আপডেট : ১৬ মার্চ, ২০১৬ ১১:৪৩

মৃত্যু পরোয়ানা শুনে বিমর্ষ নিজামী

বিডিটাইমস ডেস্ক
মৃত্যু পরোয়ানা শুনে বিমর্ষ নিজামী

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়েছে।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় পার্ট-২ এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক জানান, মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যু পরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে এ কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছে। সকাল সোয়া ১০টার দিকে মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যু পরোয়ানাটি পড়ে শোনানো হয়েছে। পরে তিনি নিজে পরোয়ানা দেখে তাতে সই করেন। এ সময় তাকে চিন্তিত ও বিমর্ষ দেখা গেছে। রায়ের রিভিউ চাইবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। বুধবারই আইনজীবীরা নিজামীর সঙ্গে দেখা করতে পারেন।

মঙ্গলবার  রাতে দেশের এই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সঙ্গে যায় নিজামীর আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ও। এরপরই রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। আইন অনুসারে কারাগার ছাড়াও এগুলো যাবে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়, ঢাকার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা প্রশাসক) কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছেও।

এর আগে রাত নয়টার দিকে এ মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে তাতে স্বাক্ষর করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হক এবং বিচারিক প্যানেলের সদস্য বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যা ও নিজ এলাকা পাবনার সাঁথিয়ায় হত্যা, নির্যাতনের দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর একাত্তরে কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী নিজামীর সাজা মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে গত ৬ জানুয়ারি সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেছিলেন আপিল বিভাগ। চার বিচারপতির স্বাক্ষরের পর সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে গতকাল তা প্রকাশ করা হয়। আপিল বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ একাত্তরে বদরপ্রধান ও জামায়াতের সহযোগী সংগঠন তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি মতিউর রহমান নিজামীকে ৮টি অভিযোগের মধ্যে ৪টিতে (২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগ) মৃত্যুদণ্ড দেন। এ ছাড়া ১, ৩, ৭ ও ৮ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আপিল বিভাগ পূর্ণাঙ্গ রায়ে বুদ্ধিজীবী হত্যা ও পাবনার সাঁথিয়ায় হত্যা ও ধর্ষণের দায়ে (২, ৪ ও ১৬ নম্বর) তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। নিজামীর আপিল আংশিক মঞ্জুর করে তিনটি অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তিনটি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে_ পাবনার বাউশগাড়ি, ডেমরা ও রূপসী গ্রামের সাড়ে ৪০০ মানুষকে হত্যা ও ৩০-৪০ নারীকে ধর্ষণ, পাবনার ধুলাউড়ি গ্রামে নারী, পুরুষ, শিশুসহ ৫২ জনকে হত্যা এবং পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী গণহত্যা। চার নম্বর অভিযোগে পাবনার করমজা গ্রামে নয়জনকে হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদ হলেও আপিলে তিনি খালাস পান।

চট্টগ্রামের আলোচিত দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায়ও নিজামী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। ২০১০ সালের ২৯ জুন থেকে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে আছেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে