়।

বাংলাদেশের বিপুল অর্থ হ্যাকিংয়ের নজিরবিহীন এ ঘটনাটি বাংলাদেশের পাশাপাশি ফিলিপাইনের গণমাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হচ্ছে।

শুনানি শেষে সিনেটর ওসমেনা বলেন, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চুরি যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার উদ্ধারের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ, এ অর্থ এরই মধ্যে দেশের বাইরে চলে গেছে বলে মনে হচ্ছে। এখন এ অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি নির্ভর করে ক্যাসিনোগুলোর সহযোগিতার উপর।

রিজাল কমার্সিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) জুপিটার শাখা থেকে ওই অর্থ উত্তোলনের পর তা চলে যায় ক্যাসিনোগুলোতে। সিনেটর তিওফিস্তো গুইঙ্গোনা বলেছেন, চুরি যাওয়া ওই অর্থ কৃষ্ণ গহ্বরে তার পথ করে নিয়েছে। সেখান থেকে এ অর্থ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন।

আজকের সিনেট রিবর্ন কমিটিতে এ নিয়ে শুনানিতে এ অর্থ চুরি যাওয়ার পর তা কোথায় কোথায় কোন কোন ক্যাসিনোতে গিয়েছে তা নির্ণয়ের চেষ্টা থাকবে।

সিনেটর ওসমেনা বলেন, আমরা ক্যাসিনোগুলোর কাছ থেকে আরো তথ্য জানার চেষ্টা করবো। আমরা সোলাইয়ার’এর প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারিনি। কারণ, তিনি ছিলেন দেশের বাইরে।

তিনি আরো বলেন, ক্যাসিনোগুলোর কাছে জানতে চেষ্টা করা হবে টাকাগুলো কোথায় গিয়েছে। এ বিষয়ে তাদের রেকর্ডও চাওয়া হবে। যাতে বোঝা যায় তারা কি পরিমাণ অর্থ পেয়েছে এবং তার মালিক কে। এছাড়া ক্যাসিনোগুলো থেকে টাকাগুলোর স্থানান্তর নিয়ে ‘ইলেকটোরাল ট্রায়াল’ খোঁজা হবে।

সিনেটর ওসমেনা বলেন, আমি আশা করি ক্যাসিনোগুলো ইলেকট্রনিক ট্রায়াল সরবরাহ করবে। আমরা জানি না তারা কিভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করবে। এখানে আইনে রয়েছে অনেক ফাঁকফোকর। এসব ফাঁকফোকর দিয়ে তারা বেরিয়ে যেতে পারে।

ক্যাসিনোগুলো আইনের দোহাই দিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে পারে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে সিনেটর ওসমেনা বলেন, দেশের আইন সরকারের চেয়ে অপরাধীদের বেশি রক্ষা করে। এক্ষেত্রে তিনি গত মঙ্গলবারে সিনেট শুনানিতে আরসিবিসি কর্তকর্তাদের প্রসঙ্গ তুলে আনেন। তারা আইনের দোহাই দিয়ে সব কথা সেদিন খুলে বলেননি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে 

উপরে