আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০৯:২০

রাষ্ট্রায়ত্ত ৩ ব্যাংকের নিয়োগ বাতিল, চাকরি হারাচ্ছে ৭ হাজার নিয়োগ প্রত্যাশী

বিডিটাইমস ডেস্ক
রাষ্ট্রায়ত্ত ৩ ব্যাংকের  নিয়োগ বাতিল, চাকরি হারাচ্ছে ৭ হাজার নিয়োগ প্রত্যাশী

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের ২০১৩-১৪ সালে গৃহীত নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের গঠিত প্যানেল নিয়োগ বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরীক্ষা নেয়ার জন্য ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির চেয়ারম্যান ড. আতিউর রহমান ও উল্লিখিত তিন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের বরাবর একটি চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর মধ্য দিয়ে তিনটি ব্যাংকের প্যানেলভুক্ত প্রায় ৭ হাজার নিয়োগ প্রত্যাশী তাদের নিশ্চিত চাকরি হারাচ্ছে।।

গণমাধ্যমে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

তিনটি ব্যাংকের পাঠানো চিঠির উত্তরে অর্থমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, যে পরীক্ষায় প্রার্থীরা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের এখন আর নিয়োগ দেয়া যাবে না। শিগগিরই নতুন করে পরীক্ষা নেয়ার পাশাপাশি কতগুলো পদ পূরণ করা হবে, সে বিষয়টিও ব্যাংকগুলোর কাছে জানতে চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

তিনটি ব্যাংকের ২০১৩-১৪ সালের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা বেশ কিছুদিন ধরেই প্যানেল নিয়োগের দাবিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে আন্দোলন করে আসছিল; যা বৃহষ্পতিবারও দুপুর থেকে বিকেল বেলা পর্যন্ত চলেছে। সন্ধ্যার পর তারা আবার গণভবনের সামনেও মানববন্ধন করেছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বেশ কয়েকবার নিয়োগ প্রার্থীদের পক্ষ থেকে একটি দল মিটিংও করেছে। তবে এতে কোনো ফল অসেনি।

এদের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের প্যানেল নিয়োগ প্রত্যাশী ও আলোচনা কমিটির মুখপাত্র শাহদাত হোসেন বলেন, ‘আমরা যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন করছিলাম একপর্যায়ে পুলিশ এসে আমাদের হাতে একটি চিঠি ধরিয়ে দিল। যার মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম আমাদের আর প্যালেন থেকে নিয়োগ দেয়া হবে না। নতুন করে পরীক্ষা নেয়া হবে।’

‘নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরীক্ষা নেয়া হলে তো দেশের হাজার হাজার ছেলেমেয়ে আবেদন করবে। আমাদের অনেকের তো এখন সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সই শেষ হয়ে গেছে। তাহলে আমরা কি করবো? আমরা তো প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। তাহলে কেন আমরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হবো? কেন আমাদের নিশ্চিত চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে? মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমাদের সঙ্গে ছলনা করছে কেন, এর কোনো কারণ আমরা খুঁজে পাচ্ছি না’, বললেন কমিটির মুখপাত্র শাহদাত।

উল্লেখ্য, প্যালেনভুক্ত প্রায় ৭ হাজার প্রার্থীর মধ্যে সোনালীর ব্যাংকের নিয়োগ প্রত্যাশী ৪ হাজার ১৭৭ জন, রূপালীর ২ হাজার ৫০০ এবং বাকিগুলো জনতা ব্যাংকের। সোনালী ও রূপালীর প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও জনতার প্যানেলের মেয়াদ রয়েছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। জনতার প্যানেল থেকে বেশকিছু প্রার্থীর চাকরিও হয়েছে বলে জানা যায়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে