আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২০:৩৪

১০-১৫ টাকা কেজিতে চাল দেবে সরকার

বিডিটাইমস ডেস্ক
১০-১৫ টাকা কেজিতে চাল দেবে সরকার

দেশে এখনও অনেক গরিব পরিবার রয়েছে, তাদের কথা মাথায় রেখে সরকার দেশে প্রায় এক কোটি গরিব পরিবারের কাছে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করতে চাচ্ছে সরকার। রেশনিংয়ের আওতায় এনে দুই-এক মাসের মধ্যে এ চাল বিক্রি শুরু করারও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১০ থেকে ১৫ টাকা দরে প্রতি কেজি চাল বিক্রি করার একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক সুকুমার চন্দ্র রায় জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি গরিব পরিবার রয়েছে। এই ১ কোটি গরিব পরিবারকে রেশনিংয়ের আওতায় ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়া হবে।

তিনি জানান, আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ১০ টাকা কেজিতে চাল দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু খাদ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাব দিয়েছে ১৫ টাকা কেজি। এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেবে কত টাকা কেজিতে চাল দেওয়া যাবে। যা হউক ১৫ টাকা কেজির ওপরে চালের দাম হবে না বলে তিনি জানান।

খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশে জরুরি অবস্থার জন্য সব সময় সাড়ে ৯ লাখ টন চাল মজুদ রাখা হয়। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন চাল মজুদ রয়েছে। এর বেশির ভাগই মোটা চাল। এই চাল সরকার ক্রয় করেছে ৩১ টাকা কেজি দরে। দুই দফায় চালের দাম কমিয়ে ২৫ টাকা কেজি দরেও এই চাল বিক্রি করা যাচ্ছে না। আবার আগামী এপ্রিলেই বোরো ধান ওঠার সময় হয়ে গেছে। এই সময়ে সাইলোতে জমা রাখা চাল বাজারে ছাড়তে না পারলে নতুন করে চাল ক্রয় করতে পারবে না খাদ্য মন্ত্রণালয়। আর খাদ্য মন্ত্রণালয় চাল ক্রয় না করতে পারলে কৃষিক্ষেত্রে বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, এবারেও বোরো ফসলের বাম্পার উৎপাদন হবে বলে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে। নতুন চাল বাজারে আসার আগেই সরকার পুরনো চাল বিক্রির জন্য এর দাম কমিয়ে দিচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, উৎপাদন বেশি হয় বলে কৃষকরা বিক্রির জন্য মোটা চালের আবাদ করে। কিন্তু দেশে মোটা চালের উৎপাদন মোট উৎপাদনের মাত্র ১০ শতাংশ।

চাল রপ্তানির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, শ্রীলঙ্কায় ৫০ হাজার টন চাল রপ্তানি হয়েছে। প্রথম দিকে ভাঙা চাল নিতে চাননি। পরে খাদ্য মন্ত্রণালয় ভালো চাল পাঠালে তারা তা নিয়ে নেয়। এবারেও চাল রপ্তানির জন্য সরকার চেষ্টা করছে। তবে চাল উৎপাদন হয় এমন সবগুলো দেশেই এবার চালের উৎপাদন ভালো হয়েছে।

অন্যদিকে দেশে মাথা পিছু চালের ব্যবহারও কমে গেছে। মানুষ এখন আর শুধু ভাতের উপর নির্ভরশীল নয়। দেশে এখন মাথাপিছু চালের প্রয়োজন মাত্র ৪৫ থেকে ৪৮ কেজি। আগে ছিল ৬৫ কেজি। মানুষের জীবন যাত্রার মানের উন্নতির জন্যও তারা আর চাল তেমন খাচ্ছে না।

সরকারি চাল ক্রয়ে এবারে কিছু পরিবর্তন আনা হবে বলেও জানিয়েছেন পরিচালক সুকুমার চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, মিলারদের সঙ্গে খাদ্য বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা যোগসাজস করে ভিজা ও নিম্ন মানের চাল ক্রয় করে। এবার চাল ক্রয়ে মনিটরিং জোরদার করা হবে। যাতে প্রকৃত কৃষকরাই খাদ্য গুদামে চাল বিক্রি করতে পারে।

উপরে