আপডেট : ১৪ মার্চ, ২০১৬ ১৪:৪৭
টাকা চুরি যাওয়ার ঘটনা না জানানোয় ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী

সরে যাবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর!

নিজস্ব প্রতিবেদক
সরে যাবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর!
রিজার্ভ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে জেনেও তা গোপন রাখায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড.আতিউর রহমানের উপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৩ মার্চ রবিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) মনোনয়ন বোর্ডের সভায় তিনি এমন মনোভাব প্রকাশ করেছেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।বৈঠকে উপস্থিত নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গভর্নর এই ঘটনাকে কেন ধামা-চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে? আমি কেন পরে বিষয়টি জানতে পারলাম? তদন্ত চলছে, দোষী যেই সাব্যস্ত হোক তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সবাই আমাদের প্রশংসা করতে শুরু করেছে। যুক্তরাজ্যের কার্গো বিমান বন্ধের ঘটনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লোপাট-এ দুটি ঘটনা আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, মনোনয়ন সংক্রান্ত কাজ শুরু হওয়ার আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি আলোচনায় আসে। হ্যাকিংয়ের এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এতগুলো টাকা সরিয়ে ফেলা হলো বাংলাদেশ ব্যাংক জেনেও গোপনীয়তা রক্ষা করার চেষ্টা করল কী করে? প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর যদি দায়িত্বে অবহেলা করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশের অর্থনীতিবিদ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নররাও মনে করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরির ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তি হওয়া উচিত। একই সুর অর্থমন্ত্রীরও। তিনি রবিবার বলেছেন, রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিষয়টা দুই মাস আগে ঘটলেও আমাকে জানানো হয়নি। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ। পুরো বিষয়টি নিয়ে আমি খুবই অখুশি। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন ড. এম আসলাম আলম। তিনি বলেন, অর্থ চুরির ঘটনাটি ঘটেছে ৫ ফেব্রুয়ারি। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভা হয়েছে। ২৯ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট কমিটির সভা হয়েছে। কিন্তু কোনও সভাতেই বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, আমি মনে করি, এটা অবশ্যই আমাদের ও সরকারকে জানানো উচিত ছিল।

এমন পরিস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও সরকারের শীর্ষ মহল থেকে ড. আতিউর রহমানের বিকল্প ভাবা হচ্ছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। ব্যাংকের টাকা চুরির যেসব ঘটনা এ পর্যন্ত বিশ্বে ঘটেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ঘটনাকে অনেক বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া, ড. আতিউর রহমানের প্রতিপক্ষরা এই মুহূর্তে সোচ্চার হয়েছেন। তার অন্য দুর্বলতাগুলো সরকারের শীর্ষ মহলে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। সুতরাং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরি যাওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরে যেতে হতে পারে ড. আতিউর রহমানকে। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। ১৪ মার্চ তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ১৫ মার্চ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সুইফট মেসেজিং সিস্টেমে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হয়। যা চলতি মাসে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর জানাজানি হয়।

উপরে