আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৩:৪০

নিশ্চিহ্ন হচ্ছে সত্যজিৎ রায়ের পৈত্রিক ভিটা: দেখার কেউ নেই

বিডিটাইমস ডেস্ক
নিশ্চিহ্ন হচ্ছে সত্যজিৎ রায়ের পৈত্রিক ভিটা: দেখার কেউ নেই
সত্যজিৎ রায়ের অপরাজিত ছবির দৃশ্য

কিশোরগঞ্জ জেলার শস্য-শ্যামল-সবুজ ছায়াঘেরা শান্ত পরিবেশের গ্রাম মসুয়া। এই গ্রামেই বিশ্ববরেণ্য অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক নিবাস।

ইতোপূর্বে পাবনায় সুচিত্রা সেনের বাড়ি, ঢাকার বারদিতে জ্যোতি বসুর বাড়ি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ করা হলেও, অযত্ন অবহেলায় সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়িটি এখন বিলীন হওয়ার পথে। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে মসুয়া বাজারের কাছে এই ঐতিহাসিক বাড়িটির অবস্থান।

বাড়িটির পূর্বদিকে রয়েছে শান বাঁধানো পুকুর। পশ্চিমে কয়েক একর জায়গাজুড়ে বাড়িটি বিস্তৃত। পূর্বে প্রাচীর ও সিংহদরজা ছিল যা এখন নেই। পশ্চিমে জরাজীর্ণ ভবন যা এখন ভূমি অফিস। বাড়ির ভেতরে রয়েছে কারুকার্যখচিত প্রাচীন দালান, বাগানবাড়ি, হাতির পুকুর, খেলার মাঠ ইত্যাদি। এ সবই এখন বিবর্ণ, মলিন। স্থানীয় প্রভাবশালীদের শ্যেন নজর তো আছেই!

সত্যজিৎ রায়ের পিতামহের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি এখন সরকারের রাজস্ব বিভাগের অফিস। অবশ্য বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের উদ্যোগে ২০১২ সালে ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি রেস্ট হাউস-সহ বাড়ির সীমানা প্রাচীর ও রাস্তাঘাট সংস্কার করা হয়।

এই বাড়িতেই ১৮৬০ সালের ১২ মে জন্মেছিলেন সত্যজিৎ রায়ের পিতামহ প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরি। এই বাড়িতেই ১৮৮৭ সালে জন্ম নেন তাঁর জ্যেষ্ঠ ছেলে সত্যজিৎ রায়ের বাবা সুকুমার রায়। জন্মের পরই সুকুমার রায়সহ উপেন্দ্রকিশোর চলে যান কলকাতায়। মাঝে মধ্যে এই বাড়িতে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বেড়াতে আসতেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজর দিলে ঐতিহাসিক এই বাড়িটি হয়ে উঠতে পারে নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে