আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৭:২৮

হলোনা প্রকাশ্যে চুমু; পুলিশ বড়ো তৎপর!

বিডিটাইমস ডেস্ক
হলোনা প্রকাশ্যে চুমু; পুলিশ বড়ো তৎপর!

১৪ ফেব্রুয়ারী ভালবাসা দিবস উপলক্ষে ফেসবুকে পুলিশি পাহারায় প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার ইভেন্টের ডাক দিয়ে মাঠে ছিলেন না ওই সংগঠনটির কোনো কর্মী।

রোববার সকাল ১১টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ ধরনের স্লোগানের উপর ভিত্তি করে প্রেমিক প্রেমিকাদের প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার জন্যে আহবান করা হয়েছিল। এ আয়োজনের বিরুদ্ধে আওয়ামী ওলামা লীগ ও হেফাজতে ইসলাম কঠোর হুঁশিয়ারী দেয়।

প্রকাশ্যে চুমু’র আরো এক ভেন্যু জাহাঙ্গীর নগরেও ছিল একই অবস্থা।

সময় হলে দুই ভেন্যুর কোথাও দেখা যায়নি প্রকাশ্যে চুমুর কোন ঘটনা। যদিও পাহারার দায়িত্ব পুলিশ ঠিক-ঠিক পালন করেছে।

দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য গণমাধ্যমকে জানায়, তারা এ বিষয়ে কোন রকম কার্যক্রমের খবর পাননি। তবে জার্মানি থেকে কয়েকজন ব্লগার এধরনের আহবান জানালে মিডিয়ায় বেশ হৈ চৈ হয়। ওই পর্যন্তই। কোনো প্রেমিক প্রেমিকা প্রকাশ্যে চুমু খেতে হাজির না হলেও অদূরে টিএসটিস চত্বর থেকে শুরু করে শাহবাগ, রমনা পার্কে, সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে প্রেমিক প্রেমিকারা ফুল বিনিময় করেছে, আলাপচারিতায় মশগুল ছিল। কিন্তু প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার মত কোনো ঘটনা ঘটেনি।

প্রকাশ্যে চুমুর দ্বিতীয় ভেন্যু জাহাঙ্গীরনগরেও ব্যাপক সংখ্যক যুগলের উপস্থিতি থাকলেও, তাদের ঠোঁট প্রকাশ্যে এক হয়নি কোথাও।

এদিকে এ ধরনের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছিল বেশ তৎপর। সাদা পোশাকে অনেক পুলিশ সদস্যকে ওইসব এলাকায় কর্তব্যরত দেখা যায়।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেশকিছু ফেসবুক ভিত্তিক সংগঠন আছে তারা বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পথশিশুদের ফুল ও চকলেট বিতরণ করতে দেখা যায় ‘উই আর ফ্রেন্ডস’ নামে একটি সংগঠনের কর্মীদের। তাদের হাত থেকে ছিন্নমূল শিশুরা ফুল ও চকলেট পেয়ে আনন্দে উচ্ছসিত হয়ে ওঠে। ভালবাসা দিবস যে শুধু বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় তা তারা পথশিশুদেরও বুঝিয়ে বলেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আগত অনেক যুগলই প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত দৃষ্টিকটু হিসেবেই নিচ্ছেন। ভালবাসার এধরনের বহি:প্রকাশকে তারা অপসংস্কৃতি বলেও অভিহিত করেন। এমনকি তারা এই ধরনের অনুষ্ঠানকে বাঙালি সংস্কৃতির পরিপন্থি বলে মনে করেন।

তবে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ইভেন্টটির ডাক দিয়েছিলো তারা আরও এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানায়, আজকের দিনে ইউরোপীয়রা প্রকাশ্যে চুমু খায়। অথচ এই চুমু খাওয়ার নান্দনিক ব্যপারটি তারা রপ্ত করেছিলো গ্রিকদের কাছ থেকে। আর গ্রিক’রা তা শিখেছিলো ভারতবর্ষ থেকেই!

তবে, প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার জন্য ঘোষিত দুই ভেন্যু ও অন্যান্য বিনোদন এলাকাগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভীড়।

ভীড় ছিল ফুলের দোকানগুলোতেও।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে