আপডেট : ২৭ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৪:৩৩

পুলিশের ওপর আস্থা নেই জনগনের: দাবি মানবাধিকার সংস্থার

বিডিটাইমস ডেস্ক
পুলিশের ওপর আস্থা নেই জনগনের: দাবি মানবাধিকার সংস্থার

সম্প্রতি ঢাকায় পুলিশের হাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিটি কর্পোরেশনের দুই কর্মকর্তা নির্যাতিত হবার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে পুলিশ। একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে এজন্য সাসপেন্ডও করা হয়েছে। পুলিশের এমন বিতর্কিত ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনা এখন নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় তাদের ঘটনা মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচিত হয়েছে, দায়ী পুলিশ সদস্যকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। তবে সাধারণ জনগনের সেই সৌভাগ্য হয় না। পুলিশী নির্যাতনের ঘটনা তাদের নিরবে সহ্য করা ছাড়া উপায় থাকেনা। 

বছর দুয়েক আগে হোটেলে নাস্তা খেতে যাবার সময় সাদা পোশাকের পুলিশ বেসরকারি বিশ্যবিদ্যালয়ের ছাত্র ফাহাদকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে থানার পেছনে একটি জায়গায় নিয়ে তাকে বলে, 'পাঁচ লাখ টাকা দে, না হলে গুলি করে মেরে ফেলবো।'

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে হত্যার ঘটনা ঘটেছিল ২০০৪ সালে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পরিবর্তে পুলিশ উল্টো ঐ শিক্ষকের পরিবারের সদস্যদেরকেই দীর্ঘসময় হয়রানি করেছে বলে অভিযোগ।

পুলিশ নিহত শিক্ষকের ছেলে রাশেদ জামান শোভনকেই তার বাবার হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালিয়েছিল এবং সেই আতংক এখনও তাকে তাড়া করে।

পুলিশের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ এসেছে বহু লোকের কাছ থেকে। বারবার ঘটছে পুলিশের হাতে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা।

পুলিশের এসব হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে ২৬ জানুয়ারি ‘পুলিশ সপ্তাহে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশকে মানুষের সেবক হিসাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

কিন্তু মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ এখন আর পুলিশকে বিশ্বাসে নিতে পারছে না, পুলিশের প্রতি সাধারণ জনগনের আস্থা তলানিতে ঠেকেছে।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সুলতানা কামাল বলেছেন, পুলিশের হাতে মানুষের হয়রানির ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট বাড়ছে।

তিনি বলেছেন, “সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছে যেতে অনীহা দেখায়। কারণ তারা মনে করে, পুলিশের কাছে গিয়ে আরও সমস্যায় পড়তে হতে পারে। সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের এমনি একটা ভাবমূর্তি দাঁড়িয়েছে।"

তিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন, একজন নারী একটা সমস্যা নিয়ে এলে তিনি তাকে পুলিশের কাছে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু ঐ নারী তাকে বলেছিলেন, তিনি কোনভাবেই পুলিশের কাছে যাবেন না।

সুলতানা কামাল আরও বলেছেন, ৫৪ ধারায় যে কোন ব্যক্তিকে আটক করাসহ পুলিশের হাতে ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। এর অপপ্রয়োগ বন্ধ হচ্ছে না।

পুলিশের হয়রানি নিয়ে ঢাকার রাস্তায় বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে কথা বলতে গেলে তাদের অনেকেই কোন কথা বলতে রাজি হননি। তবে অনেকে বলেছেন, কোন সমস্যায় পড়লে তারা পুলিশকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান এটা স্বীকার করেছেন যে, তাদের বাহিনীর কিছু সদস্য অনেকসময় বাড়াবাড়ি করে। কিন্তু ঢালাও ভাবে সব পুলিশ খারাপ এমন অভিযোগ তিনি মানতে রাজি নন।

তিনি বলেছেন, “অনেক ক্ষেত্রে আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে না পারলে তখন মানবাধিকার লংঘন হতে পারে। এ ধরণের বিষয়কে এখন গুরুত্ব দিয়ে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে পুলিশ।”

 

 

উপরে