আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৪:৪৪

গান্ধীকে ‘মহাত্মা’ উপাধী রবীন্দ্রনাথ দেননি! ভারতে ‘গোলমাল’

বিডিটাইমস ডেস্ক
গান্ধীকে ‘মহাত্মা’ উপাধী রবীন্দ্রনাথ দেননি! ভারতে ‘গোলমাল’

স্কুলে পড়ানো হয়, গান্ধীজিকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কিন্তু ভারতের গুজরাত সরকারের দাবি, রবীন্দ্রনাথ নন, সৌরাষ্ট্রের এক সাংবাদিক নাকি ‘বাপু’কে তার একটি প্রতিবদনে প্রথম ‘মহাত্মা’ বলে উল্লেখ করেন। আর এরপরই শোরগোল শুরু হয়ে যায় দেশজুড়ে।

গুজরাত প্রশাসন নিজের দাবির স্বপক্ষে প্রখ্যাত গান্ধী গবেষক নারায়ণ দেশাইয়ের  একটি ‘নোট’ উদ্ধৃত করছে। যেখান থেকে জানা যায়, গান্ধীজিকে প্রথম ‘মহাত্মা’ বলে সম্বোধন করা হয় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকাকালীন জেঠপুর থেকে লেখা একটি চিঠিতে। যদিও কোন সাংবাদিক বাপুকে ‘মহাত্মা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, তার নাম জানানো হয়নি।

কিন্তু হঠাৎ এই বিতর্ক উঠল কেন?

বিতর্কের সূত্রপাত একটি চাকরির পরীক্ষার উত্তরপত্রকে ঘিরে। পরীক্ষাটি নেয় রাজকোট জেলা পঞ্চায়েত শিক্ষণ সমিতি। পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে- ‘গান্ধীজিকে মহাত্মা উপাধি কে দেন?’ চারটি অপশনের মধ্যে ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’ ছাড়াও ছিল ‘এক অজ্ঞাত সাংবাদিক’ বলে একটি অপশন!

এরপরই এক পরীক্ষার্থী সন্ধ্যা মেরু গুজরাত হাই কোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করেন। তার অভিযোগ, পঞ্চায়েত শিক্ষণ সমিতি যে উত্তরকে ‘ঠিক’ বলে বিচার করছে সেটি আসলে ভুল!

সন্ধ্যা মেরু নিজে লিখে এসেছিলেন রবীন্দ্রনাথই বাপুকে ‘গান্ধী’ উপাধি দেন। কিন্তু ‘রাজকোট জেলা পঞ্চায়েত সমিতি’ গান্ধী গবেষক নারায়ণ দেশাইয়ের ‘নোট’ উদ্ধৃত করে আদালতকে জানায়- কবিগুরু নন, ‘মহাত্মা’ উপাধি বাপুকে দিয়েছিলেন এক সাংবাদিক।

আদালত প্রশ্ন করেন, দেশজুড়ে স্কুলে যা পড়ানো হয়, সাধারণ মানুষ সেটাকেই সঠিক বলে ধরে নেন। সরকারি আইনজীবীও বিচারকের যুক্তি মেনে নেন। এরপরেই আদালত কড়া ভাষায় পঞ্চায়েত শিক্ষণ সমিতিকে জানিয়ে দেয়, প্রশাসনের চাকরির পরীক্ষার উত্তর নির্ভুল বাছাই করা উচিত।

চাকরির পরীক্ষার উত্তরপত্রে সঠিক উত্তর নিয়ে পরীক্ষার্থীদের কোনওরকম সংশয়ে রাখা উচিত নয়। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ ফেব্রুয়ারি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে