আপডেট : ১৫ মার্চ, ২০১৬ ২১:৫৪

চিকিৎসককে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ, চাঁদা আদায়!

বিডিটাইমস ডেস্ক
চিকিৎসককে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ, চাঁদা আদায়!

বগুড়ার শেরপুরে উপজেলা বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের সভাপতি ও তাঁর কয়েকজন সঙ্গীর বিরুদ্ধে একটি মেডিকেল কলেজের একজন চিকিৎসককে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং তা প্রকাশের হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, সোমবার রাত নয়টায় উপজেলার বাগড়া এলাকায় ধানের চাতালের গুদামঘরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার রাতে ওই চিকিৎসক শেরপুর উপজেলার দুবলাগাড়ী এলাকার জাকির হোসেনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

ওই চিকিৎসক বলেন, প্রতিরাতেই বাড়ির পাশের সড়কে তিনি হাঁটাহাঁটি করেন। রাতে হাঁটার সময় ইমন নামের স্থানীয় এক যুবক তার বাবা অসুস্থ বলে একটি গুদামঘরে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত থাকা জাকির হোসেন ও তার সহযোগী মো. রুহুলসহ অপরিচিত চার-পাঁচজন তাঁকে আটকে চড় থাপ্পড় মারতে থাকে। একপর্যায়ে জাকিরের নির্দেশে তাঁর  জামাকাপড় খুলে নিয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করা হয়।

এরপর তারা এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। এই টাকা না দিলে তাঁকে প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়। তিনি লজ্জায় ও প্রাণনাশের ভয়ে মোবাইলে তাঁর ক্লিনিকের ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে বাড়ি থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা এনে দেন।

এরপর তারা আরও সাড়ে চার লাখ টাকা দাবি করে এবং তাঁকে চাপ দিয়ে ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে পুনরায় বাড়ি থেকে তাঁর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেকের একটি পাতা এনে সাড়ে চার লাখ টাকা লিখে সই করিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেয়।

ওই চিকিৎসকের ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক বলেন, জাকির হোসেনের নেতৃত্বে সোমবার রাতে এ ঘটনার আগে ক্লিনিকে একাধিকবার এসে তারা চাঁদা দাবি করেছে। তাদের চাহিদামতো টাকা না দেওয়ায় তারা হুমকিও দিয়েছিল।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে জাকির হোসেনের বাড়িতে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। বাড়ি থেকে জানানো হয় সোমবার রাত থেকে জাকির বাড়িতে আসেনি। তাঁর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ধরেননি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা অন্য দুজনকেও পাওয়া যায়নি।

উপজেলা বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, জাকির হোসেন তাঁর সংগঠনের সভাপতি। তাঁর সভাপতি ও সভাপতির সঙ্গীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে এ ধরনের ঘটনা তিনি রাতেই শুনেছেন। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জেলা কমিটিকে জানিয়েছেন। কমিটি বলেছে, জেলা কমিটির মাধ্যমে জাকিরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, সোমবার রাতে ও আজ সকালে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এলাকায় না পাওয়ায় এখনো তাঁদের আইনের আওতায় নেওয়া সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকের লিখিত অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগের আলোকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে