আপডেট : ৪ মার্চ, ২০১৬ ১৯:৪৮

‘তালাক দিতে পারবে হিন্দু নারীরাও’

বিডিটাইমস ডেস্ক
‘তালাক দিতে পারবে হিন্দু নারীরাও’

‘হিন্দু ধর্মের সনাতন পন্থীরা এখনো নারীর সমান অধিকার ঠিকমতো মেনে নিতে পারছেনা। তারা অনেক যুক্তি দেখিয়েছেন। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে যখন হিন্দু দায়ভাগা আইন প্রনীত হয়েছিল, সেটিতে হিন্দু বিধবা নারীদের সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ১৮৭২ সালে আইন করে হিন্দু বিধবাদের সম্পত্তির অধিকার দেওয়া হয়। ভারতবর্ষে ১৯৫৫ সালে হিন্দু বিবাহ আইন ও হিন্দু সম্পত্তি আইন প্রনীত হয়েছে। সেই আইনেই নারী পুরুষের সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে’ হিন্দু বিবাহ আইন প্রনয়নে নাগরিক কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় কথাগুলো বলেন বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ।

৪ মার্চ শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর আসাদ এভিনিউর সিবিসিবি মিলনায়তনে হিন্দু বিবাহ আইন প্রনয়নে নাগরিক কমিটি একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন হাহকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছবি বিশ্বাস এমপি ও উন্নয়ন গবেষক প্রতিমা পাল। আলোচনায় অংশ নেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, বাঁচতে শেখার নির্বাহী পরিচালক অ্যাঞ্জেলা গোমেজ প্রমূখ।
বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ আরো বলেন, ‘বর্তমান হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইনে বিয়ে নিবন্ধন ঐচ্ছিকের বিধান রাখা হয়েছে। সাফল্যের চুড়ায় উঠতে গেলে অনেকগুলো সিড়ি অতিক্রম করতে হয়।’ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইনটিও একসময় সাফল্যের চুড়ায় পৌছাবে এবং এই আইনে বিবাহ নিবন্ধন আবশ্যিক করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ছবি বিশ্বাস এমপি বলেন, ‘পৃথিবীর বেশকিছু উন্নত দেশে বিবাহিত হিসেবে ভিসা পেতে বিয়ে নিবন্ধনের কপি জমা দিতে হয়। জন্ম, মৃত্যু ও বিবাহ নিবন্ধন একটি দেশের যে কোনো পরিসংখনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখন যুগের দাবী হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা।
শাহীন আনাম বলেন, ২০১২ সারে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন প্রনীত হয় এবং ২০১৩ সালে সেই আইনের বিধিমালা করা হয়। আইন ও বিধিমালাতে নিবন্ধনের বিষয়টি ঐচ্ছিক করা হয়। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই আইন প্রনীত হলে হিন্দু নারীদের অধিকার নিশ্চিত হবে। যেকোনো হিন্দু নারী-পুরুষ এই আইনে বিবাহ বিচ্ছেদ করতে পারবে। এবং কোনো নারী তার অধিকারে জন্য আদালতে মামলাও করতে পারবে।’
অনুষ্ঠানস্থলে দেড় শ’ জুটি তাদের বিবাহ নিবন্ধন সম্পন্ন করেন।

উপরে