আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১০:২২

নগরে নতুন চমক, হাতিরঝিলে ডলফিন শো, টিকেট কেটেছেন তো?

বিডিটাইমস ডেস্ক
নগরে নতুন চমক, হাতিরঝিলে ডলফিন শো, টিকেট কেটেছেন তো?

ডলফিনের খেলা দেখার জন্য এখন আর বিদেশে যেতে হবে না কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় চোখ মেলে তাকিয়ে থাকতে হবে না। এবার দেশেই ডলফিন শো হবে, শুরু হবে রাজধানীর হাতিরঝিলে; পরে পর্যায়ক্রমে শহর ও পর্যটন কেন্দ্রে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী গতকাল শনিবার বলেন, ‘দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য একটি বেসরকারি সংস্থা রাজধানীর হাতিরঝিল, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় ডলফিন শো করতে চায়। সরকার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছে। এখন বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে হচ্ছে। এ নিয়ে আগামীকাল  আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক হবে।’

উল্লেখ্য, বৈঠকটি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।চলতি বছরকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করেছে সরকার। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসবের মধ্যে ডলফিন শো-ও রয়েছে। বেসরকারি সংস্থা ইন্ডিগো বিডি গ্রুপ অনেক দিন ধরেই রাজধানীর হাতিরঝিলে ডলফিন শো আয়োজনের চেষ্টা করছে। তাদের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হতে যাচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ইন্ডিগো বিডি হাতিরঝিলে ২০ হাজার বর্গফুট জায়গা চেয়েছে। কার পার্কিংয়ের জন্য আলাদা জায়গা চেয়েছে তারা। এ জায়গা তারা ছয় মাসের জন্য চেয়েছে। সফল হলে তারা এ শো স্থায়ীভাবে করবে। বিভাগীয় শহর ও বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রেও শো করবে তারা।

শো করার জন্য সংস্থাটি বঙ্গোপসাগর থেকে ১২টি ডলফিন ধরার এবং বিদেশে নিয়ে প্রশিক্ষিত করার অনুমতি চেয়েছে। অনুমোদন দেওয়া হবে কি না, তা ঠিক করতেই আজকের আন্তমন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় মত্স্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়কে মতামত উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও পূর্ত মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তাদের মতামত উপস্থাপন করবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ডলফিনের খেলা দেখিয়ে বিশ্বের অনেক বড় শহর পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। কাছের দেশ থাইল্যান্ডে অনেক মানুষ যায় ডলফিন শো দেখার জন্য। শুধু বিদেশি পর্যটক নয়, দেশের মানুষেরও বিনোদনের বিষয় হবে ডলফিন শো। তিনি বলেন, ঢাকার মানুষের চিত্তবিনোদনের জায়গার বড় অভাব। ফলে হাতিরঝিলে আয়োজন করা হলে মানুষের ঢল নামবে। সব দিক থেকেই এটি লাভজনক হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, সমস্যা হচ্ছে বঙ্গোপসাগর থেকে ডলফিন ধরা নিয়ে। ইন্ডিগো গ্রুপ ১২টি ডলফিন ধরতে গিয়ে কতগুলো ধরবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এসব বিষয় নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে। পরিবেশবাদীরা আপত্তি জানাতে পারে। তাই এ আয়োজনে অনুমতি দেওয়ার আগে সরকার সব দিক বিবেচনা করতে চাচ্ছে।

ইন্ডিগো বিডির কর্মকর্তারা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বলেছেন, এই শো করতে খরচ অনেক। তাঁরা সরকারি জায়গা বরাদ্দ ছাড়াও বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডকে স্পনসর হিসেবে চান। কিছু অর্থ সহায়তাও তাঁদের প্রয়োজন। তাঁরা আরো বলেছেন, নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি ডলফিন ধরার সুযোগ নেই। কারণ এ জন্য কোস্টগার্ডের সহায়তা নেবেন তাঁরা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

 

উপরে