আপডেট : ১৩ মার্চ, ২০১৬ ১০:১৯

শ্রীলংকা থেকে কোনো টাকাই উদ্ধার হয়নি বাংলাদেশের

বিডিটাইমস ডেস্ক
শ্রীলংকা থেকে কোনো টাকাই উদ্ধার হয়নি বাংলাদেশের

রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া কোনো টাকাই শ্রীলংকা থেকে উদ্ধার হয়নি। আর টাকা ফেরত আনার ব্যাপারেও কোনো তথ্য জানে না বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস। শ্রীলংকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাননি। আর নিয়মানুযায়ী এ ধরনের টাকা ফেরত আনতে হলে অবশ্যই এ দুটি দফতরের জানার কথা। এ প্রসঙ্গে শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ উদ্ধার হওয়া খুবই কঠিন। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য তা আরও কঠিন।

তবে টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনও আগের অবস্থানে অনড় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা শনিবার টেলিফোনে যুগান্তরকে টাকা উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি আবারও নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমি যতদূর জানি শ্রীলংকা থেকে টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ওই দেশের যে ব্যাংকে টাকা জমা হয়েছে, তারা এই লেনদেনকে অস্বাভাবিক মনে করেছেন। এ কারণে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা ফেরত দিয়েছেন।’ তবে টাকাগুলো কোন প্রক্রিয়ায় কোথায় জমা হয়েছে সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন।

এদিকে অর্থ পাচারে জড়িত সন্দেহে ফিলিপিন্সের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি) শাখার ম্যানেজারকে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। জাপানে পালিয়ে যাওয়ার সময় শুক্রবার তাকে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি হয়েছে। এর মধ্যে ৮১ মিলিয়ন ফিলিপিন্সে এবং ২০ মিলিয়ন ডলার শ্রীলংকায় পাচার করা হয়। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ৭ মার্চ এক বিবৃতিতে জানায়, শ্রীলংকার ২০ মিলিয়ন ডলার ফেরত আনা হয়েছে। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৬০ কোটি টাকা।

জানা গেছে, নিয়মানুসারে পাচার করা টাকা ফেরত আনতে হলে যে দেশে টাকা যায়, ওই দেশের আদালত রায় দিলে দুই দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের মাধ্যমে যোগাযোগ করে টাকা ফেরত আনতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, শ্রীলংকা থেকে কোনো টাকা উদ্ধার হয়নি। তবে শ্রীলংকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বীকার করেছে, তাদের দেশে বাংলাদেশের চুরি যাওয়া টাকা রয়েছে। এটি ফেরত পাওয়ার নিয়ম থাকলেও তা অনেক সময় লাগবে।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, পাচার করা টাকা ফেরত আনা খুব কঠিন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ফেরত আনা যায় না। আর আনতে পারলেও তা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার। রাতারাতি এটি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, টাকা পেতে হলে যেই দেশে পাচার হয়েছে, সেই দেশের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) থাকতে হবে। এরপর প্রথমে নিজ দেশের আদালতে মামলা করতে হবে। আদালতের রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে ওই দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়কে জানাতে হবে। সেখান থেকে দেশটির আদালতে বিষয়টি উত্থাপনের পর দীর্ঘ শুনানি হবে। শুনানি শেষে রায়ের ওপর নির্ভর করবে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কিনা।

জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শনিবার টেলিফোনে বলেন, শ্রীলংকা থেকে টাকা উদ্ধারের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তার মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক সে দেশের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টাকা আনার আইনি প্রক্রিয়া হল অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস। তবে তাকে কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেলের এ বক্তব্যের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘উনার বক্তব্যের বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’

শ্রীলংকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক আহসানের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কলম্বো থেকে শনিবার বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ চুরির ঘটনা সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক শ্রীলংকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আমাকে এ ব্যাপারে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে বলা হয়নি। তবে শ্রীলংকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। আমাকে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করতে বলা হলে অবশ্যই যোগাযোগ করব।’ হাইকমিশনার আরও বলেন, শ্রীলংকার ডেইলি মিরর পত্রিকা শনিবার প্রথমবারের মতো এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশ করেছে। রয়টার্সের বরাত দিয়ে এ খবরে শ্রীলংকা থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। তবে হাইকমিশনার এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি।
দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা : অর্থ পাচার চক্রান্তে জড়িত সন্দেহে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন (আরসিবিসি) শাখার ম্যানেজার মাইয়া সান্তোষ-দুগুইতোকে দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। জাপানে পালিয়ে যাওয়ার সময় শুক্রবার তাকে বিমান থেকে নামিয়ে দেয় দেশটির অভিবাসন কর্মকর্তারা। এরপর তাকে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অভিবাসনবিষয়ক ব্যুরোর প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ফিলিপাইনের পত্রিকা ইনক্যুয়ারার ও ম্যানিলা টাইমস এ খবর প্রকাশ করেছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে