আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৫:৩১

পথে পথে ঘুরছেন ডেসটিনির ৪৫ লাখ গ্রাহক, হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ অন্যের দখলে

বিডিটাইমস ডেস্ক
পথে পথে ঘুরছেন ডেসটিনির ৪৫ লাখ গ্রাহক, হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ অন্যের দখলে

বিমানবন্দরে পড়ে থাকা কার্গো বিমানটির খোলস ছাড়া আর কিছুই নেই; প্রায় সবই চুরি করে, বিক্রি করে খেয়েছেন কক্সবাজার বিমানবন্দরের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যাদের টাকায় গড়ে উঠেছে এত সম্পদ, হঠাৎ কর্ম হারিয়ে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে কূলকিনারা হারিয়েছেন সেই ৪৫ লাখ গ্রাহক।

দেশের বৃহত্তম মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কম্পানি ডেসটিনির সম্পত্তি যেন সরকারী মাল। যে যার মতো করে ভোগদখল ও লুটপাট করে খাচ্ছে। কম্পানির গাড়ি চালাচ্ছে পুলিশ, ভবনে থাকছে পুলিশ। গ্রাহকদের টাকায় লাগানো গাছপালা উজাড় করে ফেলছে যে যার ইচ্ছামতো। ঢাকার আনন্দ ও ছন্দ সিনেমা হলের আয় লুটেপুটে খাচ্ছে পুলিশ। ডেসটিনির চারতারকা হোটেল, কোল্ড স্টোরেজ, পাটকল ও ফুড ইন্ডাস্ট্রি অবহেলায় পড়ে আছে বছরের পর বছর। ঢাকাসহ সাতটি বিভাগীয় শহরে অব্যবহৃত থাকা জমি ও ফ্ল্যাটগুলোর কোনোটিতে থাকছে পুলিশ; কোনোটি প্রভাবশালীদের দখলে; বাকিগুলোও বেদখলের পথে।

ডেসটিনি গ্রুপে মাসিক বেতনভুক্ত সাড়ে চার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীও এখন বেকার। বাকি যে ৫০ জনের মতো আছেন, তাঁরাও এক মাসের বেতন পান তিন-চার মাস পর পর, যদিও জব্দ থাকা ডেসটিনি গ্রুপের ৫৩৩টি ব্যাংক হিসাবে পড়ে আছে প্রায় দেড় শ কোটি টাকা।

আয় বন্ধ হওয়ায় গ্রাহকদের দুঃখ আছে, দুর্ভোগ আছে, তবু ক্ষোভ নেই ডেসটিনির প্রতি। বিনিয়োগের টাকা আটকে আছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে, তবু একজন গ্রাহকও এখন পর্যন্ত আদালতে কিংবা থানা-পুলিশের কাছে ডেসটিনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা বা কোনো অভিযোগ করেননি। বরং বিনা বেতনে তাঁদের অনেকেই এখনো আগলে রাখার চেষ্টা করছেন গ্রুপটির সম্পত্তি।

পুলিশের একজন কনস্টেবল নিজের বেতন দিয়ে ঢাকায় এক সন্তানের পড়াশোনার খরচ ও সংসার ব্যয় মেটাতে পারছিলেন না। শান্তিরক্ষা মিশনে পাওয়া অর্থ ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে বিনিয়োগ করেন। সেখান থেকে প্রতি মাসে যে মুনাফা পেতেন, তাতে বেশ ভালোই চলত তাঁর সংসার। সন্তানদের জন্য গৃহশিক্ষকও রাখতেন তখন। পরে গ্রামে থাকা একখণ্ড আবাদি জমি বিক্রি করে সেই টাকাও বিনিয়োগ করেন ডেসটিনিতে। এভাবে চার বছর বেশ ভালোই ছিলেন তিনি। কিন্তু ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও গ্রুপটির এমডি রফিকুল আমীনকে গ্রেপ্তারের পর থেকে কানাকড়িও পাচ্ছেন না তিনি। ওই পুলিশ কনস্টেবল বলেন, ‘পুলিশের চাকরি করে অন্যরা যেখানে সম্পদের পাহাড় গড়ে, আমি সেখানে সৎভাবে জীবন যাপন করতে চেয়েছি। আমার অর্থ বিনিয়োগ করেছি ডেসটিনিতে। বেশ ভালোই চলছিল। কিন্তু একটি মহলের ষড়যন্ত্রে সরকার ডেসটিনি গ্রুপ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে আমার আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। অভাব-অনটনে পড়ে গেছি। তবে ডেসটিনির প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। কারণ ডেসটিনি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, এমন প্রমাণ পাইনি।’

ডেসটিনির আরেক গ্রাহক বলেন, এভাবে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে গ্রাহকদের অর্থ ফিরিয়ে দিতে পারবে না সরকার। এতে প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হবে। ৪৫ লাখ গ্রাহক পরিবারের দুই কোটি মানুষ  ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সরকারের উচিত ডেসটিনি যাতে ভবিষ্যতে বৈধভাবে ব্যবসা করে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করতে পারে, সে ব্যবস্থা করা। তিনি আরো বলেন, ভারতের মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাহারা গ্রুপের বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যাংকিংয়ের অভিযোগে মামলা হলেও সরকার কম্পানিটি বন্ধ করেনি, বরং আদালত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ডেসটিনির ক্ষেত্রেও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা দেশ ও ৪৫ লাখ পরিবেশকের জন্য মঙ্গলজনক হবে বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত ২০১২ সালের ২৭ নভেম্বর ডেসটিনির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দিয়ে পুলিশকে এর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করেন। সে মোতাবেক রাজধানীতে থাকা ডেসটিনির সম্পত্তি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং রাজধানীর বাইরের সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয় সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ।

ডেসটিনি গ্রুপের আয়-ব্যয় এবং দায়সহ সম্পত্তির পূর্ণ বিবরণ তুলে ধরে গ্রুপটির অর্থ উপদেষ্টা রণজিত চক্রবর্তী গত মাসে ‘ডেসটিনি গ্রুপ সম্পর্কিত প্রকৃত তথ্যাবলি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেসটিনি গ্রুপের মোট ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত মূলধন ৪,৪০৮ কোটি টাকা, পরিশোধিত মূলধন ১,৬৩৫ কোটি টাকা। ২০০০ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরুর পর ২০১২ সালের মে পর্যন্ত ডেসটিনি ২০০০, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি (ডিএমসিএসএল) ও ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশনের (ডিটিপিএল) মোট আয় ৫,১২১ কোটি টাকা। এই অর্থ থেকে কমিশন ব্যয় ১,৪৫৬ কোটি, ট্যাক্স ও ভ্যাট পরিশোধ খাতে ৪১০ কোটি টাকা, পণ্য ক্রয়ে ৪২৫ কোটি টাকা, লভ্যাংশ ও সুদ পরিশোধে ২৬৪ কোটি, ২০০ অফিসের প্রশাসনিক ব্যয় ৪৩৭ কোটি, বৃক্ষরোপণে বিনিয়োগ ২২৩ কোটি, সম্পদ ক্রয় ও বিনিয়োগ খাতে ১৮৯০ কোটিসহ মোট ব্যয় হয়েছে ৫১০৫ কোটি টাকা।

ডেসটিনি গ্রুপের এই তিনটি কম্পানির মোট জমির পরিমাণ ৯৬৮ একর, ঢাকা শহরে অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে ৭৪,০৫৮ বর্গফুট। এ ছাড়া বাণিজ্যিক অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে ২৪,৫৪৭ বর্গফুট।ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেসটিনি গ্রুপের মোট সম্পদের বর্তমান মূল্য ৯,৬৬৫ কোটি টাকা।

আদালতে জমা দেওয়া পুলিশের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেসটিনির ৫৮টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১৬টি বেদখল। ১৯টি জমির মধ্যে ৯টি এবং ১৪টি স্থাপনার তিনটি এখনো পুলিশ দখলে নিতে পারেনি। পুলিশের জব্দ করা গাড়ি, বাড়ি ও জমির মালিকানা দাবি করে আদালতে গিয়ে আটটি গাড়ি জিম্মায় নিয়েছেন কয়েকজন ব্যক্তি। জমির মালিকানা নির্ধারণের কয়েকটি আবেদনও বিচারাধীন আছে। ঢাকার কাকরাইলে রাজমনি ঈশা খাঁ হোটেলের পশ্চিম পাশে ডেসটিনির জমি পুলিশ দেখভালের দায়িত্ব নেওয়ার পরও বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা ওই জমির মালিকানা দাবি করেছেন। আদালতের আদেশে ওই জমি ক্রোক করার ছোট্ট একটি সাইনবোর্ড যেন আড়াল হয়ে গেছে আর বিএনপি নেতার লাগানো বিশাল সাইনবোর্ডে বলা হয়েছে, ‘এই সম্পত্তির মালিক রোজা প্রপার্টিজ লিমিটেড’।

এদিকে আনন্দ-ছন্দ সিনেমা হলসহ পাঁচটি সম্পদ ক্রোকাদেশভুক্ত অবস্থাতেই ডেসটিনি গ্রুপের কোষাধ্যক্ষ কামরুল হাসানের জিম্মায় দেওয়ার জন্য মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ ২০১৪ সালের ২৮ জানুয়ারি আদেশ দেন। এর মধ্যে পুরানা পল্টনে সাহারা টাওয়ার ফ্ল্যাট ও মাহতাব সেন্টারের চারটি সম্পদ (ফ্ল্যাট) পুলিশ ডেসটিনিকে বুঝিয়ে দিলেও ৫ নম্বর সম্পদ আনন্দ-ছন্দ সিনেমা হলের দায়িত্ব এখনো ডেসটিনির কাছে হস্তান্তর করেনি পুলিশ।

গত বছরের ২২ মার্চ ডেসটিনির কম্পানি সেক্রেটারি মিজানুর রহমান ঢাকার পুলিশ কমিশনারের কাছে আনন্দ-ছন্দ সিনেমা হল ব্যবহারের অনুমতি ও জিম্মায় চেয়ে আবেদন করেছেন। ২০১৪ সালের ১০ মার্চও একই রকম আবেদন করেছিল ডেসটিনি। আদালতের আদেশের পরও পুলিশ তা বুঝিয়ে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন মিজানুর রহমান।তিনি বলেন, পুলিশকে আদালতের রায়ের কপিসহ ২০১৪ ও ২০১৫ সালে দুই দফা চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হলেও ‘ওপরের নির্দেশ ছাড়া’ ফেরত দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডেসটিনির কম্পানি সচিব মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘ডেসটিনির সম্পদ হয় পুলিশ খাচ্ছে, না হয় প্রভাবশালীরা দখল করে নিচ্ছে। বারিধারায় ডেসটিনি গ্রুপের বেস্ট এয়ারের একটি ভবনে পুলিশ থাকছে। কুমিল্লায় থাকা ডেসটিনির কোল্ড স্টোরেজ পুলিশ আর স্থানীয়রা মিলে ব্যবহার করছে। রাজবাড়ীতে থাকা নিহার জুট মিলও পুলিশ চালু রেখে মুনাফা তুলছে। এর মধ্যে শুধু আনন্দ-ছন্দ সিনেমা হলের মুনাফার বিবরণী আদালতে জমা দিচ্ছে পুলিশ। বাকিগুলোর কোনো হিসাব নেই। কক্সবাজার বিমানবন্দরে বেস্ট এয়ারের একটি কার্গো বিমান আছে। সেটির খোলস বাদে সব যন্ত্রপাতি চুরি করে বিক্রি করে দিয়েছে বিমানবন্দরের লোকজন। বান্দরবানে ডেসটিনি ট্রি-প্লান্টেশনের গাছগুলো যে যার ইচ্ছামতো কেটে নিচ্ছে, বিক্রি করছে।’

মিজানুর রহমান বলেন, ডেসটিনি গ্রুপ যখন আনন্দ-ছন্দ সিনেমা হল পরিচালনা করত, তখন প্রতি মাসে মুনাফা হতো আট-দশ লাখ টাকা। ২০১৩ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে পুলিশ দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মাসে তিন লাখ টাকা মুনাফা দেখিয়েছে। তারপর কমতে কমতে একপর্যায়ে তা ৫০ হাজার টাকায় নেমেছে। অভিযোগ ওঠার পর এখন আবার বাড়িয়ে দেড় লাখ টাকার মতো মুনাফা দেখাচ্ছে পুলিশ। ডেসটিনির সম্পদ ব্যবহার ও ভোগ করা সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘পুলিশ ডেসটিনির সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। সে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ডেসটিনির ভবনে পুলিশ থাকলে তাতে সমস্যার কিছু নেই। আর আনন্দ-ছন্দ সিনেমা হলের আয়-রোজগারের হেরফের হলে তা ব্যবসায়িক ব্যাপার। পুলিশ ডেসটিনির সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করছে, ভোগ করছে না।’

কক্সবাজারে সাগরপারের সি উন পয়েন্টে ৯ তলাবিশিষ্ট চারতারা হোটেল ‘ডেসটিনি ক্রাউন প্যাসিফিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে পাঁচ বছর আগে থেকে। এরই মধ্যে কয়েক দফায় একটি গোষ্ঠী হোটেল ভবনটি দখলের চেষ্টা করেছে। নির্মাণসামগ্রী বিক্রি করে দিয়েছে। ভবনটিতে অস্থায়ীভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও বিল বকেয়ার কারণে তা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। কয়েক কোটি টাকার হোটেলটি যেন ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। তারেক রানা নামে কক্সবাজারে ডেসটিনির একজন পরিবেশক হোটেলটির খোঁজখবর নেন।

তারেক রানা বলেন, ‘ডেসটিনির সঙ্গে আমার সম্পর্কের কারণেই হোটেল ভবনটি মাঝে-মধ্যে দেখতে যাই। কম্পানির কোনো দায়িত্বে না থাকলেও প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের মতো মনে করি বলেই দেখাশোনা করি।’ হোটেল ভবনটির পাহারাদার হিসেবে কর্মরত আছেন মোহাম্মদ হোসেন ও আবু আলম। দুজনের মাসিক বেতন ছিল আট হাজার টাকা করে। কিন্তু তিন বছর ধরে তাও বন্ধ। তবু নির্মাণাধীন হোটেলটি পাহারা দিচ্ছেন তাঁরা।

আবু আলম বলেন, ‘ভবনের দুটি রুম মাসিক তিন হাজার টাকায় ভাড়া দিয়েছি। ওই টাকায় কোনোরকমে বাজার ও রান্না করে দুজনে খেয়ে বেঁচে আছি।’ এদিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সাধন কুমার মহন্ত জানান, ‘ডেসটিনির কার্গো বিমানটির ভেতরে কী আছে না আছে আমার জানা নেই। বিমানটির কাছে আমাদেরও অনেক পাওনা আছে। তবে আদালতে মামলা থাকায় আমরা আপাতত কিছুই করতে পারছি না।’

কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বুড়িচং উপজেলার দয়ারামপুর এলাকায় ডেসটিনির বন্দিশাহী কোল্ড স্টোরেজের ‘বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট’ অবস্থা। কোটি টাকার এ সম্পদটি অযত্নে নষ্ট হচ্ছে, চুরি হয়ে গেছে বহু মূল্যবান জিনিসপত্র। কোল্ড স্টোরেজটির প্রধান ফটক সিলগালা করা। কাঁটাতারের বেড়া চুরি হয়ে গেছে, ভেতরে গরু-ছাগল চড়াচ্ছে মানুষ। বাইরে মূল্যবান জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। পেছনের অংশের কয়েকটি মেশিন ও পানির পাম্প চুরি হয়ে গেছে। পুকুরের মাছও ধরে নিয়ে গেছে লোকজন। বুড়িচং থানার ওসি (তদন্ত) নেয়ামুল শাফী খান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কোল্ড স্টোরেজটিতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের লোকজনকে তা দেখে রাখতে বলা হয়েছে।

ডেসটিনি গ্রুপের বড় বিনিয়োগ ট্রি প্লান্টেশনে। কম্পানিটির আওতায় গ্রাহকদের কাছ থেকে ডেসটিনি গ্রুপ নিয়েছে ২৩৩৫ কোটি টাকা। বিনিয়োগের অর্থে ৮৩৫ একর জমিতে গাছ লাগানোর তথ্য জানিয়ে ডেসটিনির কম্পানি সেক্রেটারি জানান, ৮১ লাখ গাছ লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া কম্পানিটির নামে ঢাকা শহরে ১৪ হাজার ৪৯১ বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। ডেসটিনি ট্রি-প্লান্টেশনের বড় অংশই হয়েছে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। এর মধ্যে ইয়াংছা এলাকার কয়েকটি বাগান ছাড়া সবই এখন বৃক্ষশূন্য। ৯টি বাগানের ৫৫০ একর জমি সম্পূর্ণ বেদখল হয়ে গেছে। ডেসটিনির প্রতিনিধি আবুল কাশেম জানান, ডেসটিনির কয়েকজন পরিচালক ও কর্মচারী, এলাকার প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা গাছ কেটে নেওয়া ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

ডেসটিনির ইয়াংছা এলাকার বাগান পাহারা দেন খোদা বক্স। মাসিক পাঁচ হাজার টাকা বেতন তাঁর। তবু পাচ্ছেন না তিন বছর ধরে। বেতনহীন অবস্থায়ই তিনি পাহারা দিচ্ছেন ৩০০ একর জমিতে লাগানো ৩০ লাখ গাছ। খোদা বক্স বলেন, ‘বাগানের গাছ রক্ষা করতে গিয়ে আমি বিভিন্ন সময় নিজের গরু-ছাগল, আদা-হলুদ বিক্রি করে তিন লাখ টাকা খরচ করেছি। আশা করছি, একদিন রফিকুল আমিন সাহেব জেল থেকে বের হবেন। তখন আমার বেতনের সাড়ে চার লাখ টাকাসহ অন্য সব পাওনা বুঝে পাব।’

বিডিটাইমস৩৬৫.কম/

সূত্র: কালের কণ্ঠ

উপরে