আপডেট : ২ মার্চ, ২০১৬ ১৩:৫৫
বনশ্রীতে ভাই-বোন হত্যা

বাবা-মা, খালাকে ঢাকায় এনেছে র‌্যাব

বিডিটাইমস ডেস্ক
বাবা-মা, খালাকে ঢাকায় এনেছে র‌্যাব

রাজধানীর রামপুরার বনশ্রীতে ভাই-বোন হত্যার ঘটনা তদন্তে তাদের বাবা-মা ও খালাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় আনা হয়েছে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য জামালপুর থেকে বুধবার সকালে নিহতদের বাবা পোশাক ব্যবসায়ী মো. আমানুল্লাহ, মা মাহফুজা মালেক জেসমিন ও খালা আফরোজা মালেক নীলাকে ঢাকায় আনা হয়েছে।

দুই সন্তানের মরদেহ মর্গে রেখে বাবা-মায়ের গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় এবং মামলা না করায় এ ঘটনা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে জামালপুর কবরস্থানে দুই ভাইবোনের লাশ দাফনের পর র্যাবের সদস্যরা বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এ ছাড়া কাল বনশ্রীর বি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের বাসা থেকে দুই দারোয়ান, দুই গৃহশিক্ষিকা ও এক স্বজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাব-৩-এর ক্যাম্পে নেওয়া হয়।
দুই শিশুর মৃত্যুর পর গত সোমবার রাতে চায়নিজ রেস্তোরাঁর যে তিন কর্মচারীকে আটক করা হয়েছিল, গতকাল তাঁদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মৃত দুই শিশু নুসরাত আমান (১২) ও আলভী আমানের (৬) লাশের ময়নাতদন্তের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, শিশু দুটিকে হত্যা করা হয়েছে। দুজনের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন আছে। নিশ্চিত হতে তাদের পাকস্থলী, কিডনি ও যকৃতের নমুনা মহাখালীর রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।’
লাশের ময়নাতদন্ত করেছেন—এমন একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিশু দুটিকে খুব সম্ভবত গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। এমন হতে পারে, শিশু দুটির মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। দুজনেরই জিব কামড়রত অবস্থায় ছিল। গলার মাঝখানে ও চিবুকে নখের আঁচড় ছিল ও চোখে রক্ত জমাট বেঁধে ছিল। সাধারণত কাউকে গলা টিপে হত্যা করলে জিব কামড়রত অবস্থায় থাকে। ওদের পাকস্থলীতে থাকা খাবারের অংশেও অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায়নি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে
 

উপরে