আপডেট : ১৭ মার্চ, ২০১৬ ১১:২৪

মন্ত্রীত্ব ছাড়তে পারেন অর্থমন্ত্রী!

বিডিটাইমস ডেস্ক
মন্ত্রীত্ব ছাড়তে পারেন অর্থমন্ত্রী!

বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী গভর্ণর ড. আতিউর রহমানের মতো অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকেও সরানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে পারেন তিনি।

মঙ্গলবার আতিউরের পদত্যাগের পর থেকেই অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে এই গুঞ্জন শুরু হয়। বুধবার শোনা যায়, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতকেও মন্ত্রীত্ব ছাড়তে হতে পারে।

আওয়ামী লীগ দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, এবার অর্থমন্ত্রীর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও বিরক্ত।

সূত্র জানায়, ‘গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ব্যাংকের অর্থ কেলেংকারির ঘটনার কোনো সুরাহা করতে পারেননি কেন?’-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থমন্ত্রীর কাছে কড়াভাবে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অর্থমন্ত্রণালয়ের কাজের সমন্বয়হীনতা এবং সদ্য বিদায়ী গভর্ণরকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্তগ্রহণসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ উঠেছে অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনা এসব অভিযোগ আমলে নিয়েছেন এবং আবুল মাল আবদুল মুহিতের চেয়ারটিও নড়বড়ে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ্য এক নেতা ও মন্ত্রী।

ওই জ্যেষ্ঠ নেতা ও মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আতিউরের পদত্যাগকে কেন শেখ হাসিনা এতো প্রশংসার সঙ্গে নিলেন, কেন তিনি এটাকে বিরল দৃষ্টান্ত বলেছেন- এটি ভাবলেই বোঝা যায় প্রধানমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এটাও বোঝাতে চেয়েছেন, এই দায় নিয়ে ড. আতিউর পদত্যাগ করেছেন। তাহলে এর আগে আরও বড় বড় টাকা লুটের ঘটনায় অর্থমন্ত্রীর কি পদত্যাগ করা উচিত ছিলো না!

জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের  (বিএনপি) পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অনেক জেষ্ঠ্য নেতাই চান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সরে দাঁড়াক।

আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এবার তো ৮০০ কোটি টাকা চুরি হলো। তাও রিকভারির হবে আশা করছি। কিন্তু এর আগে হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক, শেয়ার বাজার থেকে যে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হলো তা নিয়ে তো অর্থমন্ত্রীকে এতো সোচ্চার হতে দেখা যায়নি। অথচ এবারের ঘটনায় তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণরের উপর পুরো দায় চাপালেন। গভর্ণর পদত্যাগ করলে তারও পদত্যাগ করা উচিত।

অর্থমন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর ফোন পাওয়ার পর থেকেই চুপ হয়ে গেছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। এরপর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে আতিউরের পদত্যাগ করা এবং এ বিষয়ে কোনো কথা না বলতে অর্থমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর তিনি এ বিষয়ে কিছুই বলছেন না।

তিনি জানান, মঙ্গলবার থেকে মন্ত্রণালয়েও অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি ফিসফাস করে বলাবলি হচ্ছে। এছাড়া অর্থমন্ত্রী গত দুদিন ধরে সাংবাদিকদেরও এড়িয়ে চলছেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত কুয়েতের রাষ্ট্রদূত আবেল মোহাম্মদ এ এইচ হায়াত বুধবার এসেছিলেন সচিবালয়ে অথর্মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। সাংবাদিকরা জড়ো হলেন সংবাদ সংগ্রহ করতে। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বের হলেন রাষ্ট্রদূত। একটু পরে বের হলেন অর্থমন্ত্রীও। দরজায় সাংবাদিকদের অপেক্ষমাণ দেখে তিনি ফের ঘরে ঢুকে গেলেন।

কিছুক্ষণ পরে পিএস এর ঘর দিয়ে বের হলেন অর্থমন্ত্রী। উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বললেন, ‘হোয়াট ইজ দিজ? হোয়াই দ্য ক্রাউড? আই হ্যাভ নো আইডিয়া, নাথিং টু সে।

এই বলেই ক্রয় কমিটির মন্ত্রী পরিষদ বৈঠকে চলে গেলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে