আপডেট : ১০ মার্চ, ২০১৬ ১৪:৪৮

মশাকে জাতীয় পশুপাখি ঘোষণার দাবীতে অসহায় দেশবাসীর মহাসমাবেশের ডাক

বিডিটাইমস ডেস্ক
মশাকে জাতীয় পশুপাখি ঘোষণার দাবীতে অসহায় দেশবাসীর মহাসমাবেশের ডাক

মশার যন্ত্রণায় নাজেহাল মানুষরাই মশাকে জাতীয় পশুপাখি ঘোষণার দাবিতে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছেন। হাস্যকর ও অবাস্তব মনে হলেও ঘটনাটি সত্য। আগামী ৩১ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ডাকা এই মহাসমাবেশ সফল করতে ফেসবুকে জোর প্রচারণা চলছে। একটি ইভেন্ট খুলে আগ্রহীদের অংশ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

২৭ ফেব্রুয়ারি ওই ইভেন্টের ডাক দেন ব্লগারস ফোরামের সাবেক সভাপতি এবং অনলাইন এক্টিভিষ্ট আবু সাঈদ আহমেদ। আয়োজিত এ ইভেন্টটিতে এরই মধ্যে ৬৫০০ জন আগ্রহ দেখিয়েছেন, অংশ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন প্রায় ৩০০০ জন। মশাকে জাতীয় পশুপাখি করার দাবিতে ডাকা সমাবেশের জন্য ফেসবুকে খোলা ওই ইভেন্টে বলা হয়, মশাকে জাতীয় পশুপাখি হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে। সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে মশা সুরক্ষা আইন পাশ করতে হবে। মশা চাষে সফলতার জন্য ঢাকাসহ দেশের সকল মেয়রদের জাতীয় কৃষি পুরস্কার দিতে হবে।

যখন কোন কিছুতেই মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ সিটি কর্পোরেশন, তখন এই ধরণের ইভেন্টের গুরুত্ব একবারে হেলায় উড়িয়ে দেয়া যায় না বলে মনে করছেন অনেকেই। তরুণরা এখন সমাজ পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেন না বলে অভিযোগ থাকলেও এই ধরণের রম্যাত্মক সমাবেশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙ্গাতে পারে কিনা এবং এই উদ্যোগ কতদূর পর্যন্ত অগ্রসর হয় এটাই দেখার বিষয়।

রম্যাত্মক ওই মহাবেশের যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে-‘বাংলাদেশে মশার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। নতুন প্রজন্মের এই মশারা অসীম সাহসী। দিনের আলোতেও কামড়ায়। দেশব্যাপী হেভীওয়েট মেয়র, পৌরসভার চেয়ারম্যান, উপজেলা ও ইউনিয়েনের চেয়ারম্যান এবং মেম্বরদের পরাজিত করে মশারা তাদরে সাম্রাজ্য বিস্তার করে চলেছে।

অন্যদিকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা কমে আসছে। যেগুলো আছে সেগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। হাতে গনা যায় এমন কয়েকটি স্বাস্থ্যবান বাঘ ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় মূর্তি সেজে দাঁড়িয়ে আছে। আবার কেউ কেউ চাকা লাগিয়ে বাস সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় পশু হিসাবে বাঘের তুলনায় মশার যোগ্যতা বেশী। মশা উড়তে পারে এবং সার্বিক বিচারে মশা বাংলাদেশের সবচাইতে শক্তিশালী পাখি। সকল যোগ্যতা থাকার পরেও মশাকে জাতীয় পাখি হিসাবে ঘোষণা না করা অমানবিক এবং গ্লানিকর।’

আরও ৩ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-
১. মশাকে জাতীয় পশু এবং পাখির মর্যাদা দিতে হবে।
২. সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড রেখে মশা সুরক্ষা আইন পাশ করতে হবে।
৩. মশা চাষে সফলতার জন্য ঢাকাসহ দেশের সকল মেয়রদের জাতীয় কৃষি পুরষ্কার প্রদান করতে হবে।

সমাবেশের ইভেন্টটি ফেসবুকে শেয়ার করে রাজীব রাজ নামের একজন লিখেছেন, ‘এ দেহে যতদিন আছে প্রাণ, মশা তোমাকে করে যাব সম্মান।’ শাকিল রনি নামের একজন লিখেছেন, ‘আসুন নারী নির্যাতন মুক্ত বাংলাদেশ গড়ি। আর কোনো গর্ভবতী মশার উপরে অত্যাচার নিপীড়ন সহ্য করা হবে না।’ ইসমাঈল সচিপ নামের একজন লিখেছেন, ‘যেই হারে পাখি দমন করা হচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নাই যে মশাও একদিন কিছু অসাধু ব্যবসায়িদের হাতে পাচার হবে। তাই প্রশাসনকে আমি অনুরোদ করবো যেন তারা খুব তারাতারি এর কাযকরি পদক্ষেপ গ্রহন করে এবং মশাকে জাতীয় পাখি হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।’

ওই ইভেন্টের ডাক দেন ব্লগারস ফোরামের সাবেক সভাপতি এবং অনলাইন এক্টিভিষ্ট আবু সাঈদ আহমেদ বলেন, সংশ্লিষ্টরা সবসময় প্রতিশ্রুতিই দিয়ে যান সমাধানের উদ্দেশ্যে কখনোই কাজ করেন না। তাই এ ব্যতিক্রমী ইভেন্টের ডাক দিয়েছেন তিনি। সাঈদ আরও বলেন, ‘ইভেন্টের মাধ্যমে ডিসেম্বরব্যাপী ব্যাঙ্গাত্বক প্রচারণার বিরুদ্ধে জবাব দানের জন্য হলেও যদি দায়িত্বশীলরা ১০ শতাংশ দায়িত্বপালন করেন তবে মশার অত্যাচার হতে দেশবাসী অনেকটাই পরিত্রাণ পাবে।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে