আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০৯:১৯

প্রধানমন্ত্রীও রাঁধেন, রাঁধতে যেয়ে নার্ভাসও হন! তিনি যে মমতাময়ী মা (ভিডিও)

বিডিটাইমস ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীও রাঁধেন, রাঁধতে যেয়ে নার্ভাসও হন! তিনি যে মমতাময়ী মা (ভিডিও)

দেশের প্রধানমন্ত্রী তিনি। আছে নানা নিয়ম-নীতি-শৃঙ্খলার অনুশাসন। সব কিছু যেন মুহূর্তে মুছে দিয়ে প্রধানমন্ত্রিত্বের চেয়ে উজ্জ্বলতর হয়ে উঠেন এক মমতাময়ী মায়ের আবেগে। রবীন্দ্রনাথের 'সাধারণ মেয়ে' যেমন আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন শরৎচন্দ্রের গল্পের নায়িকার বৃত্ত ভেঙে সাহিত্যিকের কলমের কল্পনায় অসাধারণ হয়ে উঠতে, তেমনি প্রধানমন্ত্রীও একজন সাধারণ মা হয়ে যান মুহূর্তের গভীর মমতায়। মমতাময়ী মায়ের স্বচ্ছ প্রতিচ্ছবি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একবার নাতির আবদার রাখতে গিয়ে নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নাতির আবদার ছিল, তাকে মজা করে মাছ রান্না করে খাওয়াতে হবে। সন্তানস্বজনদের নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ানোর আনন্দের কথা বলতে গিয়ে এ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী।

১৩ জানুয়ারি শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তার মমতাময়ীর নিদর্শন আবারো প্রমাণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা হোসেন পুতুলের ছেলের আবদার মেটানোর ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার আট বছরের নাতি দাদার পুকুর থেকে মাছ ধরে এনে আমাকে বলল, ‘আমি মাছ ধরে এনেছি, তুমি রান্না করবা, মজা করে রান্না করবা’। সেদিনের মতো আমি জীবনে এত নার্ভাস কোনো দিন হই নাই। কারণ তার মুখের মজাটা কী রকম সেটা তো আমি জানি না।”

“আমি বললাম, আমার হাতের রান্না কেন?

“নাতির জবাব, ‘তোমার হাতের রান্না অনেক মজার’।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেলাম। কীভাবে রান্না করলে নাতি কাছে মজা হবে! এ অবস্থা দেখে পুতুল বলল, ‘মা, তোমাকে তো এত নার্ভাস হতে আগে কখনো দেখিনি। এত নার্ভাস লাগছে কেন?”

প্রধানমন্ত্রী বললেন, “আমি আসলেই নার্ভাস। কারণ নাতি মজা কিসে সেটাই ভাবছি।”

নাতির আবদার মেটাতে পরে নিজ হাতে রান্না করলেন প্রধানমন্ত্রী। খাওয়ালেন প্রিয় নাতিকে। তারপর জানতে চাইলেন, “খাবার কেমন হয়েছে, দাদু? বলল, ‘ভীষণ মজা হয়েছে’। এটাই আমার সেটিসফেকশন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী। পরিবারে আমিও রান্না করি। আমার ছেলেমেয়েকে রান্না করে আমি খাওয়াই। এর মধ্যেও অনেক আনন্দ। আমার নাতিরাও আমার রান্না খাওয়ার জন্য আবদার করে। এটি আনন্দের বিষয়।”

রান্না করতে পারাটা গৌরবের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা অদ্ভুত ব্যাপার আমি মাঝে মধ্যে শুনি। আমি তো একজন মা। আমি রান্না করছি শুনলে সবাই যেন অবাক হয়ে যায়! অবাক হওয়ার কি আছে। আমার ছেলেমেয়ে আমার রান্না পছন্দ করে। আমি প্রধানমন্ত্রী হই আর যাই হই আমার নিজের ছেলে মেয়েদের জন্য রান্না করবো, তাদের মুখে খাবার তুলে দিবো এটাতো আমার সবচেয়ে গৌরবের ব্যাপার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। আমি এসব শিখেছি আমার ছেলে তথ্য প্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকে। আমি আমার ছেলের কাছে গিয়ে দেখেছি ওরা দুজনই চাকরি করে বাসায় ফিরত। সে তার স্ত্রী দুজনই কাজ করেন। কিন্তু বাসায়ও দুজন কাজ ভাগ করে নেন। আমার বউমা রান্না করে খাবার সাজালো। এরপর খাওয়া-দাওয়া হলো। আমার ছেলে বলল, বাকি কাজটা এখন তার। সে নিজেই টেবিল তুলবে, সমস্ত হাঁড়িপাতিল ধুয়ে সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রবে। তারপর একসঙ্গে বসে টেলিভিশন দেখবে, গল্পগুজব করবে, সেভাবে তারা সময় কাটায়। কাজে সহযোগিতা করলে লজ্জার কিছু নেই।

এই ঘটনা বলার আগে প্রধানমন্ত্রী কর্মজীবী পুরুষ ও নারীদের মিলেমিশে সংসারের কাজ করে আনন্দময় জীবন গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেখা যায় একটি পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুজনে চাকরি করেন। স্ত্রী বাসায় গিয়ে পরিবার সামলান। ছেলেমেয়ের দেখাশোনা করেন। রান্না করেন। এর মধ্যে আবার স্বামীর আবদারও তাদের রাখতে হয়। আর স্বামীরা সারা দিন কাজ করে বাসায় এসে স্ত্রীদের বলেন, ‘আমি ভী-ষ-ণ ক্লান্ত। আমাকে এক কাপ চা দাও তো।’ কিন্তু তার স্ত্রী যে সারা দিন কাজ করে বাসায় এসে পরিবার সামলাচ্ছেন, তার কী ক্লান্ত লাগে না?”

সংসার ও পরিবারের সুখ ও শান্তির জন্য স্ত্রীর কাজে স্বামী একটু সহযোগিতা করলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুজনে মিলে কাজ করে আনন্দ করতে হবে। একজনের ওপর চাপ দেয়া যাবে না। স্বামীরা যদি রান্না করতে না জানে তাহলে রান্না শিখে নিতে হবে।”

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে