আপডেট : ১৫ মার্চ, ২০১৬ ১৭:০৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২ ডেপুটি গভর্নরকে অব্যাহতি

বিডিটাইমস ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২ ডেপুটি গভর্নরকে অব্যাহতি

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির দু'জন ডেপুটি গভর্নরকে অপসারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে মোট চার জন ডেপুটি গভর্নর রয়েছেন। তারা হলেন মো. আবুল কাশেম, আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান, সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী ও নাজনীন সুলতানা।

এদের মধ্যে মো. আবুল কাশেম ও নাজনীন সুলতানাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

তিনি মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর শেরই-বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচন সভায় যোগ দেয়ার আগে এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, 'ডেপুটি গর্ভনর নাজনীন সুলতানা এবং মো. আবুল কাশেমকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।'

এর আগে মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদ থেকে ইস্তফা দেন ড. আতিউর রহমান। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।

এরপর ড. আতিউর রহমানের জায়গায় অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব দেয়া হয় ডেপুটি গভর্নর মো. আবুল কাশেমকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা বিধি অনুযায়ী আবুল কাশেম নতুন গভর্নর না আসা পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন বলে জানানো হয়।

২০১১ সালের ৭ জুলাই মো. আবুল কাশেম বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ পান। এরই মধ্যে বিকালে তাকে অব্যাহতি দেয়ার কথা জানালেন অর্থমন্ত্রী।

এছাড়া মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন সাবেক অর্থ সচিব ফজলে কবির। বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রায়াত্ত সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন।

তিনি বলেন, 'সব ঠিক হয়ে গেছে। নতুন গভর্নর নিয়োগ দেয়া হচ্ছে সাবেক অর্থ সচিব ফজলে কবিরকে।'

অর্থমন্ত্রী বলেন, 'ফজলে কবির বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। আগামী ১৮ মার্চ তিনি দেশে ফিরবেন। এরপর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।'

ফজলে কবির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। তিনি ১৯৮০ রেলওয়ের সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এর তিন বছরের মাথায় প্রশাসনে যোগ দেন তিনি।

২০১২ সালে অর্থ সচিবের দায়িত্বে আসার আগে জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন ফজলে কবির। বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদেও ছিলেন তিনি।

ফজলে কবিরের স্ত্রী মাহমুদা শারমিন বেনু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মরত।

এছাড়া অর্থ চুরির ঘটনার ৩৯ দিন পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গোকুল চাঁদ দাস এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক অধ্যাপক কায়কোবাদ।

উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়।

ঘটনা জানার পরও বিষয়টি গোপন রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

চুরি হওয়া অর্থ ফেরত আনতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান ফিলিপাইনের ব্যাংকো সেন্ট্রালের গভর্নর আমান্ডো টেটাংকো জুনিয়রের কাছে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি লেখেন। কিন্তু, দেশে তিনি এই ঘটনা চেপে যান।

এরপর গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের দৈনিক দি ফিলিপিন্স ডেইলি ইনকোয়ারারের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির খবর জানায়। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমেও এ খবর এলে তোলপাড় শুরু হয়।

পরে গত ৭ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা চুরির ঘটনা স্বীকার করে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক দাবি করে, দেশের বাইরে থেকে হ্যাকাররা অর্থ চুরি করেছে। কিন্তু, সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যেভাবে টাকা চুরি হয়েছে তাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে