আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০১:২২

ভুল স্বীকার করে আরেকটি ভুল করলেন মাহফুজ আনাম!

অনলাইন ডেস্ক
ভুল স্বীকার করে আরেকটি ভুল করলেন মাহফুজ আনাম!

বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে ‘ডেইলি স্টার’ পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনামের একটি ভুল স্বীকারের ঘটনা। দেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিকটির সম্পাদক ৩ ফেব্রুয়ারি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে স্বীকার করেন যে, ২০০৭ সালে ১/১১’র সময় তিনি তার পত্রিকায় ডিজিএফআইয়ের পাঠানো কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যা তথ্যনির্ভর ছিল না।

টক শো উপস্থাপকের প্রশ্নের মুখে জনাব আনাম এ কথাও স্বীকার করেন যে, ওই সব যাচাই না করে প্রকাশ করা প্রতিবেদনের মধ্যে ‘শেখ হাসিনার দুর্নীতি’-সংক্রান্ত প্রতিবেদনও ছিল। তিনি বলেন, ‘ওই প্রতিবেদন প্রকাশ ছিল আমার সাংবাদিকতা জীবনের বড় ভুল। আমি আমার সম্পাদকীয় নীতির এই ভুল স্বীকার করছি।’

এরপর প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ৫ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে মাহফুজ আনামের গ্রেপ্তার দাবি করেন। অন্যদিকে, ৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আওয়ামী লীগের কয়েকজন এমপি মাহফুজ আনামকে গ্রেপ্তার, বিচার ও ডেইলি স্টার পত্রিকাটি বন্ধের দাবি জানান।

একই দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা ইতোমধ্যে মানববন্ধন পালন শুরু করেছেন। এ অবস্থায় বেশ চাপের মুখে আছেন মাহফুজ আনাম। সেটা স্পষ্ট হয়েছে ৮ ফেব্রুয়ারি তার পত্রিকায় একটি ‘ব্যাখ্যামূলক’ প্রতিবেদন প্রকাশের মধ্য দিয়ে।

২০০৭ সালে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের পরদিন মাহফুজ আনামের লেখা একটি মন্তব্য প্রতিবেদন পুনর্মুদ্রণ করেন। মন্তব্য প্রতিবেদনটি প্রথম ছাপা হয়েছিল ২০০৭ সালের ১৭ জুলাই। শিরোনাম : ‘দিস ইস নো ওয়ে টু স্ট্রেংদেন ডেমোক্রেসি’।

মন্তব্য প্রতিবেদনটি আবার কেন প্রকাশ করা হলো, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মাহফুজ আনাম লিখেছেন, গতকাল (৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে সাতজন সম্মানিত সংসদ সদস্য রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আমার বিচার দাবি করেছেন।

তাদের দাবি, আমি সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিলাম। আমরা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি এবং বলছি যে, এই অভিযোগ সত্যনিষ্ঠ নয়। তিনি বলেন, আমার এই মন্তব্য প্রতিবেদনটি সংসদ সদস্যদের বিবেচনায় নেওয়ার জন্য আবারও প্রকাশ করলাম। সংসদ সদস্য ও পাঠকেরা বিবেচনা করে দেখুন যে, এই মন্তব্য প্রতিবেদনের লেখক কি তার (শেখ হাসিনা) গ্রেপ্তার চাইতে পারেন বা গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট তৈরি করতে পারেন?

ভুল মানুষই করে থাকে। সেটা ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়। তবে যত বড় ভুলই হোক, তা ‘স্বীকার’ করে নিলে দুনিয়ার সব নীতি ও আইনে ‘স্বীকার করা ব্যক্তিকে’ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু মাহফুজ আনামের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম মনে হচ্ছে।

অবস্থাদৃষ্টে মোটামুটি স্পষ্ট যে, ‘ভুল স্বীকার’ করে তিনি নতুন করে ‘আরেকটি ভুল’ করেছেন! কারণ এই ‘ভুল স্বীকার’ থেকেই এখন ক্ষমতাসীনদের ‘আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু’তে পরিণত হয়েছেন তিনি।

বহুদিন ধরে ডেইলি স্টার-এর সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের সম্পর্ক আগের মতো মধুর নয়। কয়েক মাস আগে মাহফুজ আনামই সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার পত্রিকার প্রবেশানুমতি নেই।

দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমে এমন খবরও বেরিয়েছে, মাহফুজ আনামের পত্রিকায় (সঙ্গে তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রথম আলোও) সরকারি হস্তক্ষেপে বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর এখন দাবি তোলা হচ্ছে, পত্রিকাই বন্ধ করে দেওয়ার।

পরিস্থিতির এ পর্যায়ে সবচেয়ে লক্ষণীয় ব্যাপারটি হচ্ছে, একটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া, সম্পাদককে গ্রেপ্তার ইত্যাদি দাবি জাতীয় সংসদের মতো জায়গায় এবং সরকারের কর্তাব্যক্তিদের মুখ থেকে উচ্চারিত হওয়া সত্ত্বেও দেশের সাংবাদিক মহল বলতে গেলে একেবারেই নীরব! ‘মাহফুজ আনাম ভুল স্বীকার করে অপরাধ করেননি’ এমন কথা বলে তার পাশে সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী কেউ দাঁড়াচ্ছেন না।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে