আপডেট : ১৩ মার্চ, ২০১৬ ০৮:৩৯
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি

চোরের প্রথম অনুপ্রবেশ ২৪ জানুয়ারি!

বিডিটাইমস ডেস্ক

চোরের প্রথম অনুপ্রবেশ ২৪ জানুয়ারি!

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির জন্য স্বয়ংক্রিয় লেনদেনব্যবস্থায় ‘তৃতীয় পক্ষের’ প্রথম অনুপ্রবেশ ঘটে গত ২৪ জানুয়ারি। এরপর আরও তিন দফায় একই কাজ করা হয়। তবে অর্থ চুরির মূল কাজটি করা হয় ৪ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফটের সংকেত বা বার্তা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে অর্থ স্থানান্তরের ‘অ্যাডভাইস’ বা পরামর্শগুলো পাঠানো হয় ওই দিন দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ১২টায়। সুইফট হচ্ছে আর্থিক লেনদেনের বার্তা আদান-প্রদানকারী আন্তর্জাতিক একটি নেটওয়ার্ক-ব্যবস্থা।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কারও নাম উল্লেখ না করে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেমে ‘ম্যালওয়্যার’ বসিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে লন্ডনের মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির শায়েদুর রহমানকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানিয়েছে, ম্যালওয়্যার বসাতে যেসব উপায় লাগে, অভ্যন্তরীণ কারও সহায়তা ছাড়া ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী প্রতিরোধক ভেদ করে তা বসানো প্রায় অসম্ভব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজেদের কোনো লোক জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও জানিয়েছেন,

বাইরে থেকে তৃতীয় একটি পক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তিব্যবস্থার মধ্যে ঢুকে পড়েছিল বলে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণে জানা গেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব কোনো লোক এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, তা-ও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রটি জানিয়েছে, রিজার্ভের তথ্য চুরি যাওয়ার ঘটনার সঠিক তথ্য অনুসন্ধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সব কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজে ব্যবহৃত সবগুলো ডিভাইসকে ‘ফরেনসিক’ তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। ‘ফরেনসিক’ তদন্তের মাধ্যমে মূলত বৈজ্ঞানিক ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধের কারণ ও তথ্য উদ্ঘাটন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে এই ‘ফরেনসিক’ তদন্তের কাজটি করছে বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা রাকেশ আস্তানার নেতৃত্বে একটি দল।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাইবার আক্রমণে ৩৫টি ভুয়া পরিশোধ নির্দেশের মাধ্যমে ৯৫ কোটি ১০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৭ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা স্থানান্তরের প্রস্তাব পাঠানো হয়। তার মধ্যে ৩০টি নির্দেশ আটকানো সম্ভব হয়। তাতে ৮৫ কোটি ডলার বেহাত হওয়া প্রতিহত করা গেছে।

তবে পাঁচটি পরিশোধ নির্দেশের বিপরীতে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার বা প্রায় ৮০৮ কোটি টাকা ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায় চলে যায়। তার মধ্যে শ্রীলঙ্কা থেকে ২ কোটি ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে। ফিলিপাইনে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বা প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে, ফিলিপাইনের দৈনিক ইনকোয়ারার-এর গত শুক্রবার ও শনিবারের একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে দেশের মাকাতি শহরের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) জুপিটার স্ট্রিট শাখার চারটি হিসাবে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার জমা হয়। এ চুরির ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুয়েতোসহ একাধিক কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এমনকি শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তদন্তও শুরু করা হয়েছে। এ অবস্থায় ওই শাখা ব্যবস্থাপক গত শুক্রবার দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছেন বলে ইনকোয়ারার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়। ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁকে বিমানবন্দরে আটকে দেয়। তবে শাখা ব্যবস্থাপক সান্তোস তা অস্বীকার করেছেন বলেও অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইনকোয়ারার-এর অপর এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অর্থ চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন যে ছয়টি ব্যাংক হিসাব ও ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, সেসব ব্যাংক হিসাবও আদালতের আদেশে জব্দ করা হয়। তাঁদের মধ্যে একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী উইলিয়াম গো। শনিবার তাঁর পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয়েছে, উইলিয়ামের ভুয়া স্বাক্ষরে তাঁর নামে ব্যাংক হিসাবটি খোলা হয়েছে, যার জন্য শাখা ব্যবস্থাপক সান্তোসকে দায়ী করা হয়। সূত্র-প্রথম আলো

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে