আপডেট : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২২:০৯

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, বিলুপ্ত হচ্ছে বাংলার বসন্তকাল

ধান বাদ, কৃষকরা ঝুকছেন আম চাষে। ফসলের বিকল্প জাত উদ্ভাবনের তাগিদ, সময় এসেছে কৃষকের স্বাস্থ্য সেবায় নজর দেওয়ার
বিডিটাইমস ডেস্ক
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব,
বিলুপ্ত হচ্ছে বাংলার বসন্তকাল

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগের তুলনায় দেশে এখন খরার প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় কৃষকরা মাঠে ধান চাষ না করে আমের ফলনের দিকে ঝুঁকছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেইঞ্জ অ্যাণ্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ এর এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। অন্যদিকে বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার ৬০ শতাংশ এলাকায় সেচ ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক ক্রুটি রয়েছে বলে ওই গবেষণায় ধরা পড়েছে। গবেষণাটিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আইনুন নিশাত।

৭ ফেব্রুয়ারি রবিবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে আয়োজিত ‘জলবায়ুসহিষ্ণু প্রযুক্তি: সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক সেমিনারে গবেষণাটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। মূল প্রবন্ধে আইনুন নিশাত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো ফসলের উপযুক্ত জাত উদ্ভাবন ও বাছাইয়ের দিকে। পাশাপাশি জলবায়ুসহিষ্ণু নতুন জাত কৃষকের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে এবং কৃষক যাতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান তাও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে খাল ও পুকুর খননের মাধ্যমে সেচের পানি প্রাপ্তি এবং সুষ্ঠু সেচ ব্যবস্থাপনার দিকেও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ উইং-এর মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার ফারুক। অন্যদের মধ্যে চ্যানেল আই-এর পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের স্ট্রাটেজি, কমিউনিকেশন অ্যান্ড এমপাওয়ার বিষয়ক ঊর্ধ্বতন পরিচালক আসিফ সালেহ। সূচনা বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির কর্মসূচি প্রধান ড. সিরাজুল ইসলাম।

শাইখ সিরাজ তার বক্তব্যে বলেন, কৃষকরা সার ছিটানোর সময় তাদের মুখ ঢেকে রাখে না। তাদের কাছে এ তথ্যটি পৌঁছাতে হবে। যারা বীজ বিক্রি করছেন, তারাই এ কাজটি করতে পারেন। তিনি বলেন, কৃষকদের পেশাগত ঝুঁকি বাড়ছে। কৃষকের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়ে নজর দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের কৃষিখাতকে সম্ভাব্য যেসব সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে তা ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, বাংলাদেশে এখন আর আগের মতো ষড়ঋতুর বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায় না। শীতের পর গ্রীষ্ম আসলেও বসন্ত যেন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। হেমন্তের উপস্থিতিও সেভাবে বোঝা যায় না। আবার বর্ষা আসছে নির্ধারিত সময়ের অনেকটা পরে। জলবায়ুর ক্রম পরিবর্তনেরর সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমন উৎপাদনের ওপর, যার ফলে কৃষকরাই সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো ধানের জাত উদ্ভাবনের দিকে মনেযোগ না দিলে কৃষকরা ধান উৎপাদন থেকে সরে এসে সবজির দিকে মাত্রাতিরিক্ত ঝুঁকে পড়বেন। এতে ধান উৎপাদন কমে গিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

উপরে