আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০৮:৫১

পিলখানা ট্রাজেডির সাত বছর

বিডিটাইমস ডেস্ক
পিলখানা ট্রাজেডির সাত বছর

পিলখানা ট্রাজেডির সাত বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তখনকার বিডিআরের জওয়ানরা বিদ্রোহের ঘোষণা দিয়ে হত্যা করে বাহিনীর মহাপরিচালকসহ ৫৭ সেনা কর্মকর্তাকে। নৃশংসতার শিকার হন গৃহকর্মী, সবজি বিক্রেতা, রিকশা চালক, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষও।

লোমহর্ষক সেই ঘটনার নেপথ্যের কারণ বের করতে বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন স্বজন হারানো সেনা পরিবারের সদস্যরা।

২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি। পিলখানায় চলছিল তৎকালীন বিডিআরের বার্ষিক দরবার ।

সকাল ৯টা ২৭ মিনিট। একদল বিপথগামী সদস্য বিদ্রোহের নামে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হত্যা শুরু করে। ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টায় তাদের হাতে নিহত হন সেনাবাহিনীর ৫৭ কর্মকর্তা, দু’জন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, নয় জন বিডিআর সদস্য ও পাঁচ বেসামরিক ব্যক্তি।

২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অস্ত্র জমা দিয়ে জওয়ানদের ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। অন্যথায় দেশবাসীর স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এতে বিদ্রোহীদের মনোবল ভেঙে পড়ে। রাতে অস্ত্র জমা দিতে বাধ্য হয় তারা।

২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি মামলা হয়। ২০১৩ সালের হত্যা মামলার রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদে ২৬২ জনকে সাজা দেওয়া হয়। তবে, এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে খালাস পান ২৭৭ জন। আবার এদের মধ্যে ৬৯ জন আসামির সাজা চেয়ে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এখন এসব ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি চলছে। তবে বিস্ফোরক আইনের মামলার বিচার এখনো চলছে।

এছাড়া বিদ্রোহের অপরাধে বাহিনীর প্রায় ছয় হাজার সদস্যের বিচার হয়েছে বিডিআরের নিজস্ব আইনে। তবে এতদিনেও পিলখানা ট্রাজেডির নেপথ্যের ঘটনা উন্মোচিত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ শহীদ সেনা পরিবারের সদস্যরা।

২৫শে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ সেনা দিবস হিসেবে পালন ও দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করার দাবিও জানিয়েছেন স্বজনহারা পরিবারের সদস্যরা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে