আপডেট : ৩০ জানুয়ারী, ২০১৬ ২১:২৯

সিএনজি অটোরিকশা মিটারে যাচ্ছে না? অভিযোগ করুন কর্তৃপক্ষকে (ভিডিও)

বিডিটাইমস ডেস্ক
সিএনজি অটোরিকশা মিটারে যাচ্ছে না? অভিযোগ করুন কর্তৃপক্ষকে  (ভিডিও)

রাজধানী ঢাকার সিএনজি অটোরিকশা চালকদের দৌরাত্ম বেড়েই চলছে। ঢাকা শহরের মধ্যে যাত্রীর চাহিদা অনুযায়ী গন্তব্যে ও মিটারে যাওয়ার নিয়ম থাকলেও, নিয়মের তোয়াক্কা করেননা সিএনজি অটোরিকশা চালকরা। হরহামেশাই তারা মিটারের বাড়তি ভাড়া দাবি করেন বা গন্তব্যে যেতে অস্বীকৃতি জানান। 

সম্প্রতি এ ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে করণীয় জানিয়েছে অটোরিকশাগুলোর নিবন্ধনকারী সংস্থা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ও ট্রাফিক পুলিশ। আইন ভঙ্গকারী সিএনজি অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

বিআরটিএ সুত্রে জানায়, অটোরিকশা নীতিমালা-২০০৭ অনুযায়ী নির্ধারিত স্ট্যান্ডে অবস্থান করার সময় কোনও সিএনজি বা পেট্রোলচালিত ৪ স্ট্রোক থ্রি হুইলারের চালক অল্প দূরত্বসহ সরকারের ঠিক করে দেওয়া এলাকার মধ্যে যেকোনও দূরত্বে যেতে বাধ্য।

গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে সিএনজি ভাড়া প্রতি কি.মি. ৭ দশমিক ৬৪ থেকে বাড়িয়ে ১২.০০ টাকা করা হয়েছে এবং প্রথম দুই কি.মি. ২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা করা হয়েছে সেই সঙ্গে প্রত্যেক সিএনজি চালককের জন্য মিটারে যাওয়ার আইন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কোনও চালক যদি মিটারে যেতে না চান অথবা মিটারের চাইতে বাড়তি ভাড়া আদায় করতে চান তবে তা হবে সিএনজি/পেট্রোলচালিত ৪ স্ট্রোক থ্রি হুইলার সার্ভিস নীতিমালা, ২০০৭ এর “ঙ” (৩) অনুচ্ছেদে বর্ণিত শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই সিএনজি অটোরিকশাটির রেজিস্ট্রেশন স্থগিতসহ নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।

আইন লঙ্ঘনকারী সিএনজি অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ট্রাফিক পুলিশ এবং বিআরটিতে আপনার অভিযোগ জানাতে পারেন। তারা আপনার অভিযোগ আমলে নিয়ে দোষী চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। 


অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবে ট্রাফিক পুলিশ
সিএনজি অটোরিকশার চালকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবে ট্রাফিক পুলিশ। আপনার অভিযোগ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে সার্জেন্ট। এক্ষেত্রে ট্রাফিক সার্জেন্ট অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে সংশ্লিষ্ট অটোরিকশার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন বা প্রয়োজনে রেকার লাগিয়ে ডাম্পিং ইয়ার্ডে নিয়ে যেতে পারেন বা আটক করতে পারেন। এক্ষেত্রে অটোরিকশার জরিমানা হতে পারে ৭০০ থেকে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া রেকারের বিল উঠতে পারে আরও ১২০০ টাকা।

এছাড়াও বিআরটিএতে অভিযোগ করা যায়, এক্ষেত্রে বিআরটিএ অফিসে যাওয়ার কিছু আনুষ্ঠানিকতা থাকে। তবে এতে সিএনজির রুট পারমিট বাতিলসহ শাস্তির মাত্রা বেশি হতে পারে।

বিআরটিএতে যেভাবে অভিযোগ করবেন-
অটোরিকশার নম্বর লিখে ফেলুন। সম্ভব হলে নাম্বার প্লেটসহ বাহনটির একটি ছবি তুলে রাখুন।  বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির হটলাইন নম্বরে অভিযোগ করুন। নম্বরগুলো হলো-৯১১৩১৩৩, ৫৮১৫৪৭০১, ৯১১৫৫৪৪, ৯০০৭৫৭৪ (অফিস চলাকালে)। এক্ষেত্রে আপনার নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বার ও ঘটনার বিবরণ জানিয়ে অভিযোগ গ্রহণকারীকে সহযোগিতা করতে হবে। এছাড়া, অটোরিকশাটির নম্বরটি জানাতে ভুলবেন না।

আপনার অভিযোগের এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিআরটিএ চিঠি মারফত আপনাকে একটি নির্দিষ্ট দিন-ক্ষণে তাদের অফিসে (বিআরটিএ, এলেনবাড়ি, তেজগাঁও, পুরাতন বিমানবন্দর সড়ক,ঢাকা-১২১৫) এসে সাক্ষাতের জন্য অনুরোধ জানানো হবে। একই সময় অভিযুক্ত চালক ও অটোরিকশাটির মালিককেও উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তৃতীয় ধাপটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিআরটিএ’র  কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগ করলেও প্রমাণের জন্য অভিযোগকারীকে যখন অফিসে আসতে অনুরোধ করা হয় তখন তাদের কোনও সাড়া পাওয়া না যাওয়ায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা খালাস পেয়ে যান।

তাই সেক্ষেত্রে আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে।অনেক সিএনজি চালক আবার বাড়তি ভাড়ার বিষয়টি সার্জেন্টের কাছে গোপন রাখার অনুরোধ করেন। যদিও সংশ্লিষ্টদের মত, চালকের এ অনুরোধে কর্ণপাত করা উচিত নয়, বরং একটু সাহস করে পুলিশের কাছে অভিযোগটি করে দেওয়া উচিত।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে