আপডেট : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৭:৩১

অধিকাংশ পথশিশুই মাদকাসক্ত

অনলাইন ডেস্ক
অধিকাংশ পথশিশুই মাদকাসক্ত

সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের মধ্যে অধিকাংশই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। শিশুদের মাদকাসক্তি নিরসনে যে পারিপার্শ্বিক অবস্থা থাকা প্রয়োজন, তা বাংলাদেশে অপ্রতুল। মাদকাসক্ত শিশুদের চিকিৎসার পরে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি।

শনিবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন মিলনায়তনে ‘শিশু মাদকাসক্তি নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। এই সেমিনারের আয়োজন করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম বলেন, দেশে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের অপ্রতুলতা আছে। শুধু সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাই মাদকাসক্ত, তাই নয়। ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানেরাও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। পরিবারের অবহেলা শিশুকে মাদকাসক্ত করে তোলে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কে এন এইচের দেশীয় সমন্বয়ক মারুফ মমতাজ। এতে বলা হয়, দেশে মাদকাসক্ত পথশিশুর সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ। শিশুদের মাদকাসক্ত নিরসনের পর্যাপ্ত নিরাময় কেন্দ্র নেই। চিকিৎসা পরবর্তী পুনর্বাসনের সুযোগ নেই। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব আছে।
আলোচনা পর্বে কেন্দ্রীয় নিরাময় কেন্দ্রের প্রধান পরামর্শক সৈয়দ ইমামুল হোসেন বলেন, শিশুদের মস্তিষ্ক একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পরিণত হয়। অল্প বয়সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ হয় না।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মো. নুরুল কবীর বলেন, মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনে সরকারি ব্যবস্থা অপ্রতুল বলা যাবে না, বরং যে সুবিধা আছে সেগুলো ব্যবহার হচ্ছে না। কোনো শিশু নিগৃহীত, নির্যাতিত, মাদকাসক্ত হলে টোল মুক্ত ‘১০৯৮’ নম্বরে ফোন দিয়ে খোঁজ জানানো যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের আশ্রয় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে এক হাজার সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
মাদকাসক্তদের নিয়ে একত্রে কাজ করতে সেমিনারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

সেমিনারে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি কাজী রফিকুল আলম, আমিকের পরামর্শক জান্নাতুল ফেরদৌস, স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের যুগ্ম-সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে