আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৮:৫৬

সাত বিভাগে বিভক্ত হচ্ছে তিন ‘মন্ত্রণালয়’

সাত বিভাগে বিভক্ত হচ্ছে তিন ‘মন্ত্রণালয়’

স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভেঙে সাতটি বিভাগ করা হচ্ছে। এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ভেঙে তিনটি এবং স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ভেঙে দুটি করে বিভাগ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে তারা দুটি মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুশাসন পাঠিয়েছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিধি বড় হওয়ায় আরেকটু আলোচনা করে দুটি বিভাগ করার অনুশাসন দেওয়া হবে। নতুন এসব বিভাগ সৃষ্টি হলে আলাদা করে সচিবের পদও তৈরি হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন পেয়েছেন। এ বিষয়ে কাজও শুরু করেছেন। মন্ত্রণালয়ে চলছে এখন অ্যালোকেশন অব বিজনেস তৈরির কাজ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক আজিমুদ্দিন বিশ্বাসের স্বাক্ষরে একটি চিঠি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দুটি বিভাগে রূপান্তরে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের বিষয়ে জানানো হয়। গতকাল এ বিষয়ে অনুশাসন পেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আগে পাঠানো হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে অনুশাসন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের ব্যাপকতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে একে দুটি বিভাগে রূপান্তর করা হয়। অনুশাসন অনুযায়ী নতুন দুই বিভাগের নাম হবে জননিরাপত্তা বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা সেবা বিভাগ। বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা জননিরাপত্তা বিভাগের অধীনে থাকবে।
বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীনে থাকবে।
বিভাগ করার বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোজাম্মেল হক খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভারতসহ অন্যান্য দেশে মন্ত্রণালয়ে আলাদা বিভাগ থাকে। তাতে কাজের সুবিধা হয়। যেমন আমাকে একা ১০টি বিভাগ চালাতে হয়। কাজের প্রচণ্ড চাপ। অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ভেঙে তিনটি বিভাগ করার অনুশাসন দিয়ে চিঠি পাঠায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। শিক্ষাকে ভেঙে উচ্চশিক্ষা বিভাগ, মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাস্টার্স, অনার্স ও ডিগ্রি কলেজ; মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের অধীনে প্রাথমিকের পর থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে থাকবে সব ধরনের কারিগরি, ভোকেশনাল ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
জানতে চাইলে শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়য়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত চেয়ে চিঠি দিয়েছি। এত কাজের চাপ বিভাগ করা ছাড়া সামলানো মুশকিল।’
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বাসুদেব গাঙ্গুলি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা অনেক বড় মন্ত্রণালয়। আমি তো মনে করি ফ্যামিলি প্ল্যানিং, চিকিৎসা, প্রশাসন—এগুলোর জন্য আলাদা বিভাগ করা অত্যন্ত জরুরি।’
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, তিনটি মন্ত্রণালয়ই এ বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করছে। প্রস্তাব তৈরির পর সচিব কমিটির অনুমোদন নিয়ে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। তারপর এই বিভাগগুলো কার্যকর করা হবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে