আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৪:৩৪
অদম্য মাহফুজার সংগ্রামী জীবন

পদক বিক্রির টাকায় চিকিৎসা হয়েছিল বাবার!

অনলাইন ডেস্ক
পদক বিক্রির টাকায় চিকিৎসা হয়েছিল বাবার!

 

সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসের সাঁতার ইভেন্টে দুটি স্বর্ণপদক জয় করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার মেয়ে মাহফুজা আক্তার শিলা। মাহফুজার এ কৃতিত্বে আনন্দের জোয়ার বইছে অভয়নগর উপজেলার পাঁচকবর গ্রামে। মেয়ের সাফল্যে খুশিতে আত্মহারা বাবা মা ও প্রতিবেশিরা। 

তবে দু-দুটি স্বর্ণ পদক জিতে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনা মাহফুজাদের সংসার চলে অনেকটা অভাব অনটনের মধ্যে। তার বাবা আলী আহম্মেদ গাজী ঋণ নিয়ে গাভী পালন করেন। সেই গাভীর দুধ বিক্রি করেন হাটে-বাজারে। তা দিয়েই কোনো মতে চলে তাদের সংসার।

দেশের জন্য বারবার সুনাম বয়ে আনলেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি মাহফুজাদের। সাঁতার প্রতিযোগিতায় এ পর্যন্ত চারটি স্বর্ণ পদক পেয়েছেন মাহফুজা। যার মধ্যে দুটি স্বর্ণ পদক বিক্রি করে অসুস্থ বাবার চিকিৎসা এবং সংসারের খরচ যুগিয়েছেন তিনি।

মাহফুজার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মা করিমন নেছা গোয়াল ঘর পরিষ্কার করছেন। মাহফুজার বাবার কথা জানতে চাইলে বাজারে দুধ বিক্রি করতে গেছেন বলে মাহফুজার মা জানান।

ছোট বোনটা স্কুলে আছে। বাড়িতে ঢোকার রাস্তাটি ভাঙা। বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই।

আক্ষেপ করে করিমন নেছা বলেন, ‘আমার মেয়ে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনলেও আমাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। কেউ আমাদের দুঃখ কষ্টের খবর রাখে না। যখন সে স্বর্ণ পদক জয়লাভ করে তখন সাংবাদিকসহ জনপ্রতিনিধিরা ছবি তুলতে বাড়িতে আসে। তারপর আর কেউ খবর রাখে না।’

মাহফুজার বাবা আলী আহম্মেদ গাজী বলেন, ‘আমি পরের জমি বর্গা চাষ করি। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গাভী পালন করি। সেই গাভীর দুধ বিক্রি করে সংসার চালাই। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারি না। ছয় শতক জমির ওপর একটি টিনশেডের বাড়ি নির্মাণ করে পরিববার পরিজন নিয়ে বসবাস করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িতে নেই কোনো বিদ্যুৎ। প্রবেশের জন্য নেই কোনো রাস্তা। দুধ বিক্রি করে মাহফুজার খেলাধুলা ও লেখাপড়ার খরচ যুগিয়েছি কোনো রকম। ধার দেনা আছে অনেক। একটু বৃষ্টি হলেই বাড়িতে পানি জমে যায়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় থাকে না।’

মাহফুজার বড় ভাই হাসান আলী জানান, মাহফুজা এ পর্যন্ত সাঁতার প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জসহ ৫২টি পদক পেয়েছে। ক্রেস্টও পেয়েছে অনেক। আছে সনদপত্র। সে এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংবাদিকতার ওপর গ্রাজুয়েশন করেছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে অস্থায়ী ভিত্তিতে একটা চাকরি করে। তবে এ বছর মাহফুজার চাকুরির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।’

তবে শত অভাবে থাকা সত্বেও মাহফুজার মা-বাবা মেয়ের এমন কৃতিত্বে আত্মহারা। আনন্দের জোয়ার বইছে অভয়নগর উপজেলার পাঁচকবর গ্রামে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে