আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৬:৪০

প্রতিবন্ধী যুবকের ঘরে মাদক রেখে টাকা আদায়

বিডিটাইমস ডেস্ক
প্রতিবন্ধী যুবকের ঘরে মাদক রেখে টাকা আদায়

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে প্রতিবন্ধী যুবকের ঘরে মাদক রেখে তা উদ্ধারের পর মামলার ভয় দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও কথিত এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার তিন দিন পর গতকাল শনিবার ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য সহকারী পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) মোতাহার হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার আসানবাড়ী গ্রামের প্রতিবন্ধী মামুন হোসেনের বাড়িতে যান তাড়াশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল-মামুন ও কথিত সাংবাদিক হাফিজুর রহমান। তাঁরা মামুন মাদক ব্যবসায়ী এবং তাঁর বাড়িতে ইয়াবা রয়েছে—অভিযোগে বাড়িতে তল্লাশি চালান। এ সময় কথিত সাংবাদিক হাফিজুর ঘরের পাপোশ সরিয়ে এর নিচ থেকে ছয় পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করে পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখান।

মামুন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। হাফিজুর এবং পুলিশ কর্মকর্তা দুজনই রাতে হঠাৎ আমার ঘরে প্রবেশ করেন। সাজানো ঘটনায় ইয়াবা বড়ির কথা বলে মামলার ভয় দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন তারা। আমি হাফিজুরের কথামতো ৩০ হাজার টাকা পুলিশ কর্মকর্তার হাতে দিই। তারা বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য বলে বাড়ি থেকে চলে যায়। হাফিজুর সম্পর্কে আমার ভগ্নিপতি। বিভিন্ন সময়ে আমার কাছ থেকে সে অনেক টাকা ধার হিসেবে নিলেও ফেরত দেয়নি। সম্প্রতি সে আবার টাকা দাবি করায় আমি তাতে রাজি হয়নি। পরে পুলিশকে সঙ্গে করে এনে পরিকল্পিতভাবে আমাকে মাদক মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে টাকা নিয়েছে। আজ (শনিবার) সকালে বাড়িতে এসে ওই টাকা ফেরত দেয়।’

উপপরিদর্শক আল-মামুন বলেন, ‘সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু বিষয়টি সাজানো এবং সন্দেহ হওয়ায় প্রতিবন্ধী মামুনকে রেখে আমরা চলে আসি। কোনো টাকা-পয়সা নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’ কথিত সাংবাদিক হাফিজুর বলেন, ‘আমি তাঁর কাছে টাকা পেতাম। সেই কারণে পুলিশ নিয়ে টাকা উদ্ধারের জন্য গিয়েছিলাম।’ তিনি এর বেশি কিছু বলতে চাননি।

তাড়াশ থানার ওসি টি এম আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি মৌখিতভাবে শুনেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করছে।’

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার মোতাহার হোসেন বলেন, ইয়াবার বিষয়টি সাজানো ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। টাকা আদান-প্রদান হয়েছে—বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আরো তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আইএম

 

উপরে