আপডেট : ৯ মার্চ, ২০১৬ ০৮:৪৫

জামায়াতের হরতাল, সাড়া নেই সাধারণ মানুষের

বিডিটাইমস ডেস্ক
জামায়াতের হরতাল, সাড়া নেই সাধারণ মানুষের

যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতের ডাকা হরতালে সাড়া দিচ্ছেনা সাধারণ মানুষ। প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে বেরিয়েছে তারা। রাস্তায় বেড়েছে কর্মচঞ্চল মানুষের আনাগোনা। দলটির নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় আপিলে বহাল থাকার প্রতিবাদে এ হরতাল দেওয়া হয়।

সকাল-সন্ধ্যার এ হরতাল শুরু হয়েছে বুধবার সকাল ৬টায়। যা একটানা চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও সংবাদপত্র সংশ্লিষ্ট গাড়ি হরতালের আওতামুক্ত রয়েছে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার দলটির পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ গণমাধ্যমে এক বিবৃতি পাঠান।

এতে জানানো হয়, অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও সংবাদপত্র সংশ্লিষ্ট গাড়ি হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।

২০১৪ সালের ২ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেমকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

আটজনকে নির্যাতনের পর হত্যা ও মরদেহ গুম এবং ২৪ জনকে অপহরণের পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন নির্যাতনকেন্দ্রে আটকে রেখে নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী ১৪টি অপরাধের দায়ে ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত হন মীর কাসেম আলী।

এ ১৪টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি প্রমাণিত হয় ট্রাইব্যুনালের রায়ে, বাকি ৪টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেননি প্রসিকিউশন। ফাঁসি ছাড়া প্রমাণিত অন্য ৮টি অভিযোগে আরও ৭২ বছরের কারাদণ্ডাদেশ পান তিনি।

এরপর রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ৩০ নভেম্বর খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন মীর কাসেম আলী। তবে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ মঙ্গলবারের রায়েও মীর কাসেমের ফাঁসি বহাল রাখে।

এর প্রতিবাদে জামায়াতের পক্ষ থেকে হরতাল ডাকা হলে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাজধানীসহ দেশের কোথাও মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নাশকতা এড়াতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীতে ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহসিন রেজা জানান, জামায়াতের হরতালকে কেন্দ্র করে নাশকতা প্রতিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীতে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই রাজধানী জুড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহল ও চেকপোস্ট বৃদ্ধি করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যদের রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় বার বার টহল দিতে দেখা যায়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার জানান, যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত। এখন পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তেমন কোন ঘটনা কেউ ঘটানোর চেষ্টা করলে রাজধানী বাসিন্দাদের জানমাল রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা অবশ্যই উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে