আপডেট : ৮ মার্চ, ২০১৬ ১৫:৪০

‘নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে’-প্রধানমন্ত্রী

বিডিটাইমস ডেস্ক
‘নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে’-প্রধানমন্ত্রী

যে ভাবেই হোক নারীদের নিজের কর্মসংস্থান করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। তাহলেই পরিবার ও সমাজে নারীদের মর্যাদা বাড়বে, দাম পাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন তিনি।

নারীদের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বার বার বলে গেছেন নারীর অধিকারের কথা। বর্তমান সরকারও নারীদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চাই নারীরা সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাক।’

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত মা-বোনকে স্মরণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পরে মা-বোনেরা বিভিন্ন অসুখে ভুগছিলেন। বঙ্গবন্ধু বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে তাদের চিকিৎসা করিয়েছেন। নারীর পুনর্বাসন বোর্ড করে দিয়েছেন। সেই নারীদের বীরাঙ্গনা খেতাব দিয়েছেন। অনেককেই সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমার মনে পড়ে, আমাকে নিয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে যেতেন সেই নারীদের দেখতে। সুস্থ হলে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘সব পিতা-মাতা তো তাদের গ্রহণ করতে চায়নি। কাজেই অনেকেই হয়তো পরিচয় দিতে চায়নি। তখন প্রশ্ন এসেছিল এদের বিয়ে দিতে গেলে বাবার নাম কী লেখা হবে? জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘‘লিখে দাও বাবার নাম শেখ মুজিবুর রহমান। বাড়ির ঠিকানা ধানমণ্ডি-৩২ নম্বর।’’ সে ভাবেই আমার মা দাঁড়িয়ে থেকেও অনেককে বিয়ে দিয়ে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজ স্বাধীন। বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রকে আমার গড়ে তুলতে চাই উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে। একটি দেশ উন্নত সমৃদ্ধ করতে হলে সমাজের সকলেরই উন্নত সমৃদ্ধ হতে হবে। সকলের উন্নতি না হলে একটা দেশ কখনও উন্নত হতে পারে না।’

‘অধিকার মর্যাদায় নারী-পুরুষ সমান সমান’ এবারের নারীদের প্রতিপাদ্য যথাযথ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে জাতির পিতা আমাদের যে সংবিধানে দিয়ে গেছেন সেখানে সবার কথাই বলা আছে। সেখানে তিনি নারীর অধিকারের কথা বার বার বলেছেন। সংবিধানের ১৯ ও ২৮ অনুচ্ছেদের তা তিনি নিশ্চিত করে দিয়ে গেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি সমাজের উন্নয়ন করতে হলে পূর্ণাঙ্গভাবেই করতে হয়। সেখানে প্রায় অর্ধেকের বেশি নারী। সমাজের একটি অংশকে অবহেলিত রেখে আরেকটি অংশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় না। মানবদেহের একটা অংশ পঙ্গু হয়ে গেলে আরেকটি অংশ নিয়ে চলাফেরা কত কষ্টের সেটা সবাই উপলব্ধি করতে পারেন। সেই বিবেচনা করেই আমাদের সবাইকে এগুতে হবে। চিন্তা করতে হবে সমাজের সবাইকে একসঙ্গে উন্নয়ন করব।’

‘আমাদের ইসলাম ধর্মই একমাত্র ধর্ম সেখানে একজন নারীই প্রথম ধর্ম গ্রহণ করেছে। তিনি বিবি খাদিজা। ধর্মের নাম নিয়ে কখনও কাউকে পেছনে ফেলে দেওয়ার সুযোগ নেই। ইসলাম ধর্মই নারীদের সমান সুযোগ দিয়েছেন। স্বামীর সম্পদে যেমন অধিকার তেমনি পিতার সম্পদেও অধিকার রয়েছে। এটা একমাত্র ইসলাম ধর্মেই দেওয়া আছে। অন্য কোনো ধর্মে নাই’ যোগ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘সারাবিশ্বে ৭০ শতাংশ নারী ও শিশু দারিদ্র্যের হারে তারাই সব চেয়ে বেশি কষাঘাতে জর্জরিত। তারা মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। নানাভাবে অবহেলিত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধে সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারী ও শিশুরা। এ বিষয়ে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। সচেতনা সৃষ্টি করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কারো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকলে চলবে না। নিজেদের ভাগ্য নিজেদের গড়তে হবে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলতে হবে। তবেই মর্যাদা পাওয়া যাবে। কেঁদে কেঁদে ফিরলে মর্যাদা কেউ হাতে এনে দেয় না বরং করুনা করে। আর করুনা ভিক্ষা নিয়ে তো মেয়েরা বাঁচতে পারে না। কাজেই নিজের মর্যাদাটা নিজেকেই অর্জন করতে হবে নিজের কর্মের মধ্যে দিয়ে, আত্মবিশ্বাসের মধ্য দিয়ে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বে আজ দৃষ্টান্ত বিশ্বে একটি মাত্র দেশও নেই যেখানে সরকার প্রধান, সংসদের স্পিকার, সংসদের উপনেতা, বিরোধী দলের নেতা, চারজনই নারী। এ দৃষ্টান্ত অন্তত পৃথিবীর আর কোনো দেশে তৈরি করতে পারে নাই। অনেক উন্নত দেশ যারা সারা পৃথিবীর মোড়লগিরি দেখায় তারাও করে দেখাতে পারে নাই। ভোটের অধিকারও দিয়েছে অনেক পরে। সেদিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো অনেক বেশি অগ্রগামী।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে