আপডেট : ২৭ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৪:৫৪

সরকার নাস্তিক্যবাদের দোসর, মন্ত্রীরা ইসলামের শত্রু: আল্লামা শফি

বিডিটাইমস ডেস্ক
সরকার নাস্তিক্যবাদের দোসর, মন্ত্রীরা ইসলামের শত্রু: আল্লামা শফি

খাদ্য মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানকে ইসলামের শত্রু আখ্যা দিয়ে তাদের অপসারণের দাবি করেছে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী। একই সাথে সরকার নাস্তিক্যবাদের দোসর হিসেবে কাজ করছে বলেও অভিযোগ তার।

বুধবার (২৭জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হেফাজতের আমীর বলেন, এই দুই মন্ত্রী কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ও ছাত্রদের সম্পর্কে চরম বিদ্বেষপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। আমরা এই অবমাননার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তাদেরকে মন্ত্রীসভা থেকে অপসারণের দাবী জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে বলা হয়, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম গত ২১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে আয়োজিত এক সম্মেলনে এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান গত ২২ জানুয়ারি রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ও ছাত্রদেরকে লক্ষ্য করে চরম উস্কানীমূলক অযৌক্তিক বক্তব্য রেখেছেন।

তাদের বক্তব্যে জাতির সামনে স্পষ্ট হয়ে গেছে, তারা এ দেশ থেকে মাদ্রাসা শিক্ষা তথা ইসলামী শিক্ষা ধ্বংস করে সমাজ ও দেশ থেকে ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় চেতনাবোধকে মুছে দিতে চায়।

দীর্ঘ দিন থেকে তারা দুই জনসহ সরকারের আরো কয়েকজন মন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে ক্বওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বিরোধী বক্তব্য দিয়ে উলামা-মাশায়েখ, মাদ্রাসা ছাত্র ও তৌহিদী জনতার অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে যাচ্ছেন।

হেফাজত আমীর বলেন, দীর্ঘ দিন ধরেই উলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতা অভিযোগ জানিয়ে আসছে যে, সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাসের ধারা বিলোপ, রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি এবং ধর্মহীন শিক্ষানীতি প্রনয়ণের মাধ্যমে মূলত, সরকার এদেশে নাস্তিক্যবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী, খাদ্য মন্ত্রী ও পরিবেশ মন্ত্রীর স্ত্রীসহ আরো কয়েক মন্ত্রীর ধারাবাহিক ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আদর্শ বিরোধী বক্তব্যের বিরুদ্ধে সরকারের কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় এমন আশংকা আরো জোরালো হয়েছে।

হেফাজত আমীর মন্ত্রীসভা থেকে অভিযুক্ত দুই মন্ত্রীকে অপসারণ করে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় হাজির করানোর জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে কঠোর আইন পাশ করে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের লাগাম টেনে ধরুন।

তিনি বলেন, জনগণের কাছে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে, তারা ইসলামী চেতনাবোধ মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত নাস্তিক্যবাদিদের সহযোগী হয়ে কাজ করছে না।

বিবৃতিতে হেফাজত আমীর দেশের আলেম সমাজ, মসজিদের ইমাম-খতীবসহ সকল ইসলামী নেতৃবৃন্দ ও মুসলমানদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আল্লাহ-রাসূলের অবমাননা, মাদ্রাসা শিক্ষা, উলামা-মাশায়েখ এবং ইসলামী আদর্শ ও চেতনা বিরোধী বক্তব্য, বিবৃতিদাতাসহ সকল নাস্তিক্যবাদি, মুরতাদ ও তাদের সহযোগীদেরকে সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ বয়কট শুরু করুন।

তাদের পারিবারিক কোন অনুষ্ঠানে কেউ শরীক হবেন না। কোন আলেম তাদের বিয়ে পড়াবেন না। তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কে কেউ আবদ্ধ হবেন না। কোন আর্থিক লেন-দেন, ব্যবসায়িক সম্পর্ক করবেন না। তারা মারা গেলে তাদের জানাযায় কোন আলেম ও সাধারণ মুসলমান শরীক হবেন না। এটা ঈমানের ন্যূনতম চাহিদা।

ধর্ম অবমাননা বিরোধী কঠোর আইন পাশসহ নাস্তিক্যবাদ ও ইসলাম বিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলতে হেফাজতের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম, মসজিদের খতীব ও ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান হেফাজত আমীর।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে