আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৬:২৯

ফুটপাতের গ্যাসমিস্ত্রীর সার্টিফিকেট আর বাড়ীওয়ালার অবহেলা!

বিডিটাইমস ডেস্ক
ফুটপাতের গ্যাসমিস্ত্রীর সার্টিফিকেট আর বাড়ীওয়ালার অবহেলা!

রাজধানীতে বাড়ীওয়ালার গাফিলতি আর অবহেলায় প্রায়শই দূর্ঘটনা ঘটছে। আর এসব দূর্ঘটনায় ঘটছে প্রাণহানির ঘটনাও। এত্তসব কিছুর পরেও কঠোর নজরদারী ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় দূর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর মিছিল যেন বাড়ছেই সমান তালে। তবে এসব দূর্ঘটনায় বাড়ীওলাদের মুখ্য ভূমিকা থাকলেও ওইসব বাড়ীওলা ঘুরছেন বহাল তবিয়তে।

সম্প্রতি উত্তরার একটি বাড়ীতে আগুন লাগার ঘটনায় সে কথাই আবার মনে করিয়ে দিল। ওই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় একই পরিবারের অগ্নিদগ্ধ পাঁচজনের মধ্যে এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হলেও এখনো বহাল তবিয়তে আছেন বাড়ীর মালিক দুই বন্ধু দেলোয়ার হোসেন ও মইনুদ্দিন।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি ওই ফ্ল্যাটের প্রথম ভাড়াটে হিসেবে সপরিবারে উঠেছিলেন প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ। সম্প্রতি ওই ফ্ল্যাটে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়। বাড়িতে উঠে চুলা লাগানোর পর শাহনেওয়াজ দেখেন, সেখানে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে না। বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ও মালিককে তিনি জানান, সংযোগে ছিদ্র আছে এবং সেটি ঠিক করতে হবে। ডাকা হয় মিস্ত্রি। গাজীপুর থেকে আসা সেই মিস্ত্রি কোনোমতে পরীক্ষা করে বলেন, লাইনে সমস্যা নেই। চুলা পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দেন তিনি। তবে শাহনেওয়াজ ও তাঁর স্ত্রী বলেন, এই চুলায় আগে কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। চুলায় কোনো ছিদ্র বা ত্রুটি আছে কি না তা-ও বলেননি মিস্ত্রি। এর পরও রান্নাঘরে গ্যাসের গন্ধ পেয়ে বাড়ির মালিক ও তত্ত্বাবধায়ককে জানান শাহনেওয়াজ। তবে কোনো প্রতিকার করেননি তাঁরা।

গত শুক্রবার ভোরে রান্নাঘরে গ্যাস বিস্ফোরণে সপরিবারে দগ্ধ হন প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ। ওই দিনই ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে মারা যায় তাঁর দুই ছেলে।গতকাল শনিবার মারা যান শাহনেওয়াজও। তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া বেগম বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।    

গতকালও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ওই বাড়ির মালিক দেলোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের চরম অবহেলার কারণেই ছারখার হয়ে গেছে ভাড়াটিয়া শাহনেওয়াজের পরিবার। তবে এ দায় থেকে নিজেকে ‘সুরক্ষিত’ রেখেছেন দেলোয়ার হোসেন। গতকাল পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। স্থানীয় লোকজন বলছে, পুলিশ বাড়ির মালিক ও কর্মচারীদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও পরে ছেড়ে দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ী দেলোয়ারের সঙ্গে ‘গোপন সমঝোতা’ করে পুলিশ অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগের মামলা নেয়নি। বরং ময়নাতদন্তের ‘ঝামেলা’ হবে বুঝিয়ে শাহনেওয়াজের স্বজনদের দিয়ে অপমৃত্যু করিয়েছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, শাহনেওয়াজের স্বজনরা কোনো অভিযোগ করেনি।

এদিকে শনিবার পর্যন্ত দেলোয়ারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁর কর্মচারীদের দাবি, গ্যাসের সংযোগ নয়, চুলা থেকেই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। 

এদিকে রাজধানীতে গত ১৪ মাসে গ্যাসের আগুনে ২৪ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মর্মান্তিক কয়েকটি ঘটনার ব্যাপারে খোঁজ নিয়েও মিলেছে একই ধরনের তথ্য। সব ঘটনায়ই বাড়িওয়ালাদের অবহেলা থাকলেও তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। একটি ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ আসামি গ্রেপ্তার করেনি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে 

উপরে