আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৪:৩৯

১৯৮৩’র ভালোবাসা দিবস থেকেই শুরু রক্ত ঝড়ার রাজনীতি

শুরু হয়েছিলো হত্যা-গুম
বিডিটাইমস ডেস্ক
১৯৮৩’র ভালোবাসা দিবস থেকেই শুরু রক্ত ঝড়ার রাজনীতি

১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেসময়ে ভ্যলেনটাইনস ডে আমাদের দেশে আসে নি। ক্ষমতায় তখন স্বৈরচারী এরশাদ সরকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মজিদ খানের কুখ্যাত শিক্ষানীতি প্রত্যাহার, বন্দি মুক্তি ও গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবি ও গণমুখী, বৈজ্ঞানিক ও অসাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতির দাবিতে ছাত্র জমায়েত ডাকে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শান্তিপূর্ণ মিছিলটি হাইকোর্টের গেটের সামনে ব্যারিকেডের সম্মুখে বসে পড়ে এবং ছাত্রনেতারা তারের ওপর উঠে বক্তৃতা শুরু করে। এসময় পুলিশ বিনা উস্কানিতে তারের একপাশ সরিয়ে রায়ট কার ঢুকিয়ে দিয়ে রঙ্গিন গরম পানি ছিটাতে থাকে, বেধড়ক লাঠিচার্জ, ইট-পাটকেল ও বেপরোয়া গুলি ছুড়তে শুরু করে। গুলিবিদ্ধ হয় জয়নাল। এরপর গুলিবিদ্ধ জয়নালকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারা হয়। এসময় দিপালীও গুলিবিদ্ধ হন এবং পুলিশ তার লাশ গুম করে ফেলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিহত ও আহতদের এ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে নিয়ে আসতে চাইলে ঘটনাস্থলে ঢুকতে দেয়নি খুনি বাহিনী। কিছু না ঘটা সত্ত্বেও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে, এমন অপপ্রচার চালিয়ে সামরিক সরকার উস্কে দেয় পুলিশকে।

ঐদিন নিহত হয়েছিল জয়নাল, জাফর, কাঞ্চন, দীপালীসহ আরো অনেকে। সরকারী মতেই গ্রেফতার করা হয় ১,৩৩১ জন ছাত্র-জনতাকে, বাস্তবে এই সংখ্যা আরো বেশি ছিল। খোঁজ মেলেনি অনেকেরই।

ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের অংশ হিসেবে ১৯৮৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এরশাদ তার সন্ত্রাসিবাহিনী দিয়ে খুব কাছ থেকে গুলি করিয়ে হত্যা করায় রাউফুন বসুনিয়াকে। জাতীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক বসুনিয়া হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে।

এরপর ঘটেছে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনা।

আজ ভ্যালেন্টাইন ডে, তথা ভালোবাসা দিবস। আজ তো দিন শুধু এরশাদের। তেত্রিশ বছর আগেও যেমন, এখনও তেমন।

‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’র রমরমার তলায় চাপা পড়ে গেছে ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির রক্তাক্ত ইতিহাস। সে ইতিহাস এখন বিস্মৃতির হিমঘরে। ভালোবাসা দিবস তাই যত জাগ্রত, তত জাগ্রত নয় ১৪ ফেব্রুয়ারির শহীদদের আত্মদানের রক্ত-অশ্রু-দ্রোহের কথা।

একটি নিলে আরেকটিকে ভুলে যেতে হবে, এমন ছোট হবে কেন প্রেমিকের মন, এমন খাটো হবে কেন তাদের স্মৃতি?
১৪ ফেব্রুয়ারিতে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস আর ভালোবাসা দিবস একসঙ্গেই চলতে পারত হাত ধরাধরি করে। তা যে হলো না, কারণ ভালোবাসা-বাসির সঙ্গে জড়িত সব পণ্যের বাজার বড়ই চাঙা।

স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক চেতনা খুবই দুর্বল। গণতন্ত্র দাবি করতে যে সাহস লাগে, যে সংগ্রাম ও সততা লাগে, তাও যেন কমে আসছে আজকের তরুণদের মধ্যে। 
বাণিজ্যিক ভালোবাসার কারণে আমরা আত্মত্যাগের ১৪ ফেব্রুয়ারিকে যেন ভুলে গেছি! ভালোবাসার জন্যেতো বিশেষ কোন দিনের প্রয়োজন নেই, প্রতিটি দিনই ভালোবাসার দিন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের আত্মত্যাগের দিনটি কিন্তু একটাই -১৪ ফেব্রুয়ারি। আসুন, আজ সেই আত্মত্যাগীদের স্মরণ করি।

উপরে