আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০০:৫৮

দুই বছরেই নারকেল ধরবে গাছে, ফলনও চারগুন!

বিডিটাইমস ডেস্ক
দুই বছরেই নারকেল ধরবে গাছে, ফলনও চারগুন!

দুই বছরেই গাছে নারকেল ধরবে। নারকেল ঝুলবে মাটিতে। গাছে না উঠেই হাত দিয়ে শিশুরাও নারকেল পাড়তে পারবে। এমনকি দেশী জাতের চেয়ে এই নারকেলের ফলন হবে চারগুন বেশি। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয় ভিয়েতনাম থেকে এই ‘ম্যাজিক নারকেল’এর ২০ হাজার চারা আমদানী করেছে। চলতি বছর আরো ৭৫ হাজার চারা আমদানী করা হবে। এই চারা দক্ষিণাঞ্চলের ১৮টি জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে রোপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদেশে থাই পেয়ারার প্রবক্তা কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান ভিয়েতনামে গিয়ে সিয়াম গ্রীন কোকোনাট ও সিয়াম গ্লু কোকোনাট নামে উচ্চ ফলনশীল নারিকেলের দু’টি জাত সনাক্ত করেন। তিনি ভিয়েতনামের মাঠ ঘাট চষে নিবিড় অনুসন্ধানের পর ওই দু’টি উচ্চ ফলনশীল নারকেলের জাত সনাক্ত করেন। এর বৈশিষ্ট হলো নারকেল থেকেই চারা হবে। দুই থেকে আড়াই বছরে গাছে নারিকেল ফলবে। প্রতিটি ডাব থেকে ৩০০ মিলি লিটার পানি পাওয়া যাবে। এবং পানি খুবই মিষ্টি এবং সুগন্ধীযুক্ত। বেঁটে প্রজাতির হওয়ার কারণে গাছ থেকে নারকেল পাড়াও সহজ হবে।

 ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এই প্রকল্পের অধীন প্রথম ধাপে ভিয়েতনাম থেকে ২০ হাজার নারকেলের চারা আনা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে আরও সাত লাখ ৫০ হাজার চারা আনা হবে।

প্রকল্প পরিচালক মেহেদী মাসুদ বলেন, ‘বছরে দেশী একটি গাছে ৫০ থেকে ৬০টি নারকেল ধরলেও আমদানীকৃত এই গাছে গড়ে ২০০টি নারকেল ধরবে। বেটে প্রজাতি হওয়ার কারণে ঝড়ে এই গাছ ভাঙার কোন ভয় নেই। শুধু নারকেল উৎপাদনই নয়, এই জাতটি নারকেলজাত শিল্পেরও সম্প্রসারণ ঘটাবে বলে জানান তিনি।’

মাগুরার একজন নার্সারি মালিক জানান ‘দেশে এখনও বেঁটে প্রজাতির নারকলের কোন জাত নেই। এই ম্যাজিক নারকেল জাতটির খবর পেয়ে অনেকেই আমাদের কাছে চারা কেনার জন্য আসছেন। আমরা কৃষক পর্যায়ে আগে এলে আগে ভিত্তিতে চারা বিক্রি করছি। নিজেরাও চারা লাগিয়ে পরবর্তিতে চারা তৈরি করবো।’

উপরে