আপডেট : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৪:২০

জনসংখ্যার ৯৫ ভাগ মুসলিম হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি কর্মী নেবে কাতার

বিডিটাইমস ডেস্ক
জনসংখ্যার ৯৫ ভাগ মুসলিম হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি কর্মী নেবে কাতার

‘উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশে থেকে নামাজি কর্মী চায় কাতার’ তিন দিনের কাতার সফর শেষে রবিবার দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, কাতার সফরকালে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন নাসের বিন খলিফা আল থানি এবং প্রশাসনিক উন্নয়ন, শ্রম ও সমাজ কল্যাণমন্ত্রী ড. ঈসা সাদ আলজাফালি আল নুয়াইমির সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগে কাতার সরকার জানত বাংলাদেশ ৭৫ শতাংশ মুসলিমের দেশ। কিন্তু, আমরা তাদের বলেছি, বাংলাদেশের ৯৫ ভাগই মুসলিম। তখন তারা বলেছেন, তোমরা আমাদের ভাই। তোমাদের দেশ থেকে অধিক সংখ্যক দক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী নিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে নামাজির প্রশ্নটা আসল কেন? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘তারাই আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিল তোমাদের দেশের লোক নামাজি কিনা। আমরা তাদের বলেছি, হ্যাঁ অধিকাংশ মানুষই নামাজি।’

জঙ্গী দমনে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স বলেও কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং প্রশাসনিক উন্নয়ন, শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।

নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, ‘২০১৫ সালে এক লাখ ২৩ হাজার ৯৬৫ জন কর্মী গেছে কাতারে। ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। এ জন্য দেশটিতে নির্মাণকর্মী, সেবা খাত ও বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এমনও হতে পারে চলতি বছরে দুই লক্ষাধিক কর্মী যেতে পারে কাতারে। তবে, সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আগামী দুই বছরে তিন লক্ষাধিক কর্মী যাবে দেশটিতে। এসব কর্মী নিতে আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় উভয় দেশের যৌথ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’

দক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী নিতেই দেশটির বেশি আগ্রহ জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘কাতারের প্রশাসনিক উন্নয়ন, শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আমাদের বলেছেন তারা বাংলাদেশ থেকে বিক্রয়কর্মী, নার্স, ডাক্তার, প্রকৌশলী ও অফিস কর্মচারীসহ সকল খাতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী চায়।’

বেতন-ভাতা এবং অভিবাসন ব্যয় কত হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা উভয় দেশের যৌথ কমিটি বসেই ঠিক করবে। দেশটিতে বর্তমানে ন্যূনতম বেতন ৭শ’ রিয়াল, তা বৃদ্ধি করে ১২শ’ রিয়াল করারও প্রস্তাব করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার ইফতেখার হায়দার, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক বেগম শামসুন নাহার, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্দ জুলহাস, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আব্দুর রউফসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপরে