আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২২:৩২

ফোরজি কাজ করবে না ৩ কোটি স্মার্টফোনে, কিনতে হবে নতুন ফোন

এস.এম বাপ্পী
ফোরজি কাজ করবে না ৩ কোটি স্মার্টফোনে, কিনতে হবে নতুন ফোন

এবছরই দেশে চালু হচ্ছে ফোরজি। কিন্তু থ্রিজি যেখানে সর্বত্র ঠিকমত পৌঁছায়নি। সেখানে ফোরজি দিয়ে কি হবে। এরচেয়ে মারাত্মক দুঃসংবাদ আছে দেশের ৩ কোটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য। তা হচ্ছে, এইসব স্মার্টফোনগুলোতে বেশীর ভাগেই ফোরজি নেই। অর্থাৎ ফোরজি পেতে হলে ফোরজি সাপোর্ট করে এমন মোবাইল ব্যবহার করতে হবে।

বাংলাদেশ মোবাইল ফোন আমদানিকারক সমিতির (বিএমপিআইএ)তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি। ২০১৩ সালের অক্টোবর থেকে দেশে থ্রিজি ইন্টারনেট সেবা শুরু হওয়ার পর থেকে স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে মনে করছে বিএমপিআইএ। এই ৩ কোটি গ্রাহকদের মধ্যে ৯৬ ভাগের হাতেই থ্রিজি সাপোর্ট করে এমন হ্যান্ডসেট। হাতেগোনা কয়েকজনের হাতে ফোরজি ফোন।

ফোরজি চালু হওয়ার পর কি থ্রিজি হ্যান্ডসেটগুলো অকেজো হয়ে যাবে? এমনই শঙ্কা তৈরি হয়েছে সাধারণ গ্রাহকদের মনে।

এ ব্যাপারে গ্রামীণফোনের কর্মকর্তা তৌহীদ রহমান বিডিটাইম৩৬৫ডটকমকে বলেন, আমাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে এমন প্রশ্ন শুনেছি। তবে এ নিয়ে গ্রাহকদের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। যাদের মোবাইল থ্রিজি ফাংশনের তারা ফোরজি ব্যবহার না করতে পারলেও থ্রিজি ব্যবহার করতে তাদের কোন সমস্যা হবেনা। ফোর জি আসা মানেই তো থ্রি জি বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। তবে ফোরজি সাপোর্ট পেতে হলে অবশ্যই ফোরজি সাপোর্ট স্মার্টফোন কিনতে হবে।

ফোরজি ব্যবহারে গ্রাহকরা কি ধরণের সুবিধা পাবে এই ব্যাপারে তিনি বলেন,  ফোরজির সুবিধায় গ্রাহকরা টেলিভিশন দেখা, ভিডিও কল করা থেকে শুরু করে অনলাইনে কেনাবেচা, দ্রুতগতিতে সামাজিক যোগাযোগ করতে পারবে, ফলে তথ্য ও বিনোদন পাওয়া আরও সহজতর হবে। মুঠোফোনেও অ্যাপ্লিকেশনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যাবে। ব্যবসার ক্ষেত্রে ফোরজির সুবিধা হবে সবচে বেশি। দ্রুতগতির মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধায় ই-কমার্স বাড়বে। তথ্য ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে।

গ্রাহকদের অভিযোগের ব্যপারের ভিন্ন কথা বললেন সিম্ফনির কর্মকতা মোবারক হোসেন। তিনি বিডিটাইমস৩৬৫ডটকমে বলেন তাঁদের কোম্পানি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি মডেলের ফোন বাজারে এনেছে যেগুলোতে ফোরজি সেবা রয়েছে। কিন্তু গ্রাহক কম। কারণ হিসাবে তিনি মনে করেন ফোরজি সম্পর্কে এখনো গ্রাহকরা খুব বেশি জানেনা।

ওই কর্মকর্তার কথার প্রেক্ষিতে কথা হয় মোবাইল কিনতে আশা এক গ্রহকের সঙ্গে, তিনি বলেন আমরা থ্রিজি সেবাই তো ঠিক মত পাচ্ছিনা সেখানে ফোরজি সেবা কতটুকু পাবো এই নিয়ে বেশ সন্দেহ আছে। তিনি আরো বলেন ৩জির অবস্থা খুবই হতাশাজনক সেটি ব্যবস্থা না করে না করে উল্টো ফোরজি। তিনি ফোরজির ব্যপারে অনাগ্রহ প্রকাশ করে বলেন,  ফোরজি মোবাইলের দামটা একটু বেশী, সে দাম দিয়ে অনেক ভালো কনফিগারেশনের থ্রিজি মোবাইল পাওয়া সম্ভব। সঠিক থ্রিজি সেবা পেলে ফোরজির প্রয়োজন নেই। 

যেখানে থ্রিজি সর্বত্র ঠিক মত পৌঁছায়নি সেখানে ফোরজি কতটা যুক্তিসম্মত, এমন প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিআরসির এক কর্মকর্তা বিডিটাইমস৩৬৫ডটকমে জানান, ইতোমধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট তারানা হালিম ঘোষণা দিয়েছেন দেশের থ্রিজি নেটওয়ার্কের আওতার বাইরের সকল স্থানকে চিহ্নিত করে দ্রুত থ্রিজি নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত করা হবে। এর পাশাপাশি থ্রিজির মানোন্নয়ন করে সেবা নিশ্চিত করা হবে। বিটিআরসি সে অনুযায়ী কাজ করছে।

চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল সেবা বা ফোরজি সেবার অন্যতম নিয়ামক ডিভাইস (স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ফ্যাবলেট, ইন্টারনেট মডেম ইত্যাদি)। কমমূল্যে ডিভাইস সরবরাহ করে ফোরজি সেবাকে স্বল্প আয়ের মানুষের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায় দেশীয় ব্র্যান্ড ‘সিম্ফনি’। এমনই উল্লেখ করে সিম্ফনির এক কর্মকর্তা জানান, ফোরজি’র জন্য দেশের ডিভাইস মার্কেট প্রস্তুত। এখন শুধু নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার কাজ বাকি। তবে ফোরজিকে জনপ্রিয় করতে এই সেবার সাশ্রয়ী দামের পাশাপাশি স্থানীয় কনটেন্ট তৈরিতে ব্যাপক প্রস্তুতি প্রয়োজন।

টেলিকম বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশে এখনও ফোরজি টেলিফোন চালু করার বাজার তৈরি হয়নি। কেননা এখনো দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ প্রযুক্তি সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। এছাড়া বেশিভাগ মানুষের দামী হ্যান্ডসেট কেনার সক্ষমতা নেই। ফলে থ্রিজি গ্রাহকের সংখ্যাই বাড়ছে খুবই ধীরগতিতে। উন্নত দেশগুলোতে ফোরজি ফোন চালু হলে সেখানেও গ্রাহকরা ব্যয় বহন করতে পারছেন না। অনেকে ফোরজি ছেড়ে দিয়ে থ্রিজি ও টুজিতে ফিরে এসেছে। এখনই দেশে ফোরজি চালু করা হলে অল্প কিছু মানুষ এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। বাকি গ্রাহকরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সে তুলনায় বাড়ছে না গতি। টুজি থেকে ২০১৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে থ্রিজিতে উন্নিত হয়েছে বাংলাদেশ। এ বছর দেশে ফোরজি সেবা চালু হচ্ছে।

দেশে থ্রিজি চালু হওয়ার পর থেকে স্মার্টফোন বিক্রি ক্রমশ বাড়ছে। সব থেকে বেশি  বিক্রি হচ্ছে দেশীয় ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন। এ তালিকায় সবার উপরে রয়েছে সিম্ফনি। এরপর বাংলাদেশি আরেক ব্র্যান্ড ওয়ালটনের অবস্থানও শীর্ষ তালিকায়।

স্মার্টফোন ক্যাটাগরিতে স্যামসাংও ভালো করছে। স্মার্টফোন বাজারের একটি বড় অংশ দখলে রেখে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে কোরিয়ান এ কোম্পানিটি। এছাড়া অন্যান্য ব্র্যান্ডের মধ্যে নকিয়া এবং ম্যাক্সিমাস উভয় কোম্পানিই ভালোভাবে ধরে রাখছে তাদের মার্কেট।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম

উপরে