আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৬:১১

শ্রমিক কল্যাণ তহবিল করছে সরকার

বিডিটাইমস ডেস্ক
শ্রমিক কল্যাণ তহবিল করছে সরকার

রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা শ্রমিকদের জন্য ‘শ্রমিক কল্যাণ ফান্ড’ গঠনের ব্যবস্থা চূড়ান্ত করেছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য সরকার গত বছর বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এবং শ্রম আইন বিধিমালা ২০১৫-এর আলোকে এই তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। এখন সেই শ্রমিক কল্যাণ তহবিল চূড়ান্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে এই বোর্ডে প্রতিনিধিদের নাম প্রেরণের জন্য শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে বিজিএমইএসহ কয়েকটি সংগঠনকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহে সংগঠনগুলো তাদের প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত করে পাঠিয়ে দেবে। শ্রম মন্ত্রণালয় ও বিজিএমইএ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় তহবিল পরিচালনা বোর্ড হবে ১০ সদস্যের। এতে পদাধিকারবলে সভাপতি থাকবেন শ্রমমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী। পদাধিকারবলে সহসভাপতি থাকবেন দুজন। এর একজন শ্রমসচিব, অন্যজন বিজিএমইএ সভাপতি। এ ছাড়া বিজিএমইএর তরফ থেকে দুজন সাধারণ সদস্য এবং বিকেএমইএর তরফ থেকে থাকবেন দুজন সদস্য। শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে থাকবেন অন্য দুই সদস্য। আর ঊর্ধ্বতন আরেক সরকারি কর্মকর্তা থাকবেন পরিচালনা বোর্ডের সদস্যসচিব। বোর্ড গঠনের দিন থেকে পরবর্তী তিন বছর থাকবে এর মেয়াদ।

বিজিএমইএ সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু কালের কণ্ঠকে বলেন, শ্রমিকদের ইনস্যুরেন্স ও চাকরির নিশ্চয়তার পাশাপাশি শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে শিল্পের মোট রপ্তানির ০.০৩ শতাংশ জমার বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে লাভবান হবে শ্রমিকরা। এক বছরের হিসাবে এ ফান্ডে জমবে প্রায় ৮০ কোটি টাকা। এ টাকা শুধু শ্রমিকদের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া শ্রমিকদের জন্য যে দুই লাখ টাকার ইনস্যুরেন্স করা হয়েছে তা পেতে অনেক সময় লাগবে। কেউ যদি দুর্ঘটনায় মারা যায় তাহলে শ্রমিক কল্যাণ ফান্ড থেকে তা শ্রমিকদের স্বজনদের দেওয়া হবে। প্রতিবছর ফান্ডের এ টাকা বাড়তেই থাকেব।

জানা যায়, এই তহবিলের অর্থ থেকে শ্রমিকরা তিনভাবে সুবিধা পাবে। একটি থাকবে আপৎকালীন সুবিধা। হঠাৎ দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই ফান্ড থেকে টাকা দেওয়া হবে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে কল্যাণ ফান্ড। অসুস্থতাজনিত কারণে কোনো শ্রমিক মারা গেলে এই ফান্ড থেকে টাকা দেওয়া হবে। তৃতীয়টি হচ্ছে সুবিধাভোগী ফান্ড। কোনো শ্রমিক গুরুতর অসুস্থ হলে এই ফান্ড থেকে তাকে টাকা দেওয়া হবে।

কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মারা গেলে শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা পাবে তিন লাখ টাকা। কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে দেওয়া হবে দুই লাখ টাকা এবং গুরুতর অসুস্থ শ্রমিককে দেওয়া হবে এক লাখ টাকা। এ ছাড়া শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের অর্থ দিয়ে শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি, হাসপাতাল নির্মাণসহ অন্যান্য সামাজিক কাজেও ব্যয় করা হবে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয় বিজিএমইএতে।

বিজিএমইএ সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার দুই দিন পরই আমরা বিজিএমইএর প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত করে পাঠিয়ে দিয়েছি। সব পক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম চূড়ান্ত করে পাঠিয়ে দিলে দ্রুতই তহবিল পরিচালনা বোর্ড গঠন করা হবে। বোর্ড গঠনের পর সরকার গেজেট প্রকাশ করবে।’

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আইএম

 

উপরে