আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০২:৩৮

ওই বইটা এতো অশ্লীল আর অশালীন তা বলার মতো না : জাফর ইকবাল

বিডিটাইমস ডেস্ক
ওই বইটা এতো অশ্লীল আর অশালীন তা বলার মতো না : জাফর ইকবাল

বিকেলে টিএসসির সামনে বইমেলার প্রবেশদ্বারের সামনেই দেখা গেল, ‘লেখক-প্রকাশক-পাঠক-জনতা’ ব্যানারে মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ করছেন অনেকেই। ‘মানবতার মুক্তি চাই, মুক্তচিন্তার বিকল্প নাই’, ‘মুক্তমনা লেখক হত্যার বিচার চাই’, ‘মুক্তচিন্তার সংগ্রাম চলবেই’, ‘লেখকের হাতে হাতকড়া কেন?’ ‘অবরুদ্ধ মুক্তবুদ্ধি জেগে ওঠো, রুখে দাঁড়াও’, ‘বইমেলায় পুলিশি আগ্রাসন রুখে দাঁড়াও’ লেখা বেশ কিছু প্ল্যাকার্ড প্রতিবাদকারীদের হাতে শোভা পাচ্ছিল।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলায় ব-দ্বীপ প্রকাশনের স্টল বন্ধ, বই জব্দ ও ‘ইসলাম বিতর্ক’ বইটির লেখক শামসুজ্জোহা মানিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত হয় প্রতিবাদসভা। মেলার দুই প্রাঙ্গণেও দেখা গেল, গত দিনগুলোর মতো ভিড়বাট্টা নেই। প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্কতাও একটু বেশি। মনে হলো, ব-দ্বীপ প্রকাশন বিতর্কে সতর্ক পুরো বইমেলা প্রাঙ্গণ।

ওই প্রতিবাদসভায় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকী আক্তার সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা অভিজিতের হত্যাকারীকে ধরতে পারেন না, আপনারা খুনিদের স্ট্যাটাস পড়ে মুক্তচিন্তার মানুষকে গ্রেপ্তার করতে পারেন’।

মেলায় বিকেলে এসেছিলেন কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি বলেছেন, ‘প্রথমত আমি কোনো স্টল বন্ধ করার পক্ষে নই। তবে যে বইটির কারণে স্টলটি বন্ধ করা হয়েছে, সেটির কয়েকটি লাইন আমাদের বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক পড়ে শুনিয়েছেন। আমি কয়েক লাইন শোনার পর আর সহ্য করতে পারিনি। এত অশ্লীল আর অশালীন লেখা। এই স্টলটিকে আর অন্য দশটি সাধারণ স্টলের সঙ্গে তুলনা করলে চলবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করে লেখালেখির সময় কিছুটা সতর্ক থাকতে হবে। যাতে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না আসে। আর যে বইটির বিষয়ে কথা হচ্ছে, আমার অনুরোধ কেউ যেন এই বইটি না পড়ে।’

এ প্রসঙ্গে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ বলেন, ‘নীতিমালা ভঙ্গ করে বই প্রকাশের জন্য স্টলটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমরা বইটি পড়ে দেখেছি, এটি খুবই অশ্লীল একটি বই। আমাদের নজরে বিষয়টি আসার পরেই স্টলটি বন্ধ করেছি। বইটি মেলার নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। সবাই যদি দায়িত্বশীল লেখালেখি করি, তাহলে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না।’

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আইএম

উপরে