আপডেট : ২৫ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৯:৫৬

১৬ ইউনিয়ন যুক্ত হয়ে বড় হচ্ছে ঢাকার ২ সি. করপোরেশন

গণবিজ্ঞপ্তি জারি ও গণশুনানি সম্পন্ন
বিডিটাইমস ডেস্ক
১৬ ইউনিয়ন যুক্ত হয়ে বড় হচ্ছে ঢাকার ২ সি. করপোরেশন

১৬টি ইউনিয়নকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ফলে ওই সব এলাকায় অবকাঠামো ও নাগরিক সেবা বাড়বে। আর এতে মহানগরের আয়তন বাড়বে প্রায় ২৯০ বর্গকিলোমিটার। নতুন ৩১টি ওয়ার্ড যুক্ত হবে।

ইউনিয়নগুলোকে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করতে ঢাকার জেলা প্রশাসক গত ২৪ নভেম্বর গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন। এরপর একটি ইউনিয়ন থেকে ২১টি আপত্তি ওঠে, পরে গণশুনানিতে গ্রহণযোগ্য মনে না হওয়ায় সেগুলো খারিজ হয়ে যায়।

অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি অনুমোদনের জন্য সিটি করপোরেশনের সীমানা বাড়ানো-সংক্রান্ত সচিব কমিটির আগামী বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদনের পর মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে ইউনিয়নগুলোকে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করে আদেশ জারি করা হবে।

সচিব কমিটির জন্য তৈরি করা সারসংক্ষেপ অনুযায়ী বেরাইদ, বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকুল, হরিরামপুর, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও ডুমনী ইউনিয়নের সব মৌজা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ছাড়া চাকুলী, চকদ্বিগুণ ও শৈলপুর মৌজার ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অধিকৃত ভূমি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এরই মধ্যে অন্তর্ভুক্ত এলাকা ছাড়া মৌজার বাকি অংশ ডিএনসিসিতে যুক্ত হবে।

অন্যদিকে তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলের শ্যামপুর, মাতুয়াইল, ডেমরা, দনিয়া, সাবুলিয়া, দক্ষিণগাঁও, নাসিরাবাদ ও মাণ্ডা ইউনিয়নের সব মৌজা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ১৬টি ইউনিয়নকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সিটি করপোরেশনের সীমানা বাড়ানো-সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে পাঠানো হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঢাকা মেগাসিটিতে রূপান্তরিত হবে। অন্তর্ভুক্ত এলাকায় গাযোগব্যবস্থাসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা বাড়াতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ৪ ধারায় সিটি করপোরেশনকে বিস্তৃত করার বিধান রয়েছে। এ জন্য স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সীমানা পরিবর্তন (সম্প্রসারণ ও সংকোচন) বিধিমালা ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। আইন ও বিধি অনুযায়ী সংলগ্ন ১৬টি ইউনিয়নকে দুই সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি এবং শুনানি অনুষ্ঠান করে মতামতসহ প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক।

যুক্ত হচ্ছে ৩১টি নতুন ওয়ার্ড

ইউনিয়নগুলোর অন্তর্ভুক্তির পর সংযোজিত মোট এলাকাকে ৩১টি ওয়ার্ডে বিন্যস্ত করা হবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৫টি ওয়ার্ড যুক্ত হবে। ফলে ঢাকা মহানগরীতে মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা দাঁড়াবে ১২১টিতে। তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেল বিলুপ্ত হবে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ এবং বালু নদের মধ্যবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতায় আসবে।

বর্তমানে দুই সিটি করপোরেশনে বিভক্ত হয়ে ঢাকা মহানগরীর আয়তন প্রায় ৩৬০ বর্গকিলোমিটার। ১৬টি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত হলে আয়তন প্রায় ২৯০ বর্গকিলোমিটার বাড়বে। অর্থাৎ মহানগরীর আয়তন প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে।

ইউনিয়ন ভেঙে ওয়ার্ড করা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাসিরাবাদের বাসিন্দা হযরত আলী মোল্লা বলেন, ‘আমরা শুধু বর্ষাকালেই নই, বছরের সিংহভাগ সময় নৌকায় চলাফেরা করি। কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গেলে জুতা হাতে নিয়ে পথ চলতে হয়। অথচ আমাদের শহরের মানুষ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে শুধু ট্যাক্স বাড়বে, জীবনযাত্রার উন্নতি হবে না।’ দক্ষিণগাঁওয়ের বাসিন্দা আবদুল কাদির খান বলেন, ‘আমরা ব্যাঙের মতো পানিতে বাস করি। অথচ আমাদের এলাকা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড হচ্ছে। এটা হাস্যকর। এই এলাকা শহর হতে আরো ২০ বছর লাগবে। মূলত করের বোঝা চাপানোর জন্যই এটা করা হচ্ছে।’

হঠাৎ করে নগরীর পরিধি বেড়ে যাওয়ায় সিটি করপোরেশনকে কিছুটা বিপাকে পড়তে হবে বলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এতে লোকবল সংকট থেকে শুরু করে বাজেট সংকটে পড়তে হবে তাদের। ঠিকমতো উন্নয়নকাজ একং অন্যান্য সেবা দিতে না পারলে জনগণের  মধ্যে সিটি করপোরেশন সম্পর্কে বাজে ধারণা জন্ম নিবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে